কবিতা মগ্ন প্রাণ।অবসরপ্রাপ্ত বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক । দশাধিক কাব্যগ্রন্থের স্রষ্টা।"কবিকর্ণিকা" -কবিতাপত্রের সম্পাদক। কবিতা

কালো

‌অ্যাই,অ্যাই, এখনেই দাঁড়া, নামব, দাঁড়া-দাঁড়া! সাথে সাথেই ব্রেক কষল সন্দীপ। সুন্দরী স্মার্ট  তরুণীটির দু’ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে এক ঝটকায় বেরিয়ে এল কথা গুলো,  যেন মুড়ি পটকা এক্কেবার সন্দীপের বুকের কাছে ফাটল!
‌সন্দীপ টোটো থামাতেই সুন্দরী ঝপ করে নেমে ফুটফুটে মেয়েটিকে নামিয়ে নাকের ডগায় একটা ২০ টাকার নোট দেখিয়ে বলল,নে, দশ টাকা ফেরৎ দে! এবার সন্দীপ থাকতে না পেরে সমস্ত রাগ সংযত করে খুব মৃদু স্বরে বলল, ম্যাম একটা কথা বলি? সুন্দরী ঘাড় ঘুরিয়ে বলল,বল্ কি বলবি বল্,  তাড়াতাড়ি!দেরি হয়ে যাচ্ছে! সন্দীপ এবার একটু কঠিন করেই বলল,ম্যাম এতো ক্ষণ আপনি আপনার মেয়েকে বলছিলেন না, সবচেয়ে খারাপের ইংরেজী, ভেরি ব্যাড্?  আর আপনার মেয়ে কোন মতেই সে কথা মানতে চাইছিল না,বলছিল না,না, এটা নয় আরও অন্য কিছু ওয়ার্ড আছে, তুমি জান না। আর একথা শুনেই মেয়েকে ধমক দিয়ে বলেছিলেন, চুপ কর! আমার চেয়ে তুই বেশি জানিস! সুন্দরী রাগত বলল,হ্যাঁ, তাতে হয়েছেটা কি, আর তোরই বা এতে নাক গলাবার কি আছ! সন্দীপ এবার থাকতে না পেরে, গলা ঝেড়ে প্রতিটি শব্দ বসিয়ে বসিয়ে জোরের সঙ্গেই বলল, হ্যাঁ নাক গলাতেই পারি, আপনি  যদি কিছু না জেনে একজন টোটোওয়ালাকে তুই বলে  সম্বোধন করতে পারেন,  আমি একশো বার নাক গলিয়ে বলতে পারি আপনার বিহ্যাভ ওয়ার্স্ট!  – মানে সবচেয়ে খারাপ। সু্ন্দরীর হাতে ধরা বাচ্চা মেয়েটি এবার লাফিয়ে বলে উঠল ম্যম, মনে পড়েছে! মনে পড়েছে! “ওয়ার্স্ট “,  সবচেয়েখারাপ,দিদিমণি তাই-ই বলেছিলেন।
‌সন্দীপ দেখল, সুন্দরীর মুখটা কেমন কালো হয়ে গেল!এক ঝটকায় মেয়েকে  টেনে নিয়ে, গলিতে ঢুকে পড়ল।