জন্মের শহরঃ সিলেট। বেড়ে ওঠাঃ সিলেট, রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম। কিছুদিন আন্ডারগ্রাউন্ড সাহিত্য পত্রিকায় লেখালেখি চলছিল। গদ্য পদ্য দুটোতেই দৌড়-ঝাঁপ। লালমনিরহাটে বছর পাঁচেক ম্যাজিস্ট্রেসি করেছেন। ত্রাণ মন্ত্রণালয়েও কিছুদিন। কানাডার মন্টিয়ল শহরে আছেন দীর্ঘদিন। লেখালেখির বাইরে আবৃত্তি, অভিনয়, টেলি-জার্নাল, বড়দের-ছোটদের নিয়ে নানা রখম সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সমান আগ্রহ। একসময় গ্রুপ-থিয়েটার করতেন। একটা শর্ট ফিল্মে অভিনয় করেছেন। কাব্যগ্রন্থঃ তুমি পারো, ঐশ্বর্য (২০১০), রাষ্ট্রপতির মতো একা (২০১৪) গল্পগ্রন্থঃ চিরিয়াখানা বা ফেসবুক ও অন্যান্য গল্প (২০১৬), গল্পগুলো (২০১৯) প্রবচনগুচ্ছঃ মিরর (২০১৬)

৫০ ও ১০০ টাকার ভাংতি নাই

একটা বিস্কুট আচমকা ওর গায়ে লেপ্টে থাকা প্যাকেট থেকে টুকিইইই বলে নেমে পড়ল । ওর গায়ে গায়ে লেগে থাকা অন্য বিস্কুটটাকে বলল;
: শোন চল আমরা হাইড এন্ড সিক খেলি । আমি লুকাচ্ছি । আম্মুকে বলবি না ।
ঠিক ওরই মতো দেখতে যমজ বিস্কুটটা বড়বড় করে তাকিয়ে দেখছিল । সেও চাইছিল ওর মতো টুকি বলে লাফ দিয়ে প্যাকেট থেকে বেরিয়ে পড়ে । কিন্তু গায়ে এত ক্রিম লেগে আছে যে পাশের কিউট বিস্কুট থেকে সে একচুল নড়তে পারছে না । তবুও কাঁদো কাঁদো গলায় বলল;
: এই নাবিস্কো আমাকে নিয়ে যা ।
নেমে যাওয়া নাবিস্কোটা ওর কথার জবাব দিলো না । কথার জবাব না দেয়ার মানে হলো পাত্তা না দেয়া ( অনেকটা লাইক ক্লিক না করার মতো । পড়লাম,ভালো লাগল,তবুও লাইক ক্লিক করলাম না । কোরবানীর বড় গরুর পার্সোন্যালিটির মতো ) ।
বিস্কুটটা গুটুগুটু করে হেঁটে হেঁটে সামনে যাচ্ছে । ভয়ও লাগছে,অচেনা জায়গা । ঠান্ডাও লাগছে । এতদিন কি সুন্দর ভাই বোনদের সাথে লেপ্টে ছিল । ও গড়িয়ে হাঁটছে আবার থামছে । একটু এগুতেই দেখে একটা মোটু পিঁপড়া । চেহারাটা খানিক বিকট কিসিম । ওর দিকে পিলুপিলু করে আসছে । বিস্কুটটা থমকে থাকে । পিঁপড়াটা মহা আনন্দে এগিয়ে এসে বিস্কুটটার দিকে হাত বাড়িয়ে দেয় ।
: শুভ সন্ধ্যা । আমি পিপ । এখানেই কাছাকাছি থাকি । এসো পরিচিত হই ।
: আমি বিক্কু । অই যে দেখছো লাল রঙের ..ওটার ভিতরে থাকি । আমরা অনেক ভাইবোন ।
পিঁপড়াটা হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করতেই টের পেল মিষ্টি বটে এই বিক্কুটা । পেছনের পকেট থেকে সে তার স্যামসাঙ গ্যালাক্সিটা বের করে,কাকে যেন টেক্সট করে । বিস্কুটটা পিঁপড়াটার দ্রুত হাত চালানো দেখে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে । করছেটা কি পিপ ?
পিপ চোখের ঝিলিকটা লুকিয়ে বিক্কুকে বলল;
: আমার পরিবারের লোকজনকে খবর দিলাম এখানে আসার জন্য । ওরা তোমার সাথে পরিচিত হলে খুশী হবে ।
বিক্কুটার খানিক ভয় ভয় করতে লাগল । ইচ্ছে করছে জোরে ডাক দেয় : আম্মুউউউ ।
গলা দিয়ে স্বর বেরুল না ।
সারি সারি পিঁপড়া আসতে লাগল টেক্সট পেয়ে ।
আমি যাচ্ছিলাম পাশ দিয়ে,সন্ধ্যার চা খাবো । আজ সারাদিন বৃষ্টি নূপুর । সন্ধ্যায় একজনের সাথে পুটুপুটু করে কথা বলেছি বৃষ্টি মাথায় । আমার আর আমার সেলফোনটার চায়ের তেষ্টা । মাইক্রোওভেনে চা করবো । হঠাৎ তাকিয়ে দেখি কিউট একটা বিস্কুট ডাইনিং টেবিলের উপর । অবাক হলাম । বিকেলে কেনা বিস্কুটটার প্যাকেটটা তো এখনো খুলিনি । এটা এলো কোত্থেকে ?
বিস্কুটটা দেখে চায়ের লোভ আরো বেড়ে গেলো । ভাবলাম: আহ চায়ে ডুবিয়ে নরম বিস্কুট । জম্পেশ ..আহ ..
এক পা এগুতে শুনি,কে যেন অস্ফুট গলায় ডাকছে ।
: আব্বু ।
পেছনে তাকিয়ে দেখি,সর্বনাশ পিচ্চু বিস্কুটটা । দিলাম ধমক ।
: এই ব্যাটা কে তোর বাপ ?
বিক্কুটা ভয় পেয়ে চুপ করে আছে । কথা বলে না আর । এর মধ্যে অনেকগুলো পিঁপড়া বিস্কুটটাকে ঘিরে ফেলছে । প্রাণী জগতে সম্ভবত: পিঁপড়াই পারে তার চেয়ে ওজনে ৪০ গুন ভারী জিনিষ টেনে বা বহন করে নিয়ে যেতে ।
আমি টুপ করে বিস্কুটটাকে তুলে নিলাম টেবিল থেকে । আয়েশ করে চা বানালাম । এখন ফেসবুকে । সোফায় লম্বা করে পা বাড়িয়ে আরামে থৈথৈ আমি । বাইরে এখনো বৃষ্টির অঞ্জনা রঞ্জনা । কাপ থেকে মৃদু ধোঁয়া ওড়ছে । চা খেতে খেতে স্ট্যাটাস লিখব ।
আহা ..
কা তব কান্তা …