বার্ধক্যেও তরতাজা বিড়াল টম। বুড়ো হয়েও দুরন্ত ইঁদুর জেরি। অবাক হলেন! দুনিয়া কাঁপানো কার্টুন টম অ্যান্ড জেরি এবছরই আশিতে পা দিতে চলেছে।
টম অ্যান্ডি জেরি মানেই একটা সেন্টিমেন্ট, নস্টালজিয়া। ঘুমন্ত বিড়ালের গোঁফ টেনেই দৌড় দেয় ইঁদুরছানা। তাকে ধরতে হাতুড়ি নিয়ে পিছু ধাওয়া করে রাগী বিড়াল। সে কী দৌড়! আচমকাই হুড়মুড়িয়ে গর্তে সেঁধিয়ে যায় ইঁদুরছানা। তাকে জাপটে ধরতে লাফ দিয়েই কুপোকাৎ বিড়াল। তার ফ্যালফ্যালে চোখের সামনে দু’পাক নেচে ইঁদুরছানা ফের দেয় দৌড়। ইঁদুর-বেড়ালের ছোঁয়াছুঁয়ি, লুকোচুরি, দুষ্টু-মিষ্টি এই ঝগড়ার গল্প সকলেরই চেনা। ছোটদের পছন্দের, বড়দের মন ভাল রাখার দাওয়াই।
দুষ্টু বিড়াল টম এবং মিটমিটে ফচকে ইঁদুর জেরির এই হুটোপুটির শুরু সেই ১৯৪০ সাল থেকে। উইলিয়াম হ্যানা ও জোসেফ বারবেরার কল্পনায় ভর করে ৮০টা বসন্ত পেরিয়ে গেল টম অ্যান্ড জেরি অ্যানিমেটেড শো। মার্কিন প্রযোজনা সংস্থা এমজিএম স্টুডিওর অ্যানিমেশন বিভাগে কাজ করতেন হ্যানা-বারবেরা। ছোটদের পছন্দের কার্টুন চরিত্র ভাবতে গিয়ে ইঁদুর-বিড়ালের চিরন্তন ঝগড়ার কথাই মাথায় আসে তাঁদের। তবে তাঁরা বেশ বুঝেছিলেন, শুধু ঝগড়া নয়, হাসি, মজা, কৌতুক আর এনার্জিতে ভরপুর টানটান একটা এপিসোড না হলে স্টিরিওটাইপ থেকে বেরনো যাবে না। লম্বা চুলের রাপুনজ়েল বা মিষ্টি স্নো-হোয়াইটের রূপকথা মাখা কার্টুন বেশ একঘেয়ে। কাজেই থ্রিল না হলে বাচ্চাদের চমমনে করে তোলা যাবে না। অতএব মঞ্চে নামল বিড়াল টম আর ইঁদুর জেরি।
বারবেরা বলেছিলেন, এক সময় চার্লি চ্যাপলিনকে দেখে তিনি শিখেছিলেন কীভাবে সংলাপ ছাড়াই হাস্য-কৌতুক তৈরি করা যায়। টম অ্যান্ড জেরি তারই প্রতিফলন। সবচেয়ে বেশি চাহিদা এবং বিড়াল-ইঁদুরের দৌড়ঝাঁপকে প্রাণচঞ্চল করে তুলতে প্রতিটা এপিসোডের খরচও পড়ত বিপুল। হ্যানা-বারবেরা জানিয়েছিলেন, প্রতিটি পর্ব তৈরি করতে তখন খরচ পড়ত সাড়ে চার লাখ টাকা। তাই বছরে ছয় থেকে সাতটির বেশি পর্ব তৈরি করা সম্ভব হত না। টম অ্যান্ড জেরির অগণিত সিরিজের কোনটা কবে বানানো সেটা এখনও ধরতে পারবেন না দর্শকরা। বারবেরা একবার মজা করে বলেছিলেন, কার্টুন মানেই এভারগ্রিন। চরিত্রদেরও বয়স বাড়ে না, মজাও শেষ হয় না। আর কিশোর মনও থমকে থাকে এই চরিত্রদের সঙ্গে। সেটাই নস্টালজিয়া। আর এই ধারাকেই এখনও বয়ে নিয়ে চলেছে টম অ্যান্ড জেরি।
শ্রেয়সী কাঞ্জিলাল