প্রতিবেদক – ভজন দত্ত

দেখুন সিনেমা তৈরি করা মানেই যন্ত্রণা। প্রথমে একটি ঝক্কাস গল্প খোঁজো,তারপর একটি মালদার পার্টির খোঁজ করো, তারপর সিনেমার চরিত্র অনুযায়ী অভিনেতা, অভিনেত্রী খোঁজ করো, সুরকার, ক্যামেরাম্যান, এডিটর, সিংগার, আর্ট ডিরেক্টর আরো কত কী খোঁজার পর শুরু হয় একটি সিনেমার কাজ। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যে কত কত সিনেমা অসম্পূর্ণ হয়ে থেকে গেল তার হিসেব কেউ কোনোদিন রাখেন নি। তা, যা পারে হোক এরপরও একটি ছোট্ট প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যখন একটি সম্পূর্ণ সিনেমা তৈরির স্বপ্ন দেখে এবং বাস্তবে তার রূপদানও করে ফেলে তখন শুরু হয় আরেকটি বড় সমস্যার। সেই সিনেমা প্রদর্শনের জন্য ডিস্ট্রিবিউটর খোঁজা। এত এত সব ঝামেলা-ঝক্কি সামলে প্রতীক সরকার তার স্বপ্ন-নির্মাণ করেছেন।
হ্যাঁ,গোয়েন্দা গল্পের উপর নির্ভর করে আসছে তার একটি ডিটেকটিভ ফিল্ম। আপাতত এটি ওয়েব সিরিজে আসছে। একজন ছোট প্রযোজকের কাছে এই এক বড় স্বপ্নপূরণের কথা।
সিনেমাটির নাম ‘তিমির সান্যাল’। বাঙালি সম্ভবত এই সিনেমার মাধ্যমে পেতে চলেছেন আরেক ফেলুদাকে, সরি, আরেকজন প্রিয় গোয়ান্দাকে। এটি পরিচালনা, প্রযোজনা ও অভিনয় করেছেন স্বয়ং প্রতীক সরকার।
বিগত একবছর ধরে নানান সমস্যা, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তৈরি এই সিনেমায় লোকেশন হিসেবে কোলকাতা শহর থেকে দুর্গম নর্থ-সিকিম, উত্তরবঙ্গের পাহাড়-জঙ্গল থেকে শুরু করে রুখাশুখা পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে গঙ্গাতীরবর্তী সরস বেনারস পর্যন্ত তিনি পুরো টিম নিয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন। পরিচালকের কথায়,”আমার সবচাইতে পজিটিভ পয়েন্ট আমার ইউনিট। আমার সমস্ত আর্টিস্ট ও টেকনিশিয়ানরা আমাকে সবসময় সাহস ও ভরসা জুগিয়েছেন। সে কারণেই আমি একবছর ধরে এই লড়াইটি লড়তে পেরেছি। সিনেমার কাজটির শেষ পর্যায় অব্দি পৌঁছাতে পেরেছি।’
এই সিনেমার কাহিনির পরতে পরতে আছে এক নিটোল গল্পের ঠাস বুননে রহস্য-রোমাঞ্চ। এবং থাক…।
সব বললে নষ্ট গল্প। তবুও বলি আছে ডাইনি হত্যা, অলৌকিক ক্ষমতার লড়াই, আছে অমরত্বের বাসনা নির্ভর চরিত্র ও সমস্যা। ইনফ্যাক্ট সিনেমার মূলগল্প শুরুই হচ্ছে এক ডাইনিকে পুড়িয়ে মারার দৃশ্যের মধ্য দিয়ে। আছে বছর ছাব্বিশের তারা নামে এক অলৌকিক শক্তির অধিকারিণী নারী। সিনেমায় টানটান এই গল্পে রহস্যময় প্রাচীন এক গ্রামের সঙ্গে আছে রোমাঞ্চকর নাটকীয় সব উপকরণ। এইরকম কোনো গল্প নিয়ে আস্ত একটি সিনেমা তৈরি করা যেকোনো পরিচালকের কাছেই চ্যালেঞ্জের। প্রতীক সেই চ্যালেঞ্জ একসেপ্ট করে গত একবছর ধরে টানতে টানতে আজ তার শেষ পর্যায়ে উপস্থিত হয়েছেন।
আমরা অপেক্ষায় রইলাম ব্যোমকেশ, কিরিটি, ফেলুদা-র পর ‘তিমির সান্যাল’-এর জন্য। দেখি কীভাবে তিনি নিজে সমস্যা থেকে বের হয়ে আসেন।
এই সিনেমার মুখ্য চরিত্রভিনেতারাও এখনই স্বনামধন্য। বেশকিছু সিনেমায় ও সিরিয়ালের তাঁরা নিয়মিত মুখ।
সিনেমা তিমির সান্যাল
পরিচালকপ্রতীক সরকার
শিল্প নির্দেশনাবাপ্পা ঘোষ
ডি ও পিশুভ, মহম্মদ ওয়াসিম
সাজসজ্জা ও হেয়ারঅনামিকা
প্রোডাকশন কন্ট্রোলারবিশ্বজিৎ
সহকারী পরিচালকরণজয়
পোষ্টার ডিজাইন – সুবীর মণ্ডল
অভিনয় – কোহিমা বাসু,শান্তনু মণ্ডল, বাপ্পা,অ্যাবি,উমা ও আরো অনেকে।
Kanok Kakon, Colours Bangla
Aam Suttra, Porobash & ১৭ই সেপ্টেম্বর
Seser Golpo & Wrong Number

Facebook Comments