জন্ম কলকাতা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। বেকার।  গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ- তুমি, অরক্ষিত, তারামণির হার, জগৎগৌরী কাব্য, তালপাতার পুথি, তৃতীয় নয়নে জাগো, যে গান রাতের, অনিবার্য কারণবশত ইত্যাদি। গল্পসংকলন- মোংপো লামার গল্প, সব গল্প কাল্পনিক। উপন্যাস- নাশকতার বারান্দা। পেয়েছেন বীরেন্দ্র পুরস্কার (২০০৯) এবং বাংলা অকাদেমী পুরস্কার (২০১৮)। 

ছুটি

রঙিন পতাকা ওড়া দেশে চলে যাব-
পিছনে পাইনবন, কতদিন  পা পড়ে না সেখানে কারোর
হয়তো কুয়াশা তার মুখ ধুইয়ে দিয়ে চলে যায়-
আমার বিরহ ঝরে, ফোঁটা ফোঁটা ফুলে;
আমিও তোমার সঙ্গে চলে আসব পাহাড়ী বর্ষায়
যেমন বেড়াতে আসে দুঃখগুলো ছুটির সময়
কয়েকদিন মাত্র, তার পর ঘণ্টা বাজে
কে জানে দুঃখই কিনা প্রকৃত ঈশ্বর তবু-
মানত করেছি আমি লাল পতাকায়
ভালোবাসি তোমাকেই, চলো আরও কিছুদিন
শুকনো কাঠ-পাতা জড়ো করে জ্বালি অন্ধকারগুলো।
ঘণ্টা যত বাজে, তত রাত কমে যায়।

ইতিহাস

শুধু প্রতিধ্বনি শুনি, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে, একাকী দেওয়ালে
পুরনো হাতের ছাপ, কবেকার গল্প সব, দাগ লেগে আছে-
আর কী নতুন কথা বলতে পারি সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে
আমিই তো উঠেছি এসে, আমিই সম্রাট আর আমিই সৈনিক
আমিই ফাঁসুড়ে আর ওই শোনো ফাঁসির আসামী
বাইরে তার জাতিস্মর লিখে রাখছে পূর্ব সব স্মৃতি
শুধু প্রতিধ্বনি বাজলে আমরা হেমন্তকাল বুঝি
বুঝি পাতা ঝরে যায়, মনে হয়, হয়তো বা চেনা
এই ঝরে যাওয়াটুকু, – ওই তো সমাধি আর
ওই তো এই মাত্র কেউ দাগ রেখে গেল!