বসবাস : শিলিগুড়ি পেশা : শিক্ষকতা প্রকাশিত কবিতার বই পাঁচটি

প্রলাপসিন্ধু – ৮    

নিজের অজান্তেই কখন যেন বুঝতে শিখে গেছি মাদারির খেল । ডানাওয়ালা পরি, স্বল্প সুখ আর অনেক অনেকগুলো ভাঙা সম্পর্ক দিয়ে সাজানো এই অর্ধ যোগির খেলাঘরে জ্বেলে বসে থাকি নতুন হোম । এক এক করে পুড়িয়ে খাক করি মুখোশ । এখন আর পতনের ভয় নেই।বোগেনভিলিয়া রঙে রাঙা প্রিয় শূন্যতায় এখন যে শিকারা চালাই, তাতে আমি ছাড়া আর কেউ নেই ।
ডুবলে একাই ডুববো, পার হয়ে গেলেও একাই । বুকের ভেতর লালন-গালিব, চোখের ভেতর ছাই । মন জানে মনের মানুষ তছনছ করে গেছে বদলসাঁকো, কথা দিয়ে সাজানো কথার মায়াক্ষেত্র । যে কষ্ট লুকোই কষ্টেরই নীচে, তার ভেতর বর্ষা আর কুয়াশার শপথ মেখে নিতে নিতে ভুলে যাই প্রথম সূর্যের কিরণ কীভাবে পৃথিবীকে আলো দেয় । যে বাগান ছিল শিউলিতে-শিউলিতে সাদা, সেখানে কালো ফুল ফোটে, ভাল মানুষ কালো হয়ে ঘোরে, কালো চাঁদ ওঠে সন্ধেবেলা । দিনের শেষে ঠিকঠাক আন্দাজ করে নিতে পারি কোনটা অভিরতি, কোনটা অভিনয় । ভয় এখন আর নেই ছলনার । ঘরোয়া শাসনে মাদুর পেতে জীবন্ত করে তুলি খোদকারি ।
কোন স্মৃতি আঁকড়ে বসে নেই । একটা গোছানো টেবিলের সামনে অগোছালো জীবন খুলে বসে আছি । কাতর হতে হতে শিখে গেছি পাথর হতে । পাথর হতে হতে হারিয়ে গেছে খিদমত । এখন আর রাগ হয় না মোরগ লড়াই দেখে ; হাসি পায় । হাসতে হাসতে ছুটে চলে যাই সেবক পাহাড়ের ঢালে । হংকং মার্কেট থেকে কেনা কানের দুল আর সুফি গানের সিডি বার করে ফেলি চক্ষুহ্রদ থেকে । অশান্ত তিস্তায় ভাসিয়ে দিই গতরাতের না-শেষ হওয়া কথাদের সাথে । ফিরে আসি নদীজন্ম থেকে পাতাজন্মে । শূন্যের অভিকেন্দ্রে গুছিয়ে রাখি আত্মকথার চোরা অভিঘাত । এভাবেই একদিন সমস্ত ঘুণ পোকা ঠিক পুড়ে ছাই হবে তফাতের তন্দুরে । মুহূর্তের বিদ্যুৎস্ফুরণের মতো পতনসখী ও পতনসখারা শেষবারের মতো মুখ দেখিয়ে বিদায় নেবে পাকাপাকিভাবে । হয়তো যান্ত্রিক থেকে তান্ত্রিক হয়ে উঠব সেদিন ।
এখন আর দলনের ভয় পাই না । এখন ছাদে গিয়ে দাঁড়ালে আঙুল থেকে উড়ে যায় কষ্টহীন সব অবলুপ্তি । ফিরে আসে এক অনন্ত জানালা, যা বন্ধ করে নিলেই আমি সুখী আত্মবন্দি ।