জন্ম: ২১মার্চ, ১৯৭৮ পেশায় কর্পোরেট ট্রেনার। প্রকাশিত গ্রন্থ: সাতটি. কবিতা লেখা দিয়ে লেখালিখির শুরু হলেও বর্তমানে গদ্য ও গল্পে বেশি মনোনিবেশ করেছেন। প্রিয় শখ: রান্না। আবৃত্তি-সঞ্চালনাতেও সমান জনপ্রিয়।

মুক্তি 

তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে এসেছে আজ পিন্টু। ফ্যাক্টরির মালিকদের একজন মারা গেছে বলে ছুটি দিয়ে দিয়েছে। সকাল সকাল তো বাড়ি ফিরে এসেছে, এখন করবে কী? যবে থেকে এই কাপড়ের কলের ম্যানেজারের পদে বহাল হয়েছে বন্ধু -বান্ধব সব গেছে। বাড়িতে আর কেউ থাকে না। মা গত বার বর্ষার সময় হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেন। পিন্টু ঝড়-জলে ডাক্তার ডেকে নিয়ে আসার আগেই সব শেষ। বাবা তো কবেই গত হয়েছেন।তখন ও ক্লাস ইলেভেনে পড়ে। ভাই-বোন কেউ নেই। এক বোন ছিল। ছোটবেলায় বাড়ির পুকুরে ডুবে মারা গিয়েছিল।পিন্টুও তখন অনেক ছোট। সেই থেকে পিন্টুকে কখনো মা পুকুর পাড়ে যেতে পর্যন্ত দেয়নি। কেমন শোকাকুল একটা ছন্নছাড়া বাড়ির মধ্যে পিন্টুর বড় হয়ে ওঠা। বাবা মারা যাওয়ার পর মা খুব কম কথা বলতেন। বাড়িটাতে থাকতে পিন্টুর ভালো লাগতো না। বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগটাও গেছে। ঘরে ফিরে পিন্টু  চালে-ডালে বসিয়ে দেয়। সঙ্গে একটা ডিম ভাজা করে নেয় বেশি লঙ্কা দিয়ে। খাওয়া দাওয়া শেষ হলে হাত -মুখ ধুয়ে ও হঠাৎ ভাবে পুকুরধার টায় গিয়ে বসি। কতকাল ঘাটে বসি না। মাঝখানে একবার লোক দিয়ে বাড়ির জঙ্গল পরিষ্কার করিয়েছিলো পিন্টু। এখন নিশ্চয়ই আবার জঙ্গল হয়ে গেছে। বাড়ির পিছনের আগাছা পেরিয়ে পুকুরধারে পৌঁছল পিন্টু। একটা কাপড় নিয়ে এসেছিল। কাপড়টা পুকুরের জলে ভিজিয়ে ঘাটের সিঁড়িটা মুছে বসল। অর্ধেক পুকুরটা শাপলা আর শালুক ফুলে ভরে রয়েছে। ছোটবেলায় সাঁতার কাটতে শিখেছিল পিন্টু এই পুকুরে। পিন্টু পুকুরের জলে পা ডুবিয়ে বসে। ঠাণ্ডা জলে শরীর জুড়িয়ে যায়।  ছোটবেলার কথা মনে পড়তে থাকে। কান্না পেতে থাকে নিজের একাকিত্বের জন্য। “নাহ,উঠে যেতে হবে,” উঠতে গিয়ে উঠতে পারে না। পা জড়িয়ে ধরেছে শালুক ফুলের ডাঁটি। আরে ফুলগুলো তো ঐ ধারে ছিল। জলে ভেসে এদিকে কখন আসল? পিন্টুকে ছাড়াতে বেশ বেগ পেতে হল, কে যেন সজোরে চেপে ধরেছে ওর পা। শেষমেশ ছাড়াতে পেরে পিন্টু এক ছুট লাগাল বাড়ির দিকে।
কিছুক্ষণ ঝিম হয়ে বসেছিল ঘরে গিয়ে দরজা আটকে, তারপর অসহ্য লাগায় বাইরে বেরোল পায়চারি করতে। “রাজুর চায়ের ঠেকটা দেখি”, যদি কোন বন্ধু বান্ধব পাই। “গিয়ে দেখে সমর ব’সে একটা লোককে হাত পা নেড়ে কী বোঝাচ্ছে। ওকে দেখে এগিয়ে এসে বলল, “ভাই,কাকে দেকচি? শ্রীমান পিন্টু মহারাজ আজ চায়ের ঠেকে? জাত চলে যাবে তো!”
“ফালতু কথা বলিস না। আজ ফ্যাক্টরি হঠাৎ ছুটি হয়ে গেছে, ভাবলাম তোদের সঙ্গে আড্ডা মারি; তা,  আর কেউ আসবে নাকি?”
“হ্যাঁ,ভোলা আসবে, আর একটু পরেই। চা খাবি তো?”
“রাজু দুটো চা দে”, পিন্টু বলল।
“হ্যাঁ রে, কাকীমা কেমন আছে?”
“মা ভালোই। বয়স হলে যা হয়, শরীর খারাপ লেগেই থাকে ” বলল সমর।
এর মধ্যে ভোলা চলে এল। ওরা তিন বন্ধু বহু দিন পর ছোটবেলার যত দুষ্টুমি নিয়ে স্মৃতি রোমন্হনে মেতে উঠল।
হঠাৎ সমরই বলল, “এই পিন্টু,তোদের বাড়িতে চল না। কেউ তো নেই,আড্ডা মারি ওখানে;”
“চল”
তিনজনে একটা রামের বোতল কিনে কিশোরকে ও ফোন করে আসতে বলল। কিশোর ওদের আর এক বন্ধু, একটু শান্ত-শিষ্ট ও মেয়েলি গোছের বলে পিছনে লাগা যায় আর কী, টাইম পাস।
পিন্টুদের বাড়ি ঢুকে ওরা সবাই হাত লাগিয়ে চিলি চিকেন বানিয়ে ফেলল। দু পেগ খাওয়ার পরে নেশাটা যখন জমেছে পিন্টু বলল, “জানিস,আজ একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে।”  সকালবেলার পুকুর পাড়ের ঘটনা বলল বন্ধুদের। সমর লাফ দিয়ে উঠে বলল, “আমি ঠিক জানতাম,তোদের বাড়িতে ভূত আছে।”
“ধুস,কী যে বলিস? আমি এতদিন আছি,কোনদিন বুঝলাম না।”
“আজ বুঝলি তো। এই বাড়ির চারপাশে কারা ফিসফিস করে, ঘুরে বেড়ায়। আমি কতদিন সন্ধেবেলায় তোদের বাড়ির পাশ দিয়ে যেতে গিয়ে দেখেছি, এই ভোলা, বল না।”
ভোলা তাড়াতাড়ি গ্লাসটুকু শেষ করে বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ,একটা পরামর্শ আছে, মানে, তোর ভালো বন্ধু বলেই বলছি। এই সমর, তুইই বল্ না।”
সমর বলল, “বলছি কি,এই জমিটায় তুই প্রোমোটারি করিয়ে দে। নতুন ফ্ল্যাট উঠলে এসব অতৃপ্ত আত্মারাও চলে যাবে। আর তোর টাকা তোর। তোর ভাগের ফ্ল্যাট তুই বেচে দিয়ে সেই টাকায় তোর কারখানার কাছে ফ্ল্যাট নিয়ে চলে যাস না হয়। “কিশোরের হাতের গ্লাসটা হঠাৎ ফট করে ফেটে ভেঙে পড়ল। সবাই চমকে উঠল। সমর বলল, “নেকুপুষু আমার, দু পেগ খেতে না খেতেই গ্লাস পড়ে যাচ্ছে হাত থেকে, কেন সোনা?” ভোলা ওর গাল টিপে খ্যাক খ্যাক করে হেসে ওঠে। কিশোর বলে, ” আমার হাতে গ্লাস নিজে নিজেই ফেটে গেলরে। কিছু একটা গণ্ডগোল আছে।”
“ছাতার মাথা। কোন বোধ নেই। আধদামরা মামনি একটা ” বলল ভোলা।
সমর বলল “ওকে বাদ দে, তুই বল রাজি কিনা বাড়ি বেচতে।”
পিন্টু বলল, ” ভূতের গল্প শুনিয়ে আমাকে ভড়কে দিতে চাইছিস?”
“গল্প কে শোনাল? আমি না তুই? পুকুর পাড়ের ঘটনা কার? আমি যদি প্রমাণ করে দিই তোদের বাড়িতে ভূত আছে। তবে মানবি তো?”
“কীভাবে?”
“প্ল্যানচেটে বসি চল চারজনে,যারা আসবে তাদেরই জিঞ্জেস করে নিস।”
হঠাৎ আলো নিভে গেল। “যাহ্  শালা,এতদিন পরে আজই লোড শেডিং হতে হল?”
বিরক্ত হয়ে বলল পিন্টু।
“আরে ভালোই তো মোমবাতি জ্বালা,প্ল্যানচেট হোক।” ভোলা ই জ্বালাল মোমবাতি,ওরা কাগজ,পেন্সিল হাতে সবাই চারটে মোমবাতি সামনে  জ্বালিয়ে বসল প্ল্যানচেটে।
খাওয়া দাওয়া মাথায় উঠল। ভোলা বলল, সবাই একমনে ডাকো এই বাড়িতে ঘুরে বেড়ানো আত্মাদের। সবাই ডাকো।
সবাই মোমবাতির দিকে তাকিয়ে মনঃসংযোগ করেছে। পুরো ঘরে নীরবতা, দশ মিনিট এভাবে কাটার পর পিন্টু  ধৈর্য্য হারিয়ে সবে উঠতে যাবে, কিশোরের পেন্সিল কাগজের উপর ঘুরতে থাকলো। মোমবাতি সামনে কাঁপছে সবার, কে যেন জোরে ফুঁ দিচ্ছে। কিশোরের চোখ উল্টে গেছে, মুখ দিয়ে অস্ফুট গোঁ গোঁ শব্দ বেরোচ্ছে। ভোলাই বলল,আপনি কে? কে এসেছেন?”
লেখা ফুটে উঠল পেনসিলের অক্ষরে।
“আমি বোন।”
পিন্টু কিছু বলতে যাচ্ছিল,সমর ওর হাতের উপর চাপ দিয়ে থামিয়ে দিল।
“কী করতে এসেছেন?”
“সাবধান করতে ”
“কেন?” মোমবাতি আরও দপদপ করতে লাগল।
“এ বাড়ি আমাদের,তোরা চলে যা।”
হঠাৎই আলো জ্বলে উঠলো। লোডশেডিং হয়ে যাওয়াতে সুইচ অফ্ করতে সবাই ভুলে গিয়েছিল। কারেন্ট চলে এসেছে।সমর বলে উঠল, যাহ, গেল সব ভেস্তে। “কিশোর ধপ করে পড়ে গেল চেয়ার থেকে। ওকে চোখে মুখে জলের ঝাপটা দিতে থাকল ওরা। ধীরে ধীরে কিশোর উঠে বসল।
বলেই বলল, “আমি বাড়ি যাব।”
ভোলা চলল “তাই ভালো,আমি তোকে এগিয়ে দিয়ে আসি।” ওরা বেরিয়ে গেলে,সমর বলল “এবার মানবি তো ভূত আছে তোদের বাড়িতে। কাল সকালে আসব প্রোমোটারকে নিয়ে তোর বেরোনোর আগেই, মনস্হির করে রাখিস।”
সমর বেড়িয়ে যেতে পিন্টু শুয়ে পড়ল। একে নেশা হয়েছে, তারপর প্ল্যানচেট, সব মিলিয়ে কেমন বিধ্বস্ত লাগছে। ঘুমিয়ে পড়েছিল,”মাঝরাতে হঠাৎ কী একটা আশ্চর্য অনুভূতি হচ্ছিল। দেখল এক নারীর অবয়ব ঘুরে বেড়াচ্ছে সারা ঘরে।
কে যেন কাঁদছে আর অস্ফুট স্বরে বলছে, ” আমাকে ঘর ছাড়া করিস না পিন্টু।”
‘মা’ বলে চেঁচিয়ে উঠল পিন্টু। বিছানায় বসে দরদর করে ঘামছিল ও, তবে কি সত্যিই মা আর বোন এই বাড়িতেই থাকে। ওদের আত্মা এখানেই শান্তিতে আছে?
ও সমরকে ফোন করল তখনই।সমর তুলে বলে, “কী রে দেড়টার সময় ফোন করলি? কিছু এমারজেন্সি?”
‘”বাড়ি আমি বেচবোনা।”
সমর  হাসতে থাকে ফোনের ওপারে। ঠিক যেন শয়তানের হাসি। “বাড়ি তোকে বেচতেই হবে পিন্টু,কাল সকালেই আমরা এলাকায় প্রচার করে দেব, আজকের ঘটনা।  আর বলব আমাদের থ্রেট করেছে অতৃপ্ত আত্মারা। প্রতিবেশী দের ক্ষেপিয়ে তুলব এই ব’লে যে তাদের যে কোন সময় যে কোন বিপদ ঘটতে পারে। পাবলিকের চাপের সামনে পাড়ার কাউন্সিলর গিয়ে এমনভাবে তোর থেকে বাড়ি হাতিয়ে নেবে, জলের দামে দিতে বাধ্য হবি। তার চেয়ে আমি তোকে ভালো দামে বিক্রি করিয়ে দেব। সেটাই মেনে নে। সমর ফোন কেটে দিল। সারারাত জেগেই কাটালো পিন্টু। ভোরের দিকে ঘুমিয়ে পড়েছিল। অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙতে দেখে, কিশোরের হাতে ধরা কাগজটা ওর বালিশের পাশে। লেখা আছে ‘সর্বনাশ ‘
“কার সর্বনাশ হবে? আমার? কিন্তু আমি তো বাড়ি বিক্রি করবনা বলেছি মা, বলো না মা, কার সর্বনাশ?”
সকালে উঠে সাতটার মধ্যে বেরিয়ে পড়ে পিন্টু। সমরের সঙ্গে দেখা হয় ও চায় না। সারাদিন কারখানায় কাজ করে বেশ রাত করে ফেরে। খাওয়া হয়নি সারাদিন। ফিরতে ফিরতে ভাবতে থাকে ভাতে ভাত ফুটিয়ে খেয়ে নেবে,আলু ডিম দিয়ে। বাড়ি ঢোকার সময় দেখে দরজার সামনের সিঁড়ি তে সমর বসে । ওর শয়তানী হাসিটা হেসে খ্যাক খ্যাক করে বলল “ভাই এড়িয়ে যেতে পারবি ভেবেছিস?
সুদীপ বাবু গাড়িতে বসে আছেন,তুই দরজা খোল,আমি ওনাকে নিয়ে আসছি।”
“তুই বাড়ি যা,আমি ক্লান্ত।” সমর আস্তে ক’রে ওর কোমরে একটা ঠাণ্ডা নল ছোঁয়ায়,’চুপচাপ ঘরে গিয়ে বোস,বোস বলছি।”
পিন্টু ঘরে ঢুকে যায়। “নমস্কার কেমন আছেন “, সাদা পাঞ্জাবী পায়জামা পরা সুদীপ ভট্টাচার্য্য ঢোকেন। পিন্টু উত্তর দেয় না। সুদীপ নিজেই এসে চেয়ার টেনে বসে পড়ে।”বলছিলাম কি,সবই তো শুনেছেন, এখন ভালো ছেলের মতো পেপারে সাইন করে দেবেন, কেমন? পেপার সাতদিনে তৈরী হয়ে যাবে। আপনি টাকাও পাবেন, ফ্ল্যাটও পাবেন। সেই ফ্ল্যাট তো এই জমির উপরেই, থাকবেন না হয় দুই ভূতনীকে নিয়ে।” খ্যা খ্যা করে হাসতে থাকে সুদীপ, সঙ্গ দেয় সমর।
“চা খাওয়াবেন না? আমি কি এতই খারাপ লোক? আরে মশাই রাগ ছাড়ুন। এতেই আপনার ফায়দা, চা করে আনুন।”
পিন্টু গিয়ে চা বসায়।চায়ের পাতা যখন ফুটছে,তখন আপনা আপনি কেটলি টা বাতাসে উড়তে থাকে। হঠাৎ করে সুদীপের মুখের সামনে গিয়ে থামে।সুদীপ হতচকিত হয়ে চিৎকার করে ওঠে। আর কেটলি সেই খোলা হা এর মধ্যে ঢেলে দেয় ফুটন্ত চা।পুরো এক কেটলি চা। আ আ করে চিৎকার করে পড়ে যায় সুদীপ,কে যেন চুলের মুঠি ধরে ওকে ঝুলিয়ে রাখে বাতাসে। ধীরে ধীরে চোখ বড় হয়ে আসে। জিভ ঝুলে যায়। সমর এতক্ষণ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।পিন্টু নড়তে পারছিলো না।সুদীপ মাটিতে পড়ে যেতেই সমর এক ছুট দিল। কিন্তু সমর দরজা খুলতে গিয়ে কিছুতেই পারলনা। তখন বোধশূন্য হয়ে পিছনের দিকের খোলা দরজা দিয়ে ছুট দিল। বাগানের রাস্তায় ও ছুটে যেতেই পিন্টু ধপ্ করে বসে পড়ল ওখানে। ওর শরীরে আর বল নেই। একটু পরে জলে একটা জোরে ভারী পাথর পড়লে যেমন শব্দ হয়,তেমন শব্দ এলো। সমর আর ফিরল না। পিন্টু জানে ও জলের মধ্যে তলিয়ে গেছে। পিন্টু গোঁ গোঁ করে অঞ্জান হয়ে গেল। যখন জ্ঞান ফিরল, দেখলো ও খাটেই শুয়ে আছে। ঘরে সুদীপের লাশ নেই। সব দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বালিশের সেই কাগজে লেখা ‘মুক্তি ‘। বাজারে গিয়ে শুনলো লোকাল কাউন্সিলার নিজের বাড়ির ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন। আর সমরকে বড় দীঘির জলে ভাসতে দেখা গেছে।
পিন্টু সেদিন মায়ের আর বোনের ছবিতে মালা দিল,ওর বাবার আমলের পুরোহিত মশাইকে ডেকে এনে শান্তি সস্ত্ব্যয়ন করালো। উনি যজ্ঞ করলেন, শ্রাদ্ধের কিছু কাজ করলেন। শেষে বললেন “বাবা আত্মা মুক্তি পেয়েছে দুজনেরই।”
পিন্টু রাতে মায়ের ছবির সামনে আর বোনের ছবির সামনে অনেকক্ষণ বসে রইল। নাহ্, আর কোন লেখা ফুটে ওঠেনি। কিন্তু পিন্টুর হঠাৎই বড় একা লাগতে থাকলো।