কোয়ারেন্টাইন ২

মাতালের ঘোরের মতো নেমে আসে রাত।রাত। শূন্যতার।খেয়ে নেওয়ার।রাত । ছিঁড়ে খুঁড়ে রক্তাক্ত হওয়ার।রাত। একাকিত্বের।ফেলে আসা স্মৃতির টাটকা রোমন্থনের।

বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি। আমাদের মধ্যে অনন্ত দূরত্বের এক আলোক জালিকা ছায়া বুনছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি। নিজের চেতনাকে আজকাল বেশ কিছুটা দূর থেকে লক্ষ্য করি।তার অবশতা দেখি। বিবশ কিছু মুহূর্ত কে সঙ্গ করে আমরা দুজনে ই বিচ্ছিন্ন কাঁদি।এসব নেহাত মামুলি কথা। তোমার ব্যস্ত উঠোনের ঝাঁট দেওয়া ধূলোর মতো।রাত নামে‌। কেন নামে? যন্ত্রণার নীল আকাশ ও বুজে যায় তখন।ছটফট করি। তোমার ঠোঁটের আশ্বাসটুকু মনে পড়ে।মনে পড়ে ঘামের সাথে গড়িয়ে পড়া তৃপ্তি। মনে পড়ে নিঃশ্বাসের মিলে যাওয়ার শব্দ। আজকাল ঘুম হয়না। হাজার হাজার মৃত চোখ জেগে থাকে রাতের বিছানা জুড়ে।মনে হয় এই আর্ত রাস্তা পেরিয়ে কোনদিন পৌঁছাতে পারবোনা তোমার কাছে।মনে হয় মানুষের পাপ এতদিন পরে পৃথিবীকে ছেড়ে মানুষকে ছুঁয়েছে।
মাতালের ঘোরের মতো রাত কাটে। শ্বাসকষ্টের অসহায় মুহূর্তে র মতো জানলায় কালো ছায়া আঁকে সময়।”তোমাকে চাই ” এই সহজ কথাটুকু বলার জন্য বেঁচে থাকতে হবে। আরেকবার ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়াতে চাই। শুনতে চাই ‘জলধারার কলস্বর।’আর কিছু না। প্রাচুর্যের বাইরে সহজ হাতটুকু ধরার নাম জীবন।আমরা তাকে এতদিন ভুলে ছিলাম।

রাত পার হোক। সকালে ঠোঁটে আলো নিয়ে এসে ছুঁইয়ে যেও , কেমন?