ডামি

মাঝ আকাশে সূর্যটা গনগন করে আগুনের থালাটা জ্বালিয়ে রেখেছে। এতদিন পর্যন্ত তেঁতুলের ধারণা ছিল পৃথিবীটা বুঝি চ্যাপ্টা। দীর্ঘক্ষণ রোঁয়া-ওঠা গাছপালাশূন্য বাঁজা মাঠটায় বসে থাকতে থাকতে মাঠের কিনারের অস্পষ্ট গ্রামরেখার দিকে তাকিয়ে মনে হয় — না পৃথিবীটা গোলই হবে। হয়তো বা বেলের মতো।
এ অঞ্চলে মাইলের পর মাইল কোনও ছায়াভাব নেই। বসে থাকতে থাকতে তেঁতুলের ঘুম পায়। ঠিকাদারের সঙ্গে সে এখানে এসেছে।
গতকাল যখন তেঁতুলকে ডেকে ঠিকাদার বলে – হ তেঁতুল সিনেমা করবি?, তেঁতুল তখন এক পাঁজা ইট মাথায় তুলে হাঁ করে চেয়ে চেয়ে ভাবছিল — ঠিকাদার বোধহয় আজ ‘শুতে’ চায়।
ঠিকাদার বলল – এখানে কলকাতার সিনেমাপাটি আসিছে বটে। শুটিং হবেক। তুর ডাশো ডাশো চেহারা — তাই ভাবলাম….
তেঁতুল এখনও বুঝতে পারেনি ঠিক কী বলতে চায় ঠিকাদার। এখানে আকাশে মেঘ থাকে খুব কম। তেঁতুলের ঠাকুমা বলত — বোঙাবুরুর রোষ।
তামার থালার মতো আগুনের গোলাটা দিয়ে সারাদিনই গরম সিসা ঝরে। থোপা থোপা সাদা রঙের ঘোলাটে মেঘে ছেয়ে আছে সমস্ত আকাশ। রুক্ষ পৃথিবীর এই মানুষগুলোর কাছে সজলঘন সব সৌন্দর্য অর্থহীন। টাড় জমিগুলো চাংড়া-চাংড়াভাবে খণ্ড খণ্ড হয়ে গেছে। খণ্ড খণ্ড শুকনো মাটির হাঁ-মুখের ভিতরে লুকিয়ে থাকা বিষধর খরিশ উঁকিঝুঁকি দেয়।
গতকাল ঠিকাদার হঠাৎ করেই তেঁতুলকে খাতির করে বলেছিল – আহা, হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছিস কেনে। ইটের ঝাঁকাটা রাখ না।
তেঁতুলকে পুদিনাপাতা আর আখের গুড়ের সরবতও খাওয়ায়। ঘামতেলে জবজবে ভিজে তেঁতুল এখন খুব বেশি নোংরা হয়ে গেছে। ঠিকাদার একটু আদুরে গলায় বলে – হ তেঁতুল, তুই ছবি করলি আমার যে কী গরবটাই না হবে। টেকা পাবি। হিরোইনের ডামি।
পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে শুটিং পার্টিটা টালিগঞ্জ থেকে এসেছে। ওদের দলে ধবধবে বকের মতো সাদা একটা মেয়েমানুষও আছে। নায়িকা। তারই ডামি হতে হবে তেঁতুলকে। সেই কোন সকালে যখন মুরন মাঝির চার কেজি ওজনের লাল ঝুঁটিওয়ালা, ধারালো ঠোঁটের খুক্‌রাটা গলা ফুলিয়ে আকাশের দিকে চোখ মেলে ডেকে ওঠে — কোঁকোঁর কোঁ-ও-ও-ও…, বুধাই মাণ্ডি শাপলা-জলার এক হাঁটু কাদাজলে জমি চষার ‘কারা’ দুটোকে নিয়ে এসে গা ধুয়ে দিচ্ছে, সেই তখন থেকে ঠিকাদারের সঙ্গে তেঁতুলের পথ চলা শুরু। কিছুক্ষণ ছিল সকালবেলার নরম রোদ, তারপরই দপ করে সূর্য জ্বলে ওঠে। মার্কারির মতো সাদা আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে চারদিক। শুকনো ধুলো ওড়া গরম বাতাসের ঝাপটায় ঝাঁঝিয়ে ওঠে চোখমুখ। এই বিস্তীর্ণ টাড়জমির পথ আসবার সময় ঠিকাদার কিন্তু লক্ষ্মী হয়েই ছিল। একবারও হ্যাঁচকা টানে তেঁতুলকে কাছে টানেনি।
এত গরমে শুটিং পার্টিটা হাঁসফাঁস করছে।
ঠিকাদার তেঁতুলকে নিয়ে এসে বলে – বাবু উরে নিয়ে আসলাম।
এত রুক্ষ প্রকৃতিতে তেঁতুলের নদীর পাড় উপচানো ভরন্ত যৌবন দেখে অবাক হয়ে যায় মানুষগুলো। খুব সুন্দর টানটান চেহারার একটা লোক চিৎকার করে ডেকে ওঠে — শালিনী কাম। তোমার ডামি দেখে যাও।
ঢোলা ঢোলা সাদা পোশাক আর সানগ্লাস পরা সিনেমার নায়িকা শালিনী বসু রায় দুলে দুলে এসে হাসি মুখে বলে – হাই!
তেঁতুল ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে ঠিকাদারের দিকে।
ঠিকাদার আপনজনের মতো বলে – গড় কর। ইনার ডামি হবি তুই। কী ভাগ্যি রে তোর!
তেঁতুল কিছু না বুঝে দু’হাত জোড়া করে।
পরিচালক বিমল পাণ্ডা বলে ওঠে – এই না না, ওসব করতে হবে না। তোমার নাম কী?
তেঁতুল ঠিকাদারের দিকে তাকায়।
ঠিকাদার আকৰ্ণ হেসে বলে – আজ্ঞে বাবু, ওর নাম তেঁতুল সোরেন বটে।
ক্যামেরাম্যান সঞ্জয় ছেলেটা খুব ফাজিল। জিভে চুকচুক আওয়াজ করে বলে ওঠে – ইস্ এখনই আমার জিভে জল আসছে।
প্রোডাকশান ম্যানেজার মনসুর আখতার ঠিকাদারের হাতে বাড়তি একশো টাকা দিয়ে বলে – কী খুশি তো?
ঠিকাদার গলে জল।
মনসুর চোখ ছোটো করে বলে – এই, তোমাদের এখানে মহুয়া পাওয়া যাবে?
হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ে ঠিকাদার।
মনসুর বাবলা ঝোপের পানসে ছায়াটায় গিয়ে দাঁড়ায়। চিৎকার করে বলে – তেঁতুলকে তো আর চাটনি খাওয়া যাবে না, কিন্তু আমড়া, জলপাই এই ধরনের কিছু মিলবে না?
শব্দ না করে অর্থপূর্ণ হাসে ঠিকাদার।
পরিচালক বিমল পাণ্ডা বলে দিয়েছে লাঞ্চের পর আবার শুটিং হবে। দু’ঘণ্টার জন্য প্যাক-আপ। নায়কের রোলে একেবারে নতুন মুখ। অর্ণব ঘোষাল। দারুণ দেখতে ছেলেটাকে। গল্পটার চরিত্রের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে গেছে। বরং শালিনীকে বয়স বেশি লাগছে। মেক-আপে বয়সটা কমানোর চেষ্টা হচ্ছে শালিনীর।
অযোধ্যা পাহাড় এলাকার স্থানীয় কিছু লোকজন পায়ে পায়ে চলে এসে শুটিং পার্টিকে ঘিরে মেলা বসিয়েছে। এ অঞ্চলে টুসু, ভাদু ছাড়া এমন পরব হয় না। কতগুলো বাচ্চাও আছে। তাদের বিজবিজে ঘামাচিতে ভরা আদুল গা। কেউ-বা জন্মদিনের পোশাকেই চলে এসেছে। আশপাশে দু-একটা ন্যাড়া বেল, এক-আধটা খিঁচিয়ে ওঠা শিমূল আর পুরু ধুলো জমা পুটুস আর কাঁটানটের ঝোপঝাড় ভেঙে মানুষগুলো শুটিংয়ের সার্কাস দেখতে চলে এসেছে।
সহকারী পরিচালক মন্টু শীল ঢাকার বাঙাল। সে প্রোডাকশান ম্যানেজার মনসুরকে গোঁত্তা দিয়ে বলে – দেখুন মিয়েগুলান, খায় না দায় না তবু গতরগুলান ধারি শুয়ারের মতো।
মন্টু নিজের অসভ্য রসিকতায় নিজেই হো হো করে হেসে ওঠে।
সঞ্জয় সকাল থেকেই মাল টানছিল। সে জড়িয়ে জড়িয়ে বলে – জলপাই কোথায় পাই বলতে পারেন মন্টুদা? আমার যে তেষ্টায় ছাতি ফেটে যাচ্ছে। এই শালা ঠিকাদার আমায় জলপাই এনে দে।
ম্যানেজারবাবু ঠিকাদারকে নেড়ামাথা তালগাছটার লম্বা ছাওয়ায় ডেকে আনে। চোখে মুখে উৎকণ্ঠা। গলগল করে ঘামছে — এই ঠিকাদার, লোকগুলো সরানোর ব্যবস্থা করো। লোকগুলো হাঁ-করে দাঁড়িয়ে থাকলে তোমার তেঁতুল খোসা ছাড়াবে?
ঠিকাদার মাথা চুলকায় — উদের কিছু খেতে দিন বাবু। খাবার না পেলে লোকগুলো যাবেক লাই।
ম্যানেজার লোকগুলোকে কলা-পাঁউরুটি দিতে বলে। কলা-পাঁউরুটি নেওয়ার জন্য মানুষগুলোর মধ্যে বন্যাত্রাণের হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ডিরেক্টর বিমল অর্ণব আর শালিনীকে ডেকে বলে – তোমরা একটু কথাবার্তা বলে মেয়েটাকে ইজি করো।
তেঁতুল তখন একটা কোল্ডড্রিঙ্কসের বোতল হাতে আকাশ গলানো রোদে দাঁড়িয়ে কালো-কালো নিজের মতো দেখতে মানুষগুলোর কলা-পাঁউরুটি খাওয়ার ভোজ দেখছে।
ডিরেক্টরের কথায় শালিনী যথেষ্ট বিরক্ত। পরিষ্কার বলে দিয়েছে – দেখুন বিমলদা এই বিশ্রি গরমে আমি আর যাই হোক তেঁতুলের কাউন্সেলিং করতে পারব না। দু-দিনের শুটিং-এ এসে তিনদিন হয়ে গেছে। আপনি এখানকার কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করে প্যাক-আপ করুন।
বিমল চুপ করে থাকে। বিমল জানে নতুবা প্রযোজকের রোষানলে পড়তে হবে। শুধু মনে মনে বুড়বুড়ি কাটে — তুমিও তো কম নক্‌রা করলে না বাবা। স্ক্রিপ্ট শুনে বললে আমার কোনও ডামি লাগবে না। আর এখানে এসে বললে ‘ওরে বাবা! এই ঝলসানো ওয়েদারে খটখটে পাহাড়ের বুকে খালি পায়ে অতটা দৌড়তে পারব না’।
অযোধ্যা পাহাড়ের বাংলোর হাতায় ছাতার নীচে দুটো মুখোমুখি চেয়ারে তেঁতুলকে নিয়ে বসে অর্ণব। তেঁতুল জড়সড় হয়ে বসে আছে। অর্ণব তেঁতুলের বড়ো বড়ো চোখ দুটোর দিকে তাকায়, জিজ্ঞাসা করে — বাড়িতে তোমার কে কে আছে তেঁতুল?
– বাবা। তিনটে ভাইবোন। বাবার কুষ্ঠ আছে। কাজকাম করতে পারেক লাই।
– তুমি কী কর?
– হামি ঠিকাদারের ইঁটভাটায় কাজ করি।
অর্ণব একটু হেসে বলে – এই ফিল্মে আমি কিন্তু তোমার নায়ক। ভালোবাসার মানুষ। তুমি আদিবাসী মেয়ে, তাই আমার সঙ্গে বিয়ে দিতে চায় না। অথচ আমরা একে অপরকে পাগলের মতো ভালোবাসি। এটাই সিনেমার গল্প। পারবে তো তেঁতুল সিনেমার এই দৃশ্যটায় তুমি আমাকে পাগলের মতো ভালোবাসতে?
নায়কের কথা শুনে ঘোর লেগে যায় তেঁতুলের। সে কোনওরকমে ঘাড় কাত করে।
অর্ণব বলে — গুড। এই তো চাই।
তেঁতুল সোনাঝুরি ঝোপটার নীচে ছাতার পাখিটার দিকে ঘোলা ঘোলা করুণ দৃষ্টিতে চেয়ে মনে মনে ভাবে — আচ্ছা সিনেমার মতো ঘটনাটা সত্যি হয় না কখনও? অমন সুন্দর ফটফটে নায়কের দরকার নেই। একজন সত্যিকারের পুরুষ মানুষ হলেই যথেষ্ট – যে তেঁতুলকে সোহাগে, আদরে, নির্ভরতায় ভরিয়ে দেবে। কেন পারবে না — তেমন কোনও মানুষ পেলে নিশ্চয়ই পারবে তেঁতুল তাকে পাগলের মতো ভালোবাসতে।
বিমল পাণ্ডা তেঁতুলকে দৃশ্যটা বোঝাতে থাকে — শোনো তেঁতুল, এই দৃশ্যটার আগে একটা গানের সিন আছে। সেটা আমি শালিনী আর অর্ণবকে নিয়ে কলকাতায় সেরে নেব। এখানে তুমি পিছন ফিরে অর্ণবের বুকে মুখ গুঁজে দাঁড়িয়ে কাঁদবে।
একটা বাচ্চা ছাগলের গলায় দড়ি বাঁধা, সেটার একটা প্রান্ত তেঁতুলের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বিমল বলে – এই ছাগলটার মা নেই। তুমি একে সন্তানের মতো ভালোবাসো। মনে রাখবে তেঁতুল, সন্তানের মতো। ছাগলের বাচ্চাটা তোমার হাত ছাড়িয়ে চলে যাবে আর তুমি ওর পিছন পিছন দৌড়ে পাহাড়ের ওই কিনারা পর্যন্ত যাবে। ব্যস, এইটুকু তোমার কাজ।
পুরো টিমটা ওদের ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। ঠিকাদারের উত্তেজনার শেষ নেই।
বিমল চিৎকার করে — সাইলেন্ট, ক্যামেরা।
অর্ণব গাঢ় চোখে চোখ রাখে তেঁতুলের। ডিরেক্টরের ইশারায় কাছে টেনে নেয় তেঁতুলকে। অর্ণবের বুকে মুখ রেখে তেঁতুল তখন অল্প বাতাসে তেঁতুলপাতার মতোই তিরতির করে কাঁপছে। পুরুষ মানুষের গায়ে এমন সুন্দর বাস থাকে! ঠিকাদারের শরীরের নুন নুন ঘামের দুর্গন্ধে অভ্যস্ত তেঁতুলের নেশা ধরে আসে। অর্ণব জানে এই দৃশ্যটা পুরো সিনেমাটায় খুব ভাইটাল। এই বইটার উপর তার আগামী বইতে সইয়ের ব্যাপারটা নির্ভর করছে। মরিয়া হয়ে তেঁতুলকে জাপটে ধরে অর্ণব। তেঁতুলের একজাড়া নরম কবুতর তখন অর্ণবের বুকের উপর হাঁসফাঁস করছে। কী যেন হয় তেঁতুলের, সে সত্যি সত্যি কেঁদে ফেলে। হাতের মুঠো আলগা হয়ে গিয়ে ছাগলের দড়ি খসে যায়। ছাগলছানা দৌড় লাগায়। তেঁতুলও পিছন পিছন ছুটতে থাকে। ছুটতেই থাকে…।
পাহাড়ের কিনারে খাদের পাশে এসে ছাগলছানাটা থেমে যায়। মুহূর্তকাল কী ভাবে, তারপর লাফ দেয়। তেঁতুল কঁকিয়ে ওঠে।
ডিরেক্টর বলে দিয়েছে — মনে রাখবে তেঁতুল, তুমি ওকে সন্তানের মতো ভালোবাসো।
ঝুঁকে পড়ে তেঁতুল। ছাগলছানাটা ম্যাঁ–ম্যাঁ করে গড়িয়ে যাচ্ছে। আরও ঝুঁকে দড়িটা ধরতে গিয়ে পা হড়কে যায় তেঁতুলের। ক্যামেরাটা চলছে তখনও।
ঠিকাদার ভয় পেয়ে ভেউ ভেউ করে কেঁদে ওঠে। অর্ণব যেন ঠিক বুঝতে পারে না কী ঘটে গেল।
রোদ পড়ে গেছে। ম্যানেজার শালিনীকে বলেছে ঠিকাদারকে ম্যানেজ করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব তোমার। দশ হাজার পর্যন্ত দেওয়া যাবে। অর্ণব তখনও ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে চলেছে।
কয়েকদিন ধরে অসহ্য দাবদাহের পর আজই সন্ধ্যাবেলা কালবৈশাখীর ঝড় ওঠে। ঠিকাদার ‘দশ হাজার’ আশা করেনি। তাই সে কথা দিয়েছে তেঁতুলের নামটাও ভুলে যাবে।
পরিচালক বিমল হঠাৎ করেই একটা সিদ্ধান্ত নেয় — সিনটা আর করবে না। এটাই থাকবে। একেবারে অরিজিন্যাল ভেবে দারুণ খাবে দর্শক।
কালবৈশাখীর লন্ডভন্ড ঝড়ের মধ্যে একা একা খাদের ধারে এসে দাঁড়ায় অর্ণব। তার কেবলই কান্না পায়। টিমের সবাই, এমনকী ঠিকাদার পর্যন্ত যেখানে সবকিছু সহজভাবে মেনে নিয়েছে, সেখানে তার এত কান্না পাচ্ছে কেন বুঝতে পারে না।
গুমরে গুমরে সিনেমার নায়ক অর্ণব ঘোষাল কেঁদেই চলে — অনেক, অ-নে-ক দিন পর্যন্ত।