মিমির খরগোশ ..

আজ মন ভালো নেই মিমির। সকাল থেকেই বাবাই এর ঘরের দরজায় দু’বার উঁকি দিয়ে এসেছে কিন্তু বাবাই কি জানি কার সাথে কথায় ব্যস্ত।ঠাম্মি সবসময় বলে বাবাই যখন অফিসের কাজ করে তখন যেন মিমি একটুও বিরক্ত না করে।
এই গরমে যখন হারুর মা সব্বার জন্য ওই সাদা গ্লাসে দই দিয়ে মিষ্টি শরবত বানিয়ে দেবে,যখন দাদান সন্ধ্যেবেলা চেঁচিয়ে বলবে”কে কোথায় আছিস রে কাঁচের জানলা দরজা সব বন্ধ কর,দেখছিস না ওই দূরের গাছের মাথাগুলো কেমন নড়ছে,ঠিক তেমন দিনেই যে ওর জন্মদিন।
মাম্মা সকালে উঠে কি সুন্দর ওর মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করে, ঘুম চোখে মিমি দেখে বাবাই ওর উপহার বালিশের পাশে রেখে ওকে চুমা দিয়ে চলে যাচ্ছে আর দাদান ঠাম্মি কোলে বসিয়ে কে আজ খাওয়াবে সেই নিয়ে বড্ড লড়াই করে।প্রতিবার ঠাম্মি জিতে যায় আর মিমি দেখে দাদাই কেমন চোখ পাকিয়ে বলে”বুঝবে যেদিন এই বুড়োটা আর থাকবে না এখানে!”
মিমি বোঝে না এসব, কি জানি দাদাই কোথায় যাবে রাগ করে ঠাম্মির ওপরে , যদিও অনেকবার প্রশ্ন করেছে ঠাম্মিকে কিন্তু ঠাম্মি দাদাইএর পাতে আরেকটু ভাত দিতে দিতে বলে “ও তুমি বুঝবে না,সতীন এর সাথে ঘর করার কি জ্বালা”বলে একরাশ চুমু দিয়ে ওকে দাদাই এর কোলে ধপ করে বসিয়ে দিয়ে যায় বলে”নাও এবার আমার শত্তুরকে”আর দুজনেই হেসে গড়িয়ে পড়ে।
কিন্তু সে কথা এখন থাক,এখন মিমির অনেক কাজ!দুদিন ধরেই হারুর মা ওই শরবত দেওয়া শুরু করে দিয়েছে।দাদাই প্রায় রোজ চেঁচাচ্ছে”ওরে কে কোথায় আছিস ঝড় উঠেছে,সব বন্ধ কর”
নাঃ তার মানে ওর জন্মদিন একেবারে সামনে এসে গেছে।কিন্তু এবার ওকে বলতেই হবে বাবাইকে সব কথা।পা টিপে টিপে দরজার পর্দা সরিয়ে ঘরে ঢুকেই পড়লো মিমি।বাবাই মাথা নিচু করে কি যেন লিখছে।আস্তে ডাকলো”বাবাই ও বাবাই”মাথা তুলে দেখে উঠে এলো ইন্দ্র,মিমির বাবাই।
“কি হয়েছে সোনামা!” কোলে তুলে নিলো মিমিকে।কিন্তু মিমি এখন অত ছোট নেই তো।বেশ বড় হয়ে গেছে।মিমি একাই ছাদে যায় আর ছাদে রাখা খরগোশ আর পাখিদের সাথে ও আর হারু কত খেলা করে।হারু কি সুন্দর কচি কচি পাতা খাওয়ায় হাতে করে,মিমি যদিও তা পারে না একটু একটু ভয় করে কিন্তু হারু বলেছে সে ওকে ঠিক শিখিয়ে দেবে কি করে কোলে নিয়ে আদর করে ওদের খাওয়াতে হয়!
এই দেখো মিমি আবার সব ভুলে যাচ্ছিল এখনও তো বলাই হয়নি বাবাইকে।কানের কাছে মুখ এনে মনের সব কথা এবার বলে দিলো মিমি।বাবাই ঘাড় নেড়ে সব শুনলো আর ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,”এমনটাই থাকিস মা,বড় হয়ে বদলে যাস না যেন”
কি জানি কি এর মানে!মিমি পরে দাদান এর থেকে সব বুঝে নেবে এখন সময় নেই।খরগোশদের খাওয়ানোর সময় হয়ে এলো যে।এক লাফে ছাদে পৌঁছল মিমি।
আজ সকাল থেকেই সবাই ব্যস্ত।আজ যে ওর জন্মদিন।মা আর ঠাম্মি খুব ব্যস্ত।দুপুরবেলা সেই অনেক বাটি সাজিয়ে নতুন জামা পরে খাবে ঠাম্মির কোলে বসে।শুধু এখন অপেক্ষা দুপুরের।
সাদা পরীফ্রক পরে উঁকি মেরে দেখে এলো মিমি,না কেউ কোথাও নেই।মাম্মা এসে ওকে নিয়ে গেলো ঘরে এবার।বড় হলঘরে দুটো আসন পাতা।চট করে এক,দুই তিন করে মিমি গুণে নিলো সব বাটি।না দুদিকেই সমান।
চুপ করে দাঁড়িয়ে এখন মিমি,হারু আসুক,একসাথেই বসবে দুজনে।
খাওয়া শেষ এখন গাজর হাতে দুজনেই ছাদের সিঁড়িতে।আজ খরগোশকে কোলে নিয়ে খাওয়াবে মিমি।
ভাগ্যিস দুদিন আগে জেনে গেছিলো আজ হারুর জন্মদিন।
তাই তো বাবাইকে বলেছিল।খরগোশটা খেতে খেতে একবার মুখ তুলে দেখলো মিমিকে,কি জানি কি ভাবলো আর একলাফে হারুর কাছে পালিয়ে গেলো।ওদের হাসিতে ভরে গেলো ছাদের সব কোণা ..
সব জন্মদিন যেন এমনই হয় ..