জন্মসূত্রে কলকাত্তাইয়া কিন্তু কর্মসূত্রে দিল্লিবাসী। রম্যরচনা বা খাদ্য সংস্কৃতিতে বিচরণ করেন। আজকাল ব্যক্তিগত গদ্যের দিকে মন দিয়েছেন। রম্যরচনার ফিসফাস সিরিজের তিনটি ও একটি 'অ্যাইসি কি ত্যাইসি' বই, গল্পে 'ইয়র্কার এবং অন্যান্য গল্প' ছাড়াও খাদ্য সংস্কৃতির উপর 'ফিসফাস কিচেন'। এই বইগুলি সৃষ্টিসুখ থেকে। সম্প্রতি শিল্পী পিউ মহাপাত্রের সঙ্গে মিলে একটি ব্যক্তিগত গদ্য ও ছবির বই করেছেন 'চিনে মাটির পুতুল'। অপর ব্যক্তিগত গদ্যের বই 'অন্য কানাকানি', প্রকাশক দ্য ক্যাফে টেবিল।

সব মরণ নয় সমান (৫)

এও কি মরে যাওয়া নয়?
সব চেনা পরিধিগুলো অপলক চেয়ে থাকে
চিনেছে বহুকাল, কিন্তু চেনেনি আমায়
চেনেনি, আমারই সূর্য ছুঁয়ে ডুবে গেছে আকাশ
কবে, কোন অনিমিখ পাতে
ফুরিয়েছে সব, ফুরোয়, ফুরোয় সবই
আজ নয়, আজ নয়, গত বা আগামী কাল
তবু ছোট ছোট পদে লেখা হয়
শেষ নিঃশ্বাস।
হয়তো বা শেষ নয়, এরপরেও কিছু থাকে
বাকি নয়, বাকি নয়
সব চুকেবুকে গেলেও থাকে তারা
ভোর আসে, ভোর হয়, রাত রাত একা একা তারা জ্বলে তাতে
অন্ধকার মুছে গেলে তারাও মুছে যায়, তারারাও
তবু মৃত্যু আসে অখণ্ড নিয়তির বেশে
ঝেড়েপুঁছে নিয়ে যায়
বাকি পড়ে থাকে আজকাল।
মরণের গল্পরা কে বা লেখে? কী বা লেখে তাতে
কখনও বা ডুবে গেলে মরণের পরে
মরণের গল্পরা নিজেকেই লিখে লিখে যায়
সময়কে সময়, সুতো সুতো জুড়ে।
এভাবেই মরে যাই আমি গল্পের সুতো হয়ে
সময়কে সময় দিয়ে জুড়ে।

 

সব মরণ নয় সমান (৬)

হাত ধরে থাকা যায়
শোবার সময়টুকু শিরদাঁড়াটা ব্যথা হয়
ক্ষয় হয়, ছুঁয়ে থাকো যদি
যদি সিঁড়ি দিয়ে নেমে না আসি?
দুপুরের ফোনে ‘খেয়েছ কি?’
না আসে, আসে না নাই বা আসে
তবুও ধরে থাকা যায়
হাত। যেটুকুতে ছিল তুমি
তার অনেকটাই মুছে গেছে কাল
আজ তবু এতটুকু ছোঁয়া নিয়ে
রয়ে গেছে তারা
হাত। হাতে এসে পড়েছিল ছায়া
চাঁদের কলঙ্কের মতো কালো হয়ে মিশে মিশে গেছে তবু
হাত ছুঁয়ে কিছু কিছু রঙ অন্ধকারে ডুবে গেছে গতকাল
সবই হারিয়েছে যেমন, হারায় সময়
তবুও সে ভোর ভোর
সকালের আগে আঙুলে আঙুল ছুঁয়ে
মরে গেছি আমি আর
হাত ছুঁয়ে আলো হয়ে নেমে গেছ তুমি
সিঁড়ি দিয়ে রেলিঙে হাত রেখে
বুকের গভীরটুকু কাছে কাছে রেখে
ধরে থেকে গেছ, গেছ আরবার আরেকবার
হাতে হাত, ধরে থাকা যায়। যায় যায় হাতে হাত
ধরা থেকে যায়।

ক্রমশ…
Facebook Comments