সিনেমার নিজের চলার পথ যেমন অসংখ্য তেমনই জীবন মরণের সীমানা ‘ছাড়ায়ে’ও সে কত যে রঙ রূপ ফুটিয়ে তুলতে পারে তা আমরা ‘পথের পাঁচালী’ থেকে ‘অযান্ত্রিক’-এ দেখেছি। সিনেমার অবজেক্টিভ রিয়্যালিটির সাবজেক্টিভ এক্সপ্রেশন ধরে আমরা হাঁটতে হাঁটতে অনুভবের মেরু থেকে প্রযুক্তির তুষারে চলে যাই। স্থান ও কালের অবস্থানানুপাতের দ্রুত পরিবর্তন ও সম্পাদনার মধ্য দিয়েই সিনেমা ধারাবাহিক, গতিময়, বিচিত্র। শিল্পগত কলাকৈবল্য ছাড়াও এগুলি সিনেমার উৎকর্ষতা ও গুণগত মানের পরিচায়ক।
বাংলা ছবির বয়স কত? দেশ স্বাধীন ও ভাগ হওয়ারও আগে চোখ মেলেছিল বাংলা সিনেমা। প্রায় পনেরো বছর আগে তো বটেই। নির্বাক ছবি অবশ্য তারও প্রায় তেরো বছর আগে থেকেই ডালপালা মেলেছিল। ঠিক কথা বলতে গেলে এই বাংলার হীরালাল সেনই ভারতীয় চলচ্চিত্রের পথিকৃৎ।
ঠিক চলচ্চিত্র যে শিল্প, তার সঙ্গে মানুষ-সমাজ-রাজনীতির দিনরাত্রির যোগসাজস রয়েছে, জীবনের মূল সত্যকে যে চলচ্চিত্র ছুঁতে পারে এই সত্যিটা তখনকার বাংলা ছবি এমনকি তখনকার ছবি নির্মাতারা বুঝে উঠতে পারেননি। লক্ষ্যনীয় স্বাধীনতার জন্য বাংলা ও বাঙালির সংগ্রাম, তেতাল্লিশের মন্বন্তর, কলকাতার রাজপথে মৃত্যু-মিছিল, দেশভাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা, ভাতৃঘাতী দাঙ্গা, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মানবতা ধ্বংসকারী ফ্যাসিবাদের উত্থান – একের পর এক ঘটনার একটিও কি তখনকার বাংলা ছবির কোথাও এতটুকু ছায়া ফেলেছিল? একটি ছবির একটি দৃশ্যেও না।
শ্রেয়সী কাঞ্জিলাল