তোমাদের জন্য আমি আর আমার জন্য শুধু তোমাদের স্নেহ ও অকুণ্ঠ ভালোবাসা—

আমি শুধু লিখি সবার জন্য ,নিজের মনের বন্ধ কুঠুরীতে সযত্নে সাজিয়ে রাখার জন্য নয়,বা কিছু গুণী ব্যক্তির বাহবা শোনার জন্য নয়,আর আমি দেখছি আমার মতো সাধারণরাই আমার কবিতা পড়ে নিজের জীবনের সাথে মিলিয়ে নেয় ,আর আমাকে বলে –“আরে এ তো ঠিক আমার জীবনের কথা ,তুমি জানলে কি করে!”আর এটাই আমার লেখার বড় প্রাপ্তি ,আমি মানুষের কথা লিখি, মানুষের জন্য লিখি মানুষের মধ্যে থেকে লিখি আর ঠিক এভাবেই লিখে যাবো আর আমার মতো সাধারণরা তাতে নিজের জীবন খুঁজে পাবে এর থেকে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে বলে আমার মনে হয় না।কারণ একটা মানুষকে আর তার বোধ অনুভূতিগুলিকে যদি আমি ঠিক তার মতো করে ছুঁয়ে যেতে পারি তাতেই আমার সব লেখার সার্থকতা, আমার জীবনের পরম প্রাপ্তি।
সেদিন বাংলাদেশের এক ভাই বললো, “আপু আমার মা আমার টাইম লাইনে স্ক্রল করে করে তোমার লেখা গুলো পড়েন,উনি তোমার লেখা পড়তে ভালোবাসেন,”আমার চোখে জল এসে গিয়েছিল বললাম ,ভাই আমার থেকে তোমার মাকে অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দিও।আমার দুই  প্রিয় বোন হির্ষিকা দাস এবং শ্রেয়শী বারবার আমার লেখাতে ওদের জীবনটাকে খুঁজে দেখতে চায়,আমার এক বন্ধু সেদিন আমার শূন্যতা ‘কবিতা পড়তে পড়তে বললো, “নিজের জীবনকেই একবার মিলিয়ে নিলাম,হয়তো আমার কথা”।এই তো সেদিন আরেক বন্ধু ও দিদি বাসন্তী সেনগুপ্ত  আমার আজকের কবিতা পড়ে বললো ,”রুনা ,শেয়ার না করে পারলাম না ভেতরের ক্ষত গুলোকে উস্কে দিলে”,এর থেকে আর বড় পাওয়া আর কি !এমন প্রায় প্রতিদিনই আমার মতো সাধারণরা সবাই বলছে -” তোমার কবিতা জুড়ে তো  আমাদের কথা আমাদেরই জীবনের কথা তাই শেয়ার করলাম”, তাই আমার শব্দ আমার অনুভূতি সবকিছুই যেন সবার কথা হয়ে উঠেছি ধীরে ধীরে।
সেদিন আমার পরম শ্রদ্ধেয় দি আমার কবিতা শিক্ষিকা গীতালী দি যিনি কবিতাকে একটা নিজস্ব সত্ত্বা বলে মনে করেন ,কবিতাকে ঠিক একটা মানুষের মতো অবয়বে,ঠিক মানুষের মতো অনুভূতির সাথে সবার সামনে তুলে ধরেন তিনি যখন আমার’ রূপান্তরকামী’কবিতা পড়ে বলেন,” সত্যি তুমি এদের ভেতর টা ধরতে চেয়েছো, এদের নিয়ে কবিতা সে ভাবে কেউ লেখেনা “,তখনো আমার চোখে জল আসে!এই আপাত ছোট ছোট অথচ গভীর অনুভবের প্রাপ্তি গুলোই আমাকে এগিয়ে যেতে সাহস দেয়,অনুপ্রেরণা যোগায়।
আমার শ্রদ্ধেয় বাংলাদেশের রফিক নিজাম দাদা যখন ভালোবেসে আন্তরিকতার সাথে আমার কবিতার গভীরে গিয়ে এমন সুন্দর বিশ্লেষণ করেন যা আমাকে আরো গভীরতায় নিয়ে যায়,আরো ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। আমার এক বন্ধু বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য্য বাপন  যে আমাকে সাহস দিয়ে  বলে আমি নাকি তার প্রিয় কবির সারিতে পড়ি, আমি আপ্লুত হই, আরো ভালো লেখার কথা ভাবি।আমার আরেক শ্রদ্ধেয় সুমিত দাস দাদা যার কথা না বললেই নয় যিনি আমার প্রতিটি লেখা খুঁটিয়ে পড়েন এবং গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেন।আমার প্রিয় ভালোবাসার কবি ও ভাই নজরুল ইসলাম সবসময়ই আমাকে ভালোবেসে অনুপ্রেরণা দিয়ে চলেছে এও আমার পরম প্রাপ্তি।
আমার আরেক প্রিয় কবি এবং মানবিক বন্ধু প্রসেনজিৎ মুখার্জী যে আমার সব কবিতার সুখ দুঃখের সাথী হিসেবে পাশে থাকে সাহস দেয় অনুপ্রেরণা দেয় । আমার আরেক বন্ধু প্রসেনজিৎ কুমার মুখার্জী  যে আবিষ্কার করেছে আমার ভেতরের ছাই চাপা আগুনকে । এছাড়াও আমার অজস্র সন্মানিয় কবি বন্ধু দাদা দিদি আছে যারা প্রতিনিয়ত আমায় উৎসাহ দিয়ে  চলেছে এবং ধরে ধরে ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিচ্ছে তাদের নাম না বললেই নয় যেমন পুষ্পিত মুখার্জী দাদা, প্রবাল বসু দাদা  অনুপম দাশশর্মা দাদা ,  হেমন্ত সরখেল দাদা ,পরান মাঝি দাদা  , সুদীপ দত্ত দাদা  , উদয়ন গুহ দাদা  অমল বিশ্বাস দাদা ,রিলূ রিয়াজ ভাই , তাইজার রেজা ভাই যারা নিরন্তর আমার ঠিক  ভুল দুইই ধরিয়ে আমার লেখনীকে মার্জিত করে চলছে।  এছাড়া ও একজন প্রিয়  কবি বন্ধুর নাম উল্লেখ না করলেই নয় সে হলো কবি অভিজিৎ দাশ কর্মকার যে ঘণ্টার ঘণ্টার পর নিজে ফোন করে আমাকে কবিতার অ আ ক খ শিখিয়েছে একমাত্র ওর জন্যই আমার আধুনিক লেখার ধারণায় সম্পূর্ণ বদল আসে ।
এদের সাথেই আমার খুবি প্রিয় কবি ও লেখিকা দিদি রীনা সাহা,  রীনা চৌধুরী , রীনা সাহা মজুমদার , মিথিলা মজুমদার , মাধুরী বরগাঁও , কাকলী মজুমদার , প্রিয় ডলি রেজা ভাবি , রেবেকা রহমান দি ,অনামিকা বেজ এদের নাম একদমই প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় কারণ এদের মূল্যবান ও আন্তরিক মতামত আমায় সবসময় এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। এছাড়াও বোন সুস্মিতা, রুমকি রূসা , প্রিয় বোন অনুব্রতা সহেলী বিনিতা দিপান্বিতা বিশ্বাস যারা  হয়তো আমার লেখা পড়ে উঠতে পারে না কিন্তু আমায় বেশ  মিস করে এটা বুঝতেও পারি ।
আরো কিছু খুব প্রিয় দি ও দাদা আছে যেমন রীনা শান্তনু গুপ্ত দি , নীলু দি , রুমা মজুমদার দি , পাপিয়া দত্ত দি , রুনু দি , সুবীর পাঠক দাদা , সুদীপ সরকার দা যারা আমার লেখাকে মন দিয়ে উপলব্ধি করে। বান্ধবী সোমা সাগতা সঞ্চিতা এরাও আমার প্রতিটি লেখার মধ্যে দিয়ে আমাদের নিজেদের জীবনকে ছুঁয়ে যায়। এও আমার পরম প্রাপ্তি।
দুই শিল্পী ভাই আছে রাজা বিশ্বাস ও বিবেক শ্রুতি শর্মা যাদের মনে আমার কোন কোন লেখা কখনো কখনো ছুঁয়ে যায় যা আমার বিশেষ প্রাপ্তি।
এছাড়াও আমার অজস্র কবি বন্ধু ভাই বোন দিদি আছেন যারা আমাকে সতত অনুপ্রেরণা এবং সাহস দিয়ে যান যাতে আমি আরো ভালো লিখতে পারি। এমন অনেকেই আছেন সবার নাম এই স্বল্প পরিসরে উল্লেখ করতে পারলাম না তারজন্য ক্ষমাপ্রার্থী।
তাই এই মাত্র কয়েক দিনের লেখালেখির জগৎ এ এসে আমার প্রাপ্তির ঝুলি মানুষের ভালোবাসায় অনুপ্রেরণায় আজ অনেকটাই পূর্ণ। তাই কোন মেডেল, সম্মান পত্র আমাকে সে ভাবে টানে না আর ভাবায় না কারণ আমি মানুষ হিসেবে আমার লেখার মধ্যে দিয়ে মানুষকে, মানুষের জীবনকে মানুষের অনুভূতিকে বারবার ছুঁতে চেয়েছি আর সে জায়গায় আমার মনে হয় আমি কিছুটা হলেও মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পেরেছি।
পরিশেষে যাদের কথা না বললেই নয় কিছু ওয়েব ম্যাগাজিন যেমন মুজনাই,  ঋতুযান , Tech touch টক।  এবং প্রিংটেড পত্রিকার মধ্যে  নতুনশতক মানকলম পত্রিকা, ঋতুযান , কৃত্তিবাস , মধ্যবর্তী,  গদ্যে পদ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে , কচিপাতা  প্রকাশনীর কবিতা গল্প সংকলন ,অনুভবের  আয়না , খেয়া ৯,বর্তিকা এদের মতো বিশিষ্ট  মাসিক পত্রিকা আমার লেখাকে স্থান দিয়ে আমার সাহস ও ভরসার জায়গাকে আরো পোক্ত করেছে ও কবিতাকে আরো স্বচ্ছতার সাথে ও পরিণত দৃষ্টিতে দেখার একটা দরজা আমার সামনে উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
 এই প্রাপ্তিকে পাথেয় করেই আমি এগিয়ে যাবো মানুষের জন্য মানবিক পৃথিবীর পথে  তোমরা শুধু সাথে থেকো  পাশে থেকো । এভাবেই ভালোবেসো আর শুধু মনে রেখো।