আগামী পৃথিবীর গল্প

এক দুই তিন…
গুনতে গুনতে বৈঠা চালাই, হাল বহাল রাখি স্খলিত সময়ে। এই তো সবে ঘড়ির কাঁটার রাজপাট চুকিয়ে নেই সময়ের সীমানায় ঢুকে দিব্যি তাসের দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছি। থইথই করছে চারদিকে জল।
“জল শুধু জল
দেখে দেখে চিত্ত মোর হয়েছে বিকল।”
কে যেন লিখেছিলেন গত পৃথিবীর কাগজে। সেই ইতিহাস এক এক অক্ষরের জোরে আসছে প্রজন্মকে শুনিয়ে যাব আমি। ওরা বাহ্ বাহ্ বলতে বলতে মাথা নাড়বে এপাশে ওপাশে আর জেনে যাবে গত গোলোকের মাটিতে হ্যান ত্যান যত্তোকিছু বদহজমের অম্লদাগের পাশাপাশি ধমনীতে বইতো সেই চিরেচ্যাপ্টা হয়ে যাওয়া শব্দটা – ‘ভালোবাসা’।
অনেকেই ঘুম থেকে উঠতেই পারেনি। কাটাকাটা স্বপ্নের ভেতরে হু হু করে ঢুকে পড়েছিল জল। নিশাচর হওয়ার সুবাদে নৌকাটা, আলুটা মুলোটা বাঁচিয়ে চারপাশের পিএনপিসি চোখ এড়িয়ে ভাগ্যিস নোয়াকাকুর নৌকায় সব গুছিয়ে রাখতে পেরেছি!
কিচ্ছু মনে হয় বাকি নেই আর। কত স্থল ডুবে গেল, নতুন প্রেমে জেগে উঠল কত! আমার একমাত্র কাঠের নৌকায় পঞ্চশস্য, পঞ্চতন্ত্র, পাঁচ পশু, পাঁচ পাখী।
এ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক চিত্রনাট্য অনুযায়ী। কিন্তু ওই যে দূরে এক খাবলা জমি জলের মধ্যে টাল খাচ্ছে, ওটা ছিল একসময়ের কাঞ্চনজংঘার চূড়া। আরেকটু উত্তরে একটু বেশী জমি নিয়ে আকাশে নাক ঘষছে এককালের গোলোকের এভারেস্ট। এখন সেটা বেঁচেবুচে থাকা যৎসামান্য সমতলের এবড়ো খেবড়ো এক বিশাল মাঠ।
একটাও চেনা কিম্বা অচেনা মানুষ চেতন বা অবচেতনে ঘাই মারছে না। এটিএমগুলোতে জল ঢুকে সব কাগজের প্রেমিকা নষ্ট হয়ে গেছে।
আমি দাঁড় বাইছি। আমি চুষছি বারমুডার বুক পকেটে রাখা তোয়াজি ললিপপ।
গতকাল রাতেই মেরু পরিবর্তণ করতে গিয়ে অসাবধানে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেছে।
Facebook Comments