সৃষ্টিরা

কবিতা লিখবো ভেবেছিলাম
কিন্তু বদলে ভাজলাম ফুলকো লুচি
সময় লাগলো কবিতার মতই-প্রথম খসড়ার।
এ সৃষ্টির খসড়া নেই,
বার বার মহড়ার নেই সুযোগ,
ফুলে ওঠার সাথে সাথেই পাতে দেওয়ার তাড়া।
ল্যাপটপ, কাগজ, জলের গ্লাস,
কফি কাপের ব্যস্ত টেবিলে
আঙুল-চাটা কলরব।
মাটিতে পড়ে থাকা
গাড়ি, বাস, রং পেন্সিলের
মালিকদের “ইয়াম ইয়াম” পছন্দ।
সাথে কালোজিরে আর কাঁচা লংকার
হালকা ছোঁয়া দিয়ে সৃষ্টি
ফুলকপি আলুর সাদা তরকারি|
পরিজন বলল, “আর নেই?”
শিশুরা চাইলো, “আরও একটা, প্লিজ?”
বন্ধুরা বলল, “এ মা, শেষ হয়ে গেলো?
মাত্র এই কটা বানিয়ে থেমে গেলি?”
কবিতার জন্ম এরকম নয়,
ছেঁড়া কাগজের কাটাকুটি,
প্রথম খসড়া সরিয়ে রেখে
বহু দিন পরে ফিরে আসা।
তারপর অপেক্ষা, অজানা
পাঠকের করুণার,
দিন, মাস, যুগ গোনা,
অদৃশ্য করোনা আততায়ীর
নীরব নিস্তব্ধ প্রতীক্ষা যেমন।
চাটা আঙুলের সুবাস বার বার ঘষে মেজে
ধুতে ধুতে মহামারীর আগমনী।
কেবল মাত্র একটা কবিতা লিখতে চেয়েছিলাম।