ভালবাসাগুলো মরে গিয়ে বেঁচে থাকে

মোটর বাইকটা এ আর এ প্লাজার সামনে আসতেই লুনা থামতে বললো।
আসাদ রাস্তার সাইড ঘেঁষে বাইক দাঁড় করলে লুনা আসাদের হাতটা আলতো করে ধরে মলের ভেতর ঢুকে একটা কফিশপের দিকে এগোতে  দূর থেকেই শাহিদ কে দেখতে পেলো। জলপাই সবুজ শার্ট, মাথার চুল ছোট করে ছাঁটা আনমনে কী যেন একটা দেখছে।

গত কয়েকমাসে একটু মোটা হয়েছে সম্ভবতঃ। আগের চেয়ে ফরসা লাগছে। লুনা আসাদের দিকে তাকিয়ে মৃদুস্বরে বললো,ঐ যে শাহিদ।

আসাদ মাথা ঝোঁকালো। চিনতে পেরেছে।

সরি,দেরি হয়ে গেলো- লুনার কন্ঠে শাহিদ চমকে উঠলো। তারপর একবার আসাদের দিকে তাকিয়ে লুনাকে বললো,সমস্যা নেই। এসো ভেতরে গিয়ে বসি।
এই কফি শপটায় আগে কখনো আসে নি লুনা। আসাদই এটার কথা বলেছে। তিনজনে কোণের দিকের একটা টেবিল নিয়ে বসলো। বন্ধের দিন হলেও এখানে তেমন ভীড় নেই। বরং বেশ খালি।

এদিক সেদিক তিন চারটা টেবিলে লোকজন আছে। তাদের কথার মৃদু শব্দ ছাড়া সব চুপচাপ। ডিসেম্বরের সন্ধ্যে বিকেল পাঁচটাতেই নেমে আসে। কিংবা নিরিবিলি কফিশপের গাঢ় কাচের দেয়াল,ঘন পর্দার কারণেও সন্ধ্যা নেমেছে মনে হচ্ছে। পরিবেশটা ঘুম ঘুম!

তারপর, কেমন আছো তুমি- নিরবতা ভাঙে লুনার কন্ঠস্বর।
শাহিদ মৃদু হাসে,এই তো কেটে যাচ্ছে।  খারাপ না, ভালোই।

ভালো হলেই ভালো- আঙুলের নখ খুঁটতে খুঁটতে আনমনে বলে লুনা।

শাহিদ, আসাদ ওরফে রাফির দিকে তাকায় একবার।  তারপর প্রশ্ন করে, উনি কে? যদিও উত্তর আন্দাজে জানাই।

লুনা আসাদ ওরফে রাফির সাথে শাহিদের পরিচয় করিয়ে দেয়। রাফি যে ওর বয়ফ্রেন্ড,শীগগিরই ওরা বিয়ে করবে একথা শাহিদকে জানানোর  পাশাপাশি শাহিদের সাথে নিজের বন্ধুত্বের গভীরতাটুকুও রাফিকে জানায়।।

হাত মেলাতে মেলাতেই আরো একবার রাফিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নিরীক্ষা করে শাহিদ। রাফি সুদর্শন। সাধারণ বাঙালির চাইতে বেশ লম্বা। ফর্সা। এদেশে ফরসা ছেলেদের সাধারণত বোকা বোকা লাগে। কিন্তু রাফিকে বোকা তো লাগছেই না। বরং স্মার্ট লাগছে বেশ।

শাহিদ লুনাকে বলেই ফেলে, তুমি তো কালো ছেলে পছন্দ করতে। উনি তো ফরসা।

ঠিক এই সময়েই আসাদ ওরফে রাফি বলে ওঠে,সুইটি! আসার সময় বললে তোমার মাথা ধরেছে। আমি কফির কথা বলি। আর কি অর্ডার করবো,বলো। আর ভাই আপনি বলুন, কী খাবেন?শেষের বাক্যটা শাহিদকে লক্ষ্য করে।

আপনি বসুন। আমি অর্ডার করছি- শাহিদ   উঠতে যায় কিন্তু রাফি শাহিদকে কথা বাড়াতে দেয়  না। অর্ডার দেয়ার জন্য কাউন্টারের দিকে এগিয়ে যায়।

লুনাকে দেখে শাহিদ। একজন মানুষ মাত্র ছয়মাসে কীভাবে এতো বদলে যায় শাহিদের মাথায় আসে না।

লুনা কী আগের চেয়ে একটু কালো হয়ে গেছে? চোখ দুটো একটু বসা বসা লাগছে না? তারপরই ভাবে, এটা তার নিজেরই ভুল। লুনা নতুন প্রেমে পড়েছে, এখন ওর  সুন্দর হবার সময়!

শাহিদ তীক্ষ্ণ চোখে লুনাকে লক্ষ্য করে। লুনা কখনোই অপরূপা সুন্দরী  ছিলো না। কিন্তু তারপরও চলায়, আচরণে, কথায় কী যে একটা আকর্ষণ- ঠিক জানে না শাহিদ। অথচ ওদের পরিচয় প্রায় সাত বছরের। —- কী সহজেই না সম্পর্কটা ভেঙে দিলো লুনা-ভাবলো শাহিদ।

শুরুটা তো লুনাই করেছিলো!

২)

সবেমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে শাহিদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কিছুই ভালো লাগে। মিছিল,শ্লোগান থেকে শুরু করে গাছ-পালা, ঝরা পাতা, ছেলেমেয়েদের কোলাহল- সব কিছুতেই ও মুগ্ধ  হয়। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হলেও বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান হিসেবে ও বড় হয়েছিলো প্রবল যত্নে। যাকে এক কথায় তোলা তোলা করে বলা যায়। ভার্সিটিতে এসে বাবা মায়ের দৃঢ় বন্ধন থেকে একটু মুক্তির স্বাদ পেয়ে ও অভিভূত। তেমনি এক বিকেলে টি এস সির সামনে বসে একা একা চা খাচ্ছিল। ঠিক সে সময়ে লুনা এসে সামনে দাঁড়ালো, তুমি আমাদের সাথে পড় না?

লুনাকে ক্লাসে দেখেছে শাহিদ। তবে কথা হয়নি। লুনা সরাসরি তুমি বলাতে ও একটু বিস্মিত হয়। লুনা বলে, আমরা একই সাথে পড়ি। তাই তুমি বলেছি। ক্লাসমেট কে আপনি বললে ভালো দেখায় না। ঠিক বললাম না!

শাহিদ মাথা নাড়ে।

আজকে রুনি, মামুন আর আমার শিল্পকলায় যাওয়ার কথা ছিলো। একটা আবৃত্তির অনুষ্ঠান আছে। ওরা এখনো আসে নি। ইন্ডিয়া থেকে শ্রেয়া আসবে। জানো তো, ও খুব ভালো কবিতা পড়ে। ছয়টায় প্রোগ্রাম শুরু হয়ে যাবে। তুমি চলো আমার সাথে।- এক নাগাড়ে  বলে চলে লুনা।

শাহিদ একটু দ্বিধা করলেও পরে লুনার সাথে যায়। রিক্সায় যেতে যেতে পরিচয় পর্ব টাও  শেষ হয়।

তারপর আর কি! বন্ধুত্ব থেকে কখন যে প্রেম হয়ে যায় বুঝেনি কেউ ই।

লুনা যেদিন প্রথম শাহিদকে বললো, জানো তোমার সাথে একদিন কথা না হলে আমার ভীষণ মন খারাপ হয়। সেদিন শাহিদ ও মনে মনে একথাটাই পুনরাবৃত্তি করেছিলো। তবে মুখে বলেছিলো,কিন্তু একদিন তো আমাকে ছাড়তেই হবে।

কেন?

বাহ। তোমার বিয়ে হয়ে যাবে। ঘর সংসার হবে। তখন তো আর আমার সাথে রোজ কথা বলতে পারবে না-

কিন্তু আমি যদি তোমাকে বিয়ে করি?

মানে? অবাক হয় শাহিদ।

চমকে উঠলে যে? আমাকে বিয়ে করবে না তুমি?  অবশ্য করবে কেন,আমি তো আর ফরসা,সুন্দরী নই- দীর্ঘশ্বাস ফেলে লুনা।

শাহিদ আসলে লুনার কথাগুলো যে সত্যি,সেটাই ভাবতে পারছিলো না। ও কন্ঠে একরাশ বিস্ময় নিয়ে বললো, তুমি? বিয়ে করবে আমাকে? আমি কেমন কালো আর বোকা বোকা। চেহারা পচা—

তোমার এই কাইলঠা রং ই আমার পছন্দ। লুনা কালো কে মজা করে কাইলঠা বলে। লুনার কথা শেষ হতেই দু’জনে হাসিতে গড়িয়ে পড়ে!

৩)

বছর খানেক আগে পাস করে বেরিয়েছে দু’জন। একটা আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাকরি হয়েছে শাহিদের।  সংস্থাটি সহায় সম্বলহীন দরিদ্রদের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করে। শাহিদকে বিভিন্ন রিমোট এলাকাতে  কাজ করতে হয়। দুই বছর প্রবেশনারি তারপর হেড অফিসে পোস্টিং।  দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াবার সুযোগ।

আর লুনা ঢাকাতেই একটা কলেজে জয়েন করেছে।

দুই পরিবারে মোটামুটি কথাও হয়েছে। শাহিদ দুবছর গ্রামে কাটিয়ে ঢাকায় ফিরে এলেই বিয়ে হবে ওদের।

কিন্তু বিরহ সহ্য হচ্ছিল না দুইজনের কারোই। শাহিদের রিমোট এলাকাতে মোবাইলে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।  দিনের পর দিন যোগাযোগ হয় না, কথা হয় না ওদের। ফোনে কথা হলেই লুনা বলে,তুমি কাজটা ছেড়ে দাও তো। ঢাকায় এসে অন্য চাকরির জন্য চেষ্টা কর। আমার বেতনেও দু’জনের দিব্যি চলে যাবে। এভাবে দূরে দূরে থাকতে আর ভাল্লাগছেনা।

শাহিদেরও ভালো লাগে না দূরে থাকতে। কিন্তু গ্রামের ঐ হত দরিদ্র মানুষগুলোর জন্য ভীষণ মমতা অনুভব করে। তাদের জন্য কাজ করতে পারার এ সুযোগটুকু ও আল্লাহর আশীর্বাদ বলে মনে করে।  নিজের মনের কথা লুনাকে বলে। লুনা চুপ করে শোনে।

শাহিদকে লুনা ভালোবাসে।  কিন্তু অসহায় মানুষদের পাশে থাকতে শাহিদ ভালোবাসে। বিষয়টা ওরও ভালো লাগে।

সব তো ভালোই ছিলো।
মাস খানিক আগে হঠাৎ দশদিন একটা চর এলাকায় কাটিয়ে এসে শাহিদ যেদিন লুনাকে ফোন দিলো সেদিন লুনার কন্ঠস্বর শুনে শাহিদের বিস্ময় কাটে না। লুনার কন্ঠস্বর ভাবলেশহীন।আগে শাহিদের ফোন পেলে যে উচ্ছ্বাস , যে আবেগ তার কন্ঠস্বরে ঝরে পড়তো,ফোনের অন্যপ্রান্ত থেকেও সেই ভালোবাসার উষ্ণতা অনুভব করতে পারতো শাহিদ লুনার সেদিনের ফোনে তার কোনো চিহ্ন মাত্র নেই। সে কন্ঠস্বর নিষ্প্রাণ।

ও, আচ্ছা,  ঠিক আছে এমন কিছু শব্দ বলে ফোন রেখে দিলো লুনা। শাহিদ বার বার জিজ্ঞেস করলো, লুনার কী হয়েছে? শরীর খারাপ কী না। ইত্যাদি ইত্যাদি। “আমি ঠিক আছি” বলে ফোন রেখে দেয়ার পর আর ফোন রিসিভ করেনি লুনা।

শাহিদ প্রথমে ভেবেছিলো এটা রাগ-অভিমান। পরে ঠিক হয়ে যাবে। লুনাই আবার ফোন করবে কিন্তু দুদিন কেটে যাবার পরও লুনা যখন ফোন করলো না, রিসিভও করলো না তখন শাহিদ সত্যিই অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে মা কে বিষয়টা জানিয়ে লুনাদের বাসায় যোগাযোগ করতে বললো। আর শাহিদ জানতে পারলো, শাহিদের বাবা মা লুনাদের বাসায় গেলে লুনা তাদের সাথে দেখা পর্যন্ত করেনি। লুনার বাবা মায়ের ডাকাডাকি সত্ত্বেও লুনা বের হয়ে আসেনি। ছোট বোনকে দিয়ে  জানিয়ে দিয়েছে শাহিদকে ও বিয়ে করবে না।

কেন করবে না- এর কোনো উত্তর দেয়নি লুনা। কেবল বলেছে- সম্ভব না।

এ কারণেই অফিস থেকে অত্যন্ত জরুরী বলে ছুটি ম্যানেজ করে ঢাকায় এসেছে শাহিদ। লুনার সাথে কথা বলবে বলে।

লুনা ফোনে কথা বলেনি কেবল মেসেঞ্জারে শাহিদের টেক্সট এর জবাব জানিয়েছে,  দেখা করতে রাজি হয়েছে।

৪)

লুনা কফিতে চিনি মেশাচ্ছিল। শাহিদ সেদিকে তাকিয়ে। লুনা চা, কফিতে তিন চামচ চিনি খায়। আর দু’চামচ নেয়ার পরই শাহিদ হাত চেপে ধরে “আর না ম্যাডাম” বলে।
শাহিদ ভাবছিলো, আজো তাই করবে কী না। বা  আজ সেটা করা উচিত হবে কী না। ভাবতে ভাবতেই শাহিদ দেখলো লুনা তৃতীয় চামচের জন্য হাত বাড়াতেই রাফি লুনার হাত চেপে ধরে বলে উঠলো, উঁহু সুইটি! আর চিনি নেয়া যাবে না।

লুনা রাফির দিকে তাকিয়ে হেসে ফেললো
তারপর চামচ নামিয়ে রেখে শাহিদের দিকে তাকিয়ে বললো, বুঝলে শাহিদ রাফি আমার প্রতি ভীষণ কেয়ারিং। রাত জাগলে আমার মাথা ব্যথা হয়,ও জানে। তাই আমি বিছানায় গিয়ে কোনোরাতে গুড নাইট না বললেই ও টেনশন করে, আমি রাত জেগে আছি কী না ভেবে! — আই লাভ হিম সো মাচ।

শাহিদ একটা দীর্ঘশ্বাস চেপে শুষ্ক হেসে বললো, তাই!

প্রতিটা মেয়ে, সে যতোই শিক্ষিত আর গুরুত্বপূর্ণ কাজ করুক না কেন, দিন শেষে মনের খুব গোপনে একজন প্রিয় পুরুষের কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে নির্ভার হতে চায়- কথাটা শাহিদকে ওর এক বন্ধু বলেছিলো। কথাটা কতোটা সত্যি শাহিদ জানে না। তবে এ মুহূর্তে লুনার কথাবার্তা আর রাফির সাথে ওর আচরণ দেখে শাহিদের মনে হয়, হয়তো কথাটা সত্যি। লুনা তো আগে ওর সাথেও সন্ধ্যার পর কয়েক ঘন্টা গল্প করতো। দিনের সব খুঁটিনাটি শাহিদকে না বলে শান্তি পেতো না। এখন তো দু’জনের প্রায়ই যোগাযোগ হয় না।

ও তাই মনে মনে লুনার সাথে রাফির সম্পর্ক অন্যায় ভাবতে পারে না। ভালোবাসা মানে তো প্রিয় মানুষটিকে ভালো রাখা। তাহলে শাহিদ কেন চাইবে না লুনা সুখি হোক!

অল্প কিছু সময় পর ওরা বিদায় নেয়ার একটু আগে হঠাৎ একটা জরুরি ফোন আসায় রাফি  বাইরে চলে গেলে  লুনা মৃদুস্বরে শাহিদকে বললো, তুমি আমার ওপর রাগ কোরো না।তুমি কবে ফিরবে তা অনিশ্চিত আর আমি এতো নিঃসঙ্গতা মেনে নিতে পারছি না।
লুনার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে শ্রাবণ ধারার মতো। ঐ চোখের অশ্রু শাহিদকে বিচলিত করে তোলে। ও তাড়াতাড়ি বলে,তুমি কিছু ভুল করোনি সোনা। আসলেই তো ঐ দরিদ্র মানুষগুলোর প্রতি আমার কেমন মায়া পড়ে গেছে। আমি হয়তো ওদের সাথে আজীবন কাটিয়ে দিবো।  তুমি ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছো। বলতে গিয়ে শাহিদের গলা ধরে আসে।তবু বলে,চোখ মোছো। রাফি দেখলে কী ভাববে।

লুনা চোখ মোছে। এসময় রাফি এসে দাঁড়ায়।  বলে শাহিদ ভাই আপনারা বরং গল্প করুন। আমার একটা কাজ আছে। এখুনি যেতে হবে।

আমাদের গল্পও শেষ। আমি তোমার সাথেই যাবো। লুনা ব্যাগটা তুলে নেয়।

শাহিদ অনিচ্ছায় উঠে দাঁড়ায়। লুনার সাথে এই হয়তো শেষ দেখা, শেষ কথা। ওর কেমন কষ্ট হতে থাকে।

৫)

এই নিন – সাত হাজার টাকার সাতটি নোট আসাদের দিকে বাড়িয়ে দেয় লুনা।

বাসার কাছে গলির মোড়ে কোচিং সেন্টারটার সাইন বোর্ডের নিচে বাইক রেখেছে আসাদ। লুনার হাত থেকে টাকাটা নিতে নিতে বললো, ম্যাডাম, আমি জানি না আপনাদের ভেতরের ব্যাপার। কিন্তু শাহিদ স্যারের সাথে আপনাকে কিন্তু দারুণ মানাতো।

থ্যাংকস বলতে গিয়ে লুনার চোখ জলে ভরে উঠে। ও তাড়াতাড়ি গলির ভেতর ঢুকে পড়ে। শাহিদের জায়গা যে ওর হৃদয়ের কতো গভীরে তা ওর চেয়ে ভালো কে জানে!  তাইতো শাহিদকে ঠকাতে পারলো না। শাহিদ বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। ছেলের ঘরের নাতি নাতনির মুখ দেখার জন্য তারা যে কী ভীষণ আশা নিয়ে বসে আছে সে কথা শাহিদের মুখে অসংখ্যবার শুনেছে লুনা। শাহিদও নিজেদের ঘর ভর্তি বাচ্চাকাচ্চার কথা বলে লুনাকে রাগাতো।  যদিও সে কথাগুলো নিতান্তই কথা ছিলো না লুনা জানে,তাতে শাহিদের স্বপ্নও মাখা ছিলো।দুই ঝুঁটি করা পুতুল মেয়ে বা ভীষণ দুষ্টু ছেলের কথা বলতে গিয়ে শাহিদ কেমন স্বাপ্নিক হয়ে উঠতো!

তিনজন মানুষের মধুর স্বপ্ন ভাঙতে চায়নি লুনা। ওর ইউট্রাসে টিউমার হয়েছে। খুব শীগগিরই সেটা অপারেশন করে ফেলে দিতে হবে। লুনা কোনোদিন মা হতে পারবে না।শাহিদ জানলে লুনা কে কোনোদিনই ফিরে যেতে দেবে না।  তাইতো আসাদকে প্রেমিক বানিয়ে অভিনয়টুকু করলো লুনা। টাকার বিনিময়ে প্রেমিক হিসেবে কাজ করা মিরপুরে অবস্থিত পুরুষদের এ সেন্টারটার কথা এক সাংবাদিক বান্ধবীর কাছ থেকে জানা হয়েছিলো। সেখান থেকেই আসাদকে ভাড়া করেছিলো লুনা। আসাদ ভালো অভিনয় করেছে। যদিও প্রায় দু’ঘন্টা লেগেছিলো সব কিছু বুঝিয়ে,শিখিয়ে নিতে।

গলিপথ পেরিয়ে লুনা বাসার গেটের কলিংবেল টিপলো। কাল হসপিটালে ভর্তির ডেট। আজ বাসায় সেটা জানাতে হবে।