লেখক -কবি,শিশুতোষ গল্পকার, সাবেক ছাত্রনেতা প্রকাশিত গ্রন্থ কবিতা -তিনটি শিশুতোষ গল্প দুটি সম্পাদক -ছোট কাগজ গরাণ তড়িৎ বার্তা [email protected] কক্সবাজার, বাংলাদেশ।

প্রাণি জীবন

আমি একজন বুড়াে শুকর।
শুকরের অনেক শাবক থাকে
সেই শাবকেরা লায়েক হইলে
দাঁত পরীক্ষা করে আমার পোঁদে।
শীতকালে দেহে অধিক উত্তাপের জন্য মানুষ আমাকে হত্যা করে পুড়িয়ে খায়।গুতা খাওয়া পোদের চামড়াটি উপরে খুব মসৃন পরিধানে আরাম দায়ক।আমাকে শীত বস্ত্র রুপে গায়ে দেয়,আমার গুরুত্ব ও কম নয়।
আমি একজন বুড়ো গন্ডার।
আমার গায়ের চামড়া মোটা।
গন্ডারের পিঠে চাবুক মারা যায়।
মানুষের কিছু বৈশিষ্ট্য আছে
খেয়ে ব্যবহার করে তাকে চাবুক মারা। সেই চাবুক খসানো চামড়া দিয়ে মানুষ ছুরি বল্লম চাবুকের হাতলের জ্যাকেট বানায়যাতে ধরতে সুবিধা হয়।
মানুষের কাছে আমার গুরত্বও কম নয়।
আমি একজন চিরায়ত গাধা
গাধারা হালকা বোঝা বহনে স্বস্তি বোধ করেনা।গাধার পিটে যতই বোঝা ভারি হবে গাধারা ততই হাটবে দুর্দম গতিতে।
আমার পায়ের খোল দিয়ে
শৌখিন নারী ও নৃত্য শিল্পীর জন্য হাই-হিল বানানো হয়।
যাতে নারী কে আকর্ষনীয় ও যৌবনবতি লাগে।মানুষের কাছে আমার গুরুত্বও কম নয়।
আমি একজন নির্বোধ বলদ।
আমাকে দিয়ে দিন রাত হাল চষা ও ধান মাড়াই করে আমাকে দিয়ে গাড়ি বানিয়ে বোঝা বহন করা যায়।মাতব্বর,নব দম্পতি আমাকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি, মেলায় যায়।কর্মে অক্ষম হলেই, মানুষ আমাকে কোরবানি দেয়।ফাতেহা দরুদ ওরশ করে তারা পুণ্য-নেকি হাসিল করে।
মানুষের কাছে আমার গুরুত্বও কম নয়।
আমি একজন বিশ্বস্ত কুকুর
বিদেশের লাট সাহেবেরা আদর করে কত নামে ডাকে,পাহারায়ও রাখে
দেশে ধনির বাড়ি বিশ্বাসের সহিত পাহারায় থাকি সারা রাত বিনিময়ে তাদের উচ্ছিষ্ট হাড়গোড়,কাটা খেয়ে জীবন বাঁচাই।পাহারায় ঘেউ ঘেউ করতে করতে রাত পার করি।
তবুও আমাকে কুকুরের জাত বলে গালি দেয়।
মানুষের কাছে আমার গুরুত্বও কম নয়।
আমি একজন হরিণ
আমার চিত্রল রুপ,সরু ঠ্যাং লোভনীয়।মানুষের বাগান বিলাসে থাকতে থাকতে ভাস্কর্যরূপ শিং গজিয়েছে।
একদিন এক স্থাপত্য শিল্পী আমাকে দেখে ফেলে
সে তার ঠিকাদারি বিল বাড়াতে আমাকে হত্যা করে।আমার শিং দুটো ঝুলিয়ে রেখেছে নেতাদের শোভা ঘরে।যে কসাইটি আমাকে হত্যা করলো সে নিয়ে গেলো অমুল্য রতন ‘মৃগনাভি”
মানুষের কাছে আমার গুরুত্বও কম নয়।
আমি একজন মরুর উট।
পরিব্রাজকের তৃষ্ণা নিবারণে নিজের দেহেই গড়েছি জলকূপ।তপ্ত মরুর বুকে তৃষ্ণা মেটাতে আমাকেই হত্যা করে।ক্ষুধা লাগলে ওরা আমার মাংস পুড়িয়ে খায়,তাদের জীবন বাঁচায়। দেহের তৈলাক্ত চর্বি দিয়ে জ্বালায় আগুন।
মানুষ দৌড় প্রতিযোগিতা করে,মানব শিশু হয় দৌড়ের উপকরণ।শিশুর কান্নায় রাজা মহারাজারা খুশিতে হয় আত্মহারা। মানুষের কাছে আমার গুরুত্বও কম নয়।
আমি একজন দ্রুতগামী ঘোড়া।আমি বাহন,গতির পরিমাপক আমার ওলানের দুগ্ধ অতি পুষ্টিকর।আমি ছুটতে পারি ঝড় বৃষ্টি স্থল মরু জলধি।আমি পেছন পায়ের আঘাতে শত্রু করি ঘায়েল।মনিবের জীবন হয় রক্ষা।
সবকিছুই মানুষের জন্য, মানুষের বুদ্ধির কাছে করেছি সমর্পণ প্রাণ বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকেছি।
তারপরও কি মানুষ শ্রেষ্ঠ জীব?

(পরিমার্জন -আট এপ্রিল, কুড়িকুড়ি
নৈনিতালের দিন -কবিতা গ্রন্থ থেকে।)