ধিক্কার

আমাদের বাড়িটাকে কখনও কখনও কৃষ্ণকায় পাহাড়ের মত মনে হয় ৷ রদ্দুরের রশ্মিগুলো তীক্ষ্ণ ফলায় জমাট কলঙ্কের জঙ্ঘা উরু ছিন্ন
বিচ্ছিন্ন করে , সময়ের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে , শান্তি-স্বস্ত্যয়ন করে নেয় ৷ উৎসবের ওম গড়িয়ে অন্ধ কুটুরিগুলির স্যাতস্যাতে কড়িবরগার লীন তাপ ছড়িয়ে দেয় ৷ সস্তার প্রসাধনী খসে পড়ে ৷ নামাবলি থেকে সস্তিকা চিহ্নগুলো উড়ে এসে দেওয়ালের তারে দোল খায় ৷

তবু কিছু আমাবস্যা তিথিতে রক্তের ফোঁটা মাটির স্বাদকে অম্ল করে ৷ ভেতরের খাল দিয়ে দুর্গন্ধ ফেনায়িত হয় ৷ তুলসী দাসের রামায়ণ , আরতির ধ্বনি ক্রমে ক্ষীণ হয়ে আসে ৷ দরিয়ায় দানব হুঙ্কার দিয়ে ওঠে ৷ কুবো পাখি ডেকে চলে নাগাড়ে ৷ বিবেকটাকে মুচড়ে দিয়ে ডাস্টবিনের কোণায় ছুঁড়ে ফেলে , শয়তানের খাল ছাড়িয়ে পরেনি আত্মার কাঠামোয় ৷ তারপর উল্লাস ৷ চৌচির সভ্যতা ৷ পাতকের পায়ের শব্দ , শরীর , একটা শরীরের নকশা চাই ৷

ওদের কোন বয়স নেই , গোত্র নেই , শুধু আছে লিঙ্গ ৷ নৃশংসতা উগরে উপড়ে নেয় গোপন অঙ্গের জল ৷ পিসে যাওয়া জীবনের , গাঢ় ক্বাথ আমাদের চোখে মুখে চটচটে আলকাতরার মত অবয়ব হয়ে এঁটে বসে ৷ ঘাতকের পরিচয় নিয়ে লজ্জা গিলতে গিলতে আরও কত পাপের সাক্ষ্য বহন করে সৃষ্টির সর্ব- নিকৃষ্ট প্রাণী হয়ে ইতিহাসের পাতায় রয়ে যাবো ৷
এ লজ্জা আমাদের সকলের , যে সমাজ আমাদের প্রসূত তা নারী হয়ে জন্মানোর দাম এভাবে চোকায় !