রাগে অনুরাগে

“পিয়াকী নজরিয়া জাদুভরি, মোহ লীয়ো মন প্রেমভরি।
কবন যতন অব করিয়ো আলী, নাহি পড়ে মোহে চৈন এক ঘরি।”
মনের মধ্যে অনন্ত বয়ে যাওয়া নদী সে যে আকুল হয়ে ওঠে তার নয়নের একটি মধুর আলিঙ্গনে।
ভারতীয় রাগ-রাগিনীর এক বহুত প্রচলিত কাজই বোধহয় মানুষকে ভালোবাসতে শেখানো আবার তাকে ভালোবাসায় কাঁদিয়ে দিয়ে আরও আরও ভালোবাসতে শেখানো।
ইমন রাগের এমনই একটি আশ্চর্য শক্তি আছে ।বলা হয়ে থাকে এই রাগ নাকি কল্যাণের । কথিত আছে আমীর খসরু এই রাগের প্রবক্তা । আর খসরু মানেই আমরা পাই অতল প্রেমের সাগরেই ডুবিয়ে তোলা সব মন ভালো করা আবার ভালো মনে কাঁদিয়ে তোলা সব পদ।
এমনটাই তো হয়ে থাকে এই রাগ গাইবার সময়।যখন আরোহে সব স্বরকে শুদ্ধ রেখে তীব্র মধ্যম তার মনের গহীন বন থেকে এক সুর বাইরে আনে যা আমাদের শ্রবণ- ইন্দ্রিয় পাঠিয়ে দেয় শুনতে থাকা শ্রোতা কিংবা গাইতে থাকা গায়কের মনে।ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এর একটি বিশেষ বিষয় বিভিন্ন রাগ গাইবার এক বিশেষ সময় কে ঠিক করে দেওয়া যেমনটা অনুযায়ী এই ইমন গাওয়ার সময় মধ্য রাত।
কী অপূর্ব! তাই না! ভালোবেসে ভালোবাসার কল্যাণ চাইতে থাকা মন তো মধ্যরাতেই সব চাইতে বেশি আন্দোলিত হয়।ইমন ঠিক সেই সময়েই গেয়ে উঠে যদি জানিয়ে দেওয়া যায় তাকে
“আমি তোমার দৃষ্টিতে বাঁধা পড়েছি
হে নাথ, মন যে কিছু মানে না”
ইমন আর ইমনের সেই তীব্র মধ্যম পৌঁছে দিক তার কাছে সেই সকলকিছুকে, যা আরও আরও বাড়িয়ে তুলবে তার একটি চোখের চাওয়ায় বারবার আটকে পড়ার আকাঙ্ক্ষা।

ক্রমশ…