সমকালীন শিল্পঃ পারফর্ম্যান্স আর্ট

Street theatre performance in the Plaza de Bolívar, Bogotá, Colom.© Filipe Frazao/ Shutterstock.com
পারফর্ম্যান্স (Performance) মানে তামাশা করা বা অভিনয় করে প্রদর্শন করা। ১৯১০ সাল নাগাদ দাদাইজমের সময় থেকে একধরণের ক্যাবারে তামাশা বা পারফর্ম্যান্স দেখা যেত(the history of performance in the visual arts is often traced back to futurist productions and dada cabarets of the 1910s.)। কিন্তু এটা ১৯৭০ সালে দৃশ্যগত শিল্পে যুক্ত হয়েছে। এর অনেক উদাহরণ ইউরোপ ও আমেরিকাতে আছে। আমেরিকাতে আর্টের এই ফর্ম টি জনপ্রিয়। এবং এই শিল্পের কোন ট্র্যাডিশন আগে ছিলনা(non-traditional way of making art)
আমেরিকান শিল্প সমালোচক লুসি লিপার্ড(American art critic Lucy Lippard)১৯৬০ এবং ১৯৭০-এর দশকে শিল্পের “ডিমেটরিয়ালাইজেশন”(dematerialization) হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন তার আরেকটি বহিঃপ্রকাশটি তথাকথিত শারীরিক শিল্প বা পারফরম্যান্স আর্ট (body art or performance art) , বেশি কিছু উপাদান বা বস্তু লাগেনা, যেখানে শিল্পীরা শিল্পকর্ম তৈরির জন্য তাদের নিজস্ব দেহ এবং প্রদর্শন কার্যকরভাবে ব্যবহার করে। প্রথম উদাহরণে, শ্রোতার সামনে দেহ শিল্প সরাসরি পরিবেশিত হয়। যদিও প্রায়শই, ফটোগ্রাফ করে স্মরণীয় হয়ে থাকে
First International Dada Fair, Berlin, 1920. Courtesy of Hannah Hoch
পারফরম্যান্স আর্ট, সময়-ভিত্তিক শিল্প রূপ যা সাধারণত দর্শকদের কাছে বা দর্শকদের নিয়ে  (কোনও রাস্তায়) তাৎক্ষণিক উপস্থাপনা বৈশিষ্ট্যযুক্ত এবং অভিনয়, কবিতা, সংগীত, নৃত্য, বডি পেইন্টিং এবং চিত্রকলার মতো ইত্যাদি নানা শিল্প দিয়ে আকর্ষণ করে। এটি সাধারণত একটি শিল্পকর্মের পরিবর্তে একটি ঘটনা যা প্রকৃতির ক্ষণিকের দ্বারা দেখানো হয় , যদিও এটি প্রায়শই ভিডিওতে এবং স্টিল ফটোগ্রাফির মাধ্যমে রেকর্ড করা হয়ে থাকে।
আর্থার (Arthur Berzinsh’s ) একজন লাটভিয়ান পারফর্মেন্স আর্টিস্ট। লোকে বলে তার মানসিক অবনতি হয়েছে। অধঃপতনে গেছেন। শিল্পী কবি তারা হলেন দুরদর্শিতা  সম্পন্ন ভবিষ্যৎদ্রষ্টা মানুষ ( সবাই কবি বা শিল্পী নন। দু একজনই হন , বাকীগুলি ভানকারী)। কবি শিল্পীরা গতরে কাজ করে দক্ষতা দেখাননা শুধু, বোধবুদ্ধি মেধা দিয়েই এগিয়ে যান। বোধবুদ্ধি মেধা সবার থাকেনা। অধিকাংশই রোবট বা যন্ত্র। শিল্পী বা কবি নন।

অনেকেই বলেন পারফর্মেন্স আর্ট অনেকের বোধের বাইরে। না বুঝতে পারলে সাধারণ মানুষ তাই বলে। সাধারণের মেধা আর কবি শিল্পী ভবিষ্যৎদ্রষ্টার মেধা অনেক পার্থক্য করে।
 আর্থার তার দুই সহযোগী শিল্পী নিয়ে, লাটভিয়ার শহর রিগার একটি বিখ্যাত ও গৌরবময় মিউজিয়ামে গত ৬ই মার্চ,২০১৮ একটা পারফর্মেন্স আর্ট  করে দেখালেন। করণ শিল্পটির নামকরণ করলেন ,’eschatology’। ( the part of theology concerned with death, judgement, and the final destiny of the soul and of humankind.) যার মানে হল আত্মার বা মানুষের পরিণতি বা নিয়তি। খ্রীষ্টধর্মের আধ্যাত্মিকভাবনা থেকে নেওয়া।
৩৩ বছর বয়সী আর্থারের মহিলা সহযোগী দুজন স্বেচ্ছাসেবি পিঠ থেকে তাদের মাংস কাটলেন, কোন অবশ বা অ্যানেস্থেশিয়া না করেই, স্বেচ্ছাসেবি দুজন কষ্ট বা ভয় পেয়েছেন কিনা বোঝা গেলনা। মাংস কেটে গরম তাওয়াতে ভাজলেন, রান্না করলেন এবং সেই রান্না যাদের মাংস কেটেছেন তাদেরকেই খাইয়ে দিলেন। দর্শকের সামনে এই ভয়ঙ্কর কাজটি করলেন।
নরখাদক বলে সোরগোল পড়ে গেল। পক্ষে বিপক্ষে দর্শক। খবর দাবাললের মতন মিডিয়া হয়ে সারা পৃথিবী ছড়িয়ে পড়ল। আইন পুলিশ আর্থারের পিছনে ধাওয়া করল।

আর্থার জানালেন,যে, ‘এটা ভূয়ো কিছু নয়। কিন্তু নরমাংসভোজনও নয়। প্রত্যেকে তার নিজের মাংস ত্যাগ করে খেয়েছেন, নখ যারা খান তাদের মতন। নখখাওয়া তো নরমাংস খাওয়া নয়।’
পুলিশ আর্থারের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ খুঁজে পাননি। তদন্ত চলছে।
 আর্থার বলছেন যে, এটা একটা রূপক, একজন ভোক্তা বা খরিদ্দার সমাজ আসলে তার নিজের দেহটাই খায়। স্মরণ করুন  -ক্যাথলিকদের পবিত্র ধর্মীয় প্রতিশ্রুতি, বিশ্বাস বা সংস্কার।
বিশদে দেখতে গেলে, আর্থারের ভাবনা অত্যন্ত যুগোপযোগী। রাজনৈতিক নেতারা যে বড় বড় লম্বা প্রতিশ্রুতি দেয় এগুলি পুরোটাই ধাপ্পা। মানুষ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি  আসলে যেটা ধাপ্পা, প্রতারণা সেটাই তারা পরে খায়। আজকের দিনে আমরাই আমাদের খাচ্ছি এমন দৃষ্টান্তই দেখি।