শৈশব…

ব্যস্ত শহরের গলি-ঘুঁজির ফাঁক পেরিয়ে যাবো কোন একদিন সীমানা ছাড়িয়ে। যেখানে আকাশের সাথে মাটির গড়ে ওঠে দৃঢ় বন্ধন। চাইলেই তারা ডুব দিতে পারে এক ওপরের মাঝে। আর ওই মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা তাল গাছগুলো! তারা খালি হিসাব কষে একেকটা নষ্ট হয়ে যাওয়া চরিত্রের। যেখানে সকাল বিকাল ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে যায় পরিযায়ী পাখিদের দল। কখনো যদি ঐ আকাশ পানেই চোখ নিবিষ্ট রাখি তাহলে রোমাঞ্চিত বই হতাশ হবো না।
যেখানে ভালোবাসা নামি ক্যাফের কফির কাপে আবদ্ধ থাকে না, সেখানে মাঠ পেরিয়ে এক বিশাল গাছের ছায়ায় একটি জংলী ফুলে লজ্জা পায় এক বুক ভালোবাসা। যেখানে ছুটির দিন মানেই নেটফ্লিক্স, কিংবা দামি দামি পদে টেবিল সাজানো নয়, সেখানে ছুটির দিন মানেই পাড়ার বন্ধুরা মিলে মাঠের পর মাঠ দৌড়ে পার হয়ে যাওয়া, কিংবা ডাংগুলি এবং ছো কিত কিত। সেই গ্রামে বাচ্চার কান্না মানেই দামি স্মার্ট ফোন কার্টুন ফুটে ওঠে না, সেখানে বাবার কোলে ঘুরে হাঁসি ফোঁটে খিলখিলিয়ে। যেখানে কান পাতলে শোনা যায় বৃষ্টি ফোঁটার এক এক বিন্দু, সাথে সাথে ভেসে আসে মাটির এক সোঁদা গন্ধ। যেটা শহরের এই বড় বড় কংক্রিটের একটুকরো ফাঁকে খুঁজে পাওয়া দায়। সেই গ্রামের প্রত্যেক ঘরে ঘরে দু-মুঠো ডাল ভাতের সাথে খেলে বেড়ায় অনেকটা হাসি মজা আর অনাবিল আনন্দরা। যেখানে ছেলেবেলাও খুঁজে পায় ছেলে বেলাদের। সত্যি সেই যেন শৈশব… নয় কি?

অনিন্দিতা ভট্টাচার্য্য