বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি মহিলা মহাবিদ্যালয়ে ইতিহাসের সহকারী অধ্যাপিকা পদে নিযুক্ত আছেন। ইতিহাসের অধ্যাপনা ও গবেষণা ছাড়াও পুরাণ ও ভারতীয় সংস্কৃতিচর্চায় তিনি প্রবল আগ্রহী। বাঙালির জাতীয়তাবাদী ইতিহাস রচনা তাঁর স্বপ্ন। এছাড়া ভালোবাসেন ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ করতে এবং লেখালিখির চেষ্টা করতে।

কলকাতার চার্চ (কোম্পানীর আমল) – পর্ব ১৫

মহানগরীর তৃতীয় পর্তুগীজ তথা রোমান ক্যাথলিক চার্চটিও নির্মাণ করেন গোয়া থেকে আগত ধনী পর্তুগীজ বংশোদ্ভূত বণিক কলকাতার ব্যারেটো পরিবারের কন্যা Mrs. Pascoa D’ Suja। ১৮২১ খ্রিষ্টাব্দে থিয়েটার দেখে ফেরার সময়ে শ্রীমতী ডি’সুজার পুত্র Louis D’Suja-র সাথে কিছু মতবিরোধের কারণে Joseph Gonsalves নামক এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। সুপ্রিম কোর্টে এই খুনের মামলা বিচারাধীন থাকাকালীন শ্রীমতী ডি’সুজা ঈশ্বরের নামে শপথ করেছিলেন তাঁর পুত্র মুক্তিলাভ করলে তিনি নিজ জমিতে একটি চার্চ নির্মাণ করবেন। অত:পর লুইস বাস্তবিকই ছাড়া পেলে বর্তমান ৩ নম্বর লেনিন সরণীর ঠিকানায় এই চার্চ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।১৮৩২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে চার্চটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। Our Lady of Dolours Church – এর মিনিস্টার রেভারেন্ড Frei Simaode Concicao এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। ১৮৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ শে মার্চ ইস্টার রবিবার চার্চের উদ্বোধন ও আশীর্বাদী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। চার্চটির নাম হয় Church of the Sacred Heart of Jesus।

পরে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে চার্চটির গঠনে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছিল। এই চার্চটিতে একটি ছোট চ্যাপেল সংযুক্ত আছে। প্রার্থনা মঞ্চ দুটি রঙিন চিত্র দ্বারা সজ্জিত যার একটি সেন্ট মার্গারেট মেরীর আর অপরটি মাতা মেরীর ক্রোড়ে শায়িত যিশুর রক্তাক্ত দেহের প্রতিকৃতি। অন্য ক্যাথলিক পর্তুগীজ চার্চের ন্যায় এখানেও Station of the cross টি অভিনবত্ব নিয়ে উপস্থিত। যিশুর জীবনের ১৪ টি অধ্যায় এখানে চিত্রের মাধ্যমে নয় মর্মর স্থাপত্যের মাধ্যমে এখানে উপস্থাপিত। মহানগরীর অন্য কোন গীর্জাতে এইরূপ শিল্প কীর্তির স্বাক্ষর অনুপস্থিত। চার্চটির সাথে একটি পূজাবেদীও সংলগ্ন যেখানে মাতা মেরীর উদ্দেশ্যে ভক্তগণ মোমবাতি জ্বালিয়ে অন্তরের প্রার্থনা জানিয়ে থাকেন।