না – মানুষের সংসদ

১.
সোনু বোঁ বোঁ চক্কর দিচ্ছে তার সাইকেলে । হলুদ গেঞ্জি আর কালো সাদা মিনি স্কার্ট । তার সাইকেলের রং লাল । আর বিশ্বকে তার বাবা কাল রাতে একটা সাইকেল কিনে দিয়েছে । কচি কলাপাতা রঙের । এর আগে কার্তিকের কাছ থেকে সে একটা পুরোনো সাইকেল চালানো শিখেছে । এই নতুন সাইকেলটা একদিন কার্তিককে দিতে হবে । সে যাবে গলাকাটার মাঠ পেরিয়ে ভোমরার বিল ।
থুতু পোকা খুব লাজুক । সে সোনুকে মনে মনে খুব ভালোবাসে । এছাড়া তার তো কোন উপায়ও নেই । কড়ুই ঝুঁটি জামরুল গাছের ডালে বসে কখনও কখনও ঘাড় ঘুড়িয়ে এসব দেখছে । আসলে তার ভালোবাসার পাত্রী বকুল গাছটা । কি সুন্দর গন্ধ । ওর ছানাপোনারা যেমনি ফর্সা তেমনি ওদের গায়ে চমৎকার গন্ধ । বকুল আবার কড়ুইঝুঁটিকে তেমন চেনে না বা চিনেও না চেনার ভান করে । সে অবাক হয়ে দেখে বটগাছকে । জন্ম-মৃত্যু কিছুই যে নেই সেই অক্ষয় বটের ।
সোনু আর বিশ্বের সাইকেল নিয়ে দাপাদাপিতে সবচেয়ে উদ্বিগ্ন ঢোঁড়া । সে জাত সাপ নয় । সাপেদের মধ্যে সে নীচু জাত । ফণা, বিষ কিছুই নেই তার । নাচের টিচার ইন্দ্র ‘মর্জিনা-আবদুল্লা’ করবে । বড়রা ইন্দ্রকে পাত্তা দেয় না । তাই ছোটদের নিয়েই সে কামাল করবে । একদিন বায়োস্কোপ বানাবে । পৃথিবীর মানুষ তাকে চিনবে-জানবে । মালা দেবে । রিহার্সাল দিতে দিতে প্রায় সে এসব স্বপ্ন দেখে ।
ঢোঁড়ার ভয় পাওয়া উপভোগ করছে সোনা ব্যাঙ । এমনিতে ঢোঁড়া বুড়ো হয়েছে । গতি নেই । কোলা ব্যাঙ ধরার ক্ষমতা তার নেই আর কুলীন সোনা ব্যাঙকে দেখে ঢোঁড়ার জিভে টসটস করে জল ঝরে । তবে এইটুকুই ।
মুক্তধারা মঞ্চ খুলে দেওয়া হয়েছে । রবিন আর্ট যে ছবিটা এঁকেছে তা দেখে অনেক নামী-দামী শিল্পীও মোহিত হয়ে যায় । একতারা হাতে বাউল সঙ্গে একটি ছোট ছেলে আর পথের অকুলীন এক সারমেয় । ছোট্ট একটা কুঁড়েঘর । পাঠশালা, পণ্ডিতমশাই । সহজপাঠের অক্ষরগুলি পাখির মতন আকাশে উড়ে চলেছে ।
লাইট জ্বালালো সুখেন । তার একটা ঘোড়া রয়েছে । বুধবারে জন্ম হয়েছিল বলে ওর নাম ‘বুধু’ । পলাশি স্টেশনে এখন টোটো গাড়ির ভীড় । ঘোড়ার গাড়িতে কেউ চড়ে না । বুধুকে তাই ব্লক অফিসে নিয়ে আসে সুখেন মনমরা ভাবটা কাটানোর জন্য । তেতলার সভাঘরে পায়রাদের সংসার । ওদের বিষ্ঠা সুখেনকেই পরিস্কার করতে হয় । কখনও টাকা পাওয়া যায়, কখনওবা না । সুখেন যখন ওপরে থাকে বুধু নীচে খুড় দিয়ে ঘাসে আঁচড় কাটতে কাটতে মুখ দিয়ে চিঁচিঁ আওয়াজ করে । তখনই পায়রার দল টের পেয়ে বুধুর পীঠে এসে বসে ।