নব-নব রূপে এলে প্রাণে

আজ সারাটা দিন তোমার সঙ্গেই কাটল।
আমায় আজ কোন কাজ করতে দাওনি তুমি।
দরকারি ফোন গুলো পর্যন্ত ধরতে দাওনি।
তোমায় আজ নেই-আকড়ে শিশুর মত মনে হচ্ছিল মাঝে মাঝে।
মাথার উপর অসীম কাজের বোঝা নিয়েও,
তোমার উপর রাগ করতে পারিনি।
বরং তোমার সাথি হয়ে ,
ফিরে পেয়েছিলাম সেই ফেলে আসা সোনালি দিনগুলো।
রাত ঠিক বারটায় ঘড়ির কাঁটাগুলো,
যখন পরস্পরকে আলিঙ্গন করেছে,
সারা দিনের খেলার শেষে তুমি তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
আমি জমে থাকা কাজের পাহাড়টার কথা ভাবছি।
হঠাৎ পাশের বাড়ির একটা শিশুর কান্না ভেসে আসতেই,
তোমার দিকে তাকালাম, দেখি তোমার মুখে শিশুর স্নিগ্ধ প্রশান্তি।
সেদিন সকালে, বাগানের গাছে জল দিতে গিয়ে
তুমি দেখলে একটা কোকিলের বাচ্চা অসহায় ভাবে পড়ে আছে।
তখনই তুমি তাকে সেবা করতে শুরু করলে।
সেদিন আমার অফিস যাবার সত্যিই তাড়া ছিল।
একটু রাগ করেই বললাম, “আমি তাহলে আজ হোটেলে খেয়ে নেব”।
বলেই তোমার পরম যত্নের ফুল গুলোর দিকে তাকালাম
তারপর তোমার চোখে চোখ রাখলাম, যেন শরতের শিশির ভেজা দুটি ফুল।
আরেকদিন অকারণে আমার ওপর রাগ করলে
কত অবান্তর কথা বললে, আমায় আঘাত করলে।
আমিও প্রতিঘাত করলাম।
রাতে তোমার শান্ত চোখ দুটো দেখে তোমায় কাছে টেনে নিতে গেলাম।
নিরবে তুমি দূরে চলে গেলে।
পাশের ঘরে গিয়ে আস্তে করে দরজা বন্ধ করে দিলে।
রাতে ঝুপুস বৃষ্টি নামল।
বিদ্যুতের রেখা আকাশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে বয়ে চলেছে
তখন জানালার ধারে একলা দাঁড়িয়ে আমার চোখে ভেসে উঠলো তোমার মুখ।
একদিন রবিবারের অলস দুপুরে, দেখি একজন বৃদ্ধকে উজার করে তুমি কি যেন দিচ্ছ।
আর তিনিও অঞ্জলি পেতে গ্রহণ করছেন তোমার দান।
একে মাসের শেষ, আবার রোজকার হয়নি সে মাসে বিশেষ।
কোনো কথা না বলে, ভ্রু কুঁচকে ঘরে ফিরে এলাম।
টেবিলের ওপর রাখা খবরের কাগজের প্রথম পাতায় দেখি সমুদ্রের ছবি।
ঠিক তখনই তুমি ঘরে এলে
একবার কাগজের পাতায় আরেকবার তোমার দিকে দেখি।
আমার প্রাণে ঢেউ দিয়ে যায় জল।
ছলাৎ-ছল, ছলাৎ-ছল।