পৃথিবীটা কার? আপনি বিচার করুন (৪)

সমস্ত প্রাচীন সমাজগুলিতে মহিলাদের কাছে ঘরের কাজ কর্ম বা গার্হস্থ্য জীবনই প্রত্যাশা করা হয়েছিল। সেগুলির মধ্যে স্পার্টার লোকেরা ব্যতিক্রম ব্যতীত ছিল, যারা মহিলাদেরকে পুরুষদের সাথে সমানভাবে খাওয়াতেন, পুরুষদের মতো লড়াই করার প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন,এই বিশ্বাসে নারীরা যাতে আরও শক্তিশালী বাচ্চাদের জন্ম দিতে পারে । প্রাচীন এবং চিরায়ত গ্রীসের ঐতিহ্যগত দৃষ্টিভঙ্গি ছিল পুরুষতান্ত্রিক; তবে গ্রীক সাহিত্যে এর শুরু থেকেই নারীবিদ্বেষের নমুনা রয়েছে। কিছু গ্রীক তখনকার দিনের সাহিত্যিকদের মধ্যে একটা প্রচার দৃষ্টিভঙ্গি মহিলাদের প্রতি ইতিবাচক ছিল। থ্যালস, সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল, অ্যারিস্টোফেনস এবং ফিলো এবং অন্যান্যদের (Thales, Socrates, Plato, Aristotle, Aristophanes and Philo, and others,)মতো কিছু ধ্রুপদী লেখককের বিশ্বাস ভালোই ছিল, বাকীরা বলত মহিলাদের সম্পর্কে “পুরুষের চেয়ে দ্বিগুণ খারাপ”, একটি “ক্ষতিকারক জাতি”, “কোনও ভাবে কখনই বিশ্বাস করা উচিত নয়” এবং পুরুষের জাতি থেকে পৃথক করে দেওয়া উচিত,একটি স্বভাবজাত নিম্নমানের জাতি হিসাবে প্রাচীন গ্রিসে একটি কথা প্রচলিত ছিল, সেখানে মানুষ দেবতাদের ধন্যবাদ জানাত এই কারণে যে, সে অসভ্য, ক্রীতদাস বা মহিলা নয়। মানে মহিলাকে এত নীচে ভাবা হত, ঘৃণা করা হত। আর এই কথাগুলি নাকি বিভিন্ন সময় থেলস, সক্রেটিস এবং প্লেটো বলেছে।আলেকজান্ডারের পরে নারীদের জীবনযাত্রার উন্নতি হয়েছে,i তবুও মেয়েদের সম্পর্কে গ্রীক চিন্তায় রোম প্রচন্ডভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। সারা পোমেরোই ঠিকই বলেছেন “রোমান সমাজ কখনই মহিলাদেরকে পুরুষদের মতো একই সামাজিক শ্রেণির কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে উত্সাহিত করেনি।” ওডিসিয়াসের Odysseus জগতে, শাস্ত্রীয় পণ্ডিত মূসা ফিনলে Moses Finley বলেছেন: “হোমার এর লেখাতে কোন ভুল ছিলনা , যা সত্য ছিল তা পুরোপুরিভাবে প্রকাশ করেছেন।মহিলাদের প্রাকৃতিকভাবে নিকৃষ্ট বলে ধরা হয়েছিল …”(“There is no mistaking the fact that Homer fully reveals what remained true for the whole of antiquity: that women were held to be naturally inferior…”)

মহিলারা পুরুষের মত নয়
বাইবেলের আদি পূস্তকের প্রথম অধ্যায়ে লেখা আছে ২৬ থেকে ৩১ পদ অবধিঃ 26পরে ঈশ্বর কহিলেন, আমরা আমাদের প্রতিমূর্ত্তিতে, আমাদের সাদৃশ্যে মনুষ্য নির্ম্মাণ করি; আর তাহারা সমুদ্রের মৎস্যদের উপরে, আকাশের পক্ষীদের উপরে, পশুগণের উপরে, সমস্ত পৃথিবীর উপরে, ও ভূমিতে গমনশীল যাবতীয় সরীসৃপের উপরে কর্ত্তৃত্ব করুক। 27পরে ঈশ্বর আপনার প্রতিমূর্ত্তিতে মনুষ্যকে সৃষ্টি করিলেন; ঈশ্বরের প্রতিমূর্ত্তিতেই তাহাকে সৃষ্টি করিলেন, পুরুষ ও স্ত্রী করিয়া তাহাদিগকে সৃষ্টি করিলেন। 28পরে ঈশ্বর তাহাদিগকে আশীর্ব্বাদ করিলেন; ঈশ্বর কহিলেন, তোমরা প্রজাবন্ত ও বহুবংশ হও, এবং পৃথিবী পরিপূর্ণ ও বশীভূত কর, আর সমুদ্রের মৎস্যগণের উপরে, আকাশের পক্ষিগণের উপরে, এবং ভূমিতে গমনশীল যাবতীয় জীবজন্তুর উপরে কর্ত্তৃত্ব কর। 29ঈশ্বর আরও কহিলেন, দেখ, আমি সমস্ত ভূতলে স্থিত যাবতীয় বীজোৎপাদক ওষধি ও যাবতীয় সবীজ ফলদায়ী বৃক্ষ তোমাদিগকে দিলাম, তাহা তোমাদের খাদ্য হইবে। 30আর ভূচর যাবতীয় পশু ও আকাশের যাবতীয় পক্ষী ও ভূমিতে গমনশীল যাবতীয় কীট, এই সকল প্রাণীর আহারার্থ হরিৎ ওষধি সকল দিলাম। তাহাতে সেইরূপ হইল। 31পরে ঈশ্বর আপনার নির্ম্মিত বস্তু সকলের প্রতি দৃষ্টি করিলেন, আর দেখ, সে সকলই অতি উত্তম। আর সন্ধ্যা ও প্রাতঃকাল হইলে ষষ্ঠ দিবস হইল।

ঈশ্বর নারী সৃষ্টি করলেন
বাইবেলের আদি পূস্তকের ২ অধ্যায়ে লেখা আছে ১৮ থেকে ২৫ অবধি, ধুলি থেকে মানুষ সৃষ্ট করলেন এবং তাকে সাহায্য করার জন্য মানবী বানান, পুরুষের পাঁজর থেকে তার হাড় আর শরীর থেকে বাকি কিছু নিয়ে।(The Hebrew word that is traditionally translated as “rib” is tsela‘ “rib” is the wrong translation for tsela‘tsela‘ should be translated as “a non-specific, general term,” such as one of Adam’s lateral limbs, in the Adam and Eve story. Thus, it refers to “limbs lateral to the vertical axis of an erect human body: hands, feet, or, in the case of males, the penis.”Eve came from a different part of Adam’s body—his baculum. অনেক পন্ডিত গ্রীক ও হিব্রু অনুবাদ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন। পাঁজর হবেনা, ইভ বা হবাকে আদমের যৌনাঙ্গের হাড় থেকে সৃষ্ট করেন। এবং নারীকে পুরুষের অধীনে থাকতে বলেন। (“I will greatly multiply your pain in childbirth.  In pain you shall bring forth children; yet your desire shall be for your husband, and he shall rule over you.” (Gen. 3:16).”But I want you to understand that Christ is the head of every man, and the man is the head of a woman, and God is the head of Christ.” (1 Cor. 11:3).

প্রতিটা ধর্মীয় গ্রন্থ, নারীকে কর্তার ভূমিকায় দেখেনি কারণ নারী পুরুষের সাহায্যকারীনীর ভূমিকা ছাড়া তার আর কোন ভূমিকায় সফল হবেনা।
পুরুষ যদি বিজ্ঞানী হয়, নারীও তার ৭৫ ভাগ বিজ্ঞানী হতে পারে, পুরুষ যদি মুটে গিরি করতে পারে নারীও মুটেগিরির ৭৫ শতাংশ করতে পারবে। বা তার সাহায্য কারী হতে পারে। মানুষের পক্ষে যা করা সম্ভব তার পুরুষ যদি ১০০ ভাগ করতে পারে। নারী সর্বাধিক ৭৫ ভাগ কাজ অবধি পারবে । ফলে পৃথিবীর সকল কিছুতেই নারী চেষ্টা করুক তার একটা অংশ। বাস্তবিক দেখাযায়, পৃথিবীর ৩৪০ কোটী মহিলার মধ্যে ৩০০ কোটি পুরুষের সুরক্ষার থেকে বের হতে ইচ্ছুক নয়। কারণ তার সন্তান, আর সংসারের মায়া। আর তার স্বামী হল তার সকল অক্ষমতার প্রচ্ছদ বা ঢাকা।
বিয়ের পর নারী স্বামীর বাড়িতে যায় তার সংসার দেখা শুনা করতে। তার জীবনে সুখ আনতে। নারীকে পুরুষ টপকাতে হলে আগে যোগ্যতা নিতে হবে। পুরুষকে তার বাড়িতে আনতে হবে তার সুখের জন্য। পুরুষের বুকে দাঁড়িয়ে পুরুষ পীড়ন এটা অকৃতজ্ঞতা, অমানবিক।