সংগ্রামী লাহিড়ী নিউ জার্সির বাসিন্দা, বৃহত্তর নিউইয়র্ক বলা যায় | পরিচয় - শিক্ষায় প্রযুক্তিবিদ, পেশায় কন্সাল্ট্যান্ট, নেশায় লেখিকা | শাস্ত্রীয় সংগীত নিয়ে বহুকালের সিরিয়াস চর্চা আছে, অল ইন্ডিয়া রেডিওর A গ্রেড শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পী | উত্তর আমেরিকায় করোনা ভাইরাসের এপিসেন্টারে বসে বদলে যাওয়া প্রবাস-জীবনের ডায়রী লিখছেন |

করোনা-ধারায় এসো – 9

ভালোবাসার চকোলেট

গলানো চকোলেটে পাক দিতে দিতে লুকাস নাক সিঁটকালো, “ওগুলো আবার চকোলেট? তাহলে তো আরশোলাও পাখি!”
লুকাস মানে লুকাস পেটারস| ডাচ অ্যাকসেন্টে বললে শোনাবে ‘পেতারস’| বেলজিয়ামের ব্রাসেলস অঞ্চলের পুরুষানুক্রমিক বাসিন্দা| চকোলেট বানানো যার জাতব্যাবসা| পেটারস চকোলেট যাদের পারিবারিক চকোলেটের দোকান|
লুকাসের বাবা ফিলিপ পেটারস, তস্য পিতা ভিলহেল্ম, তস্য তস্য পিতা হেনড্রিক…তার পর আর মনে নেই| মোদ্দা কথা ব্রাসেলস ছাড়িয়ে পেটারসদের হাতের গুণের কথা নিউইয়র্কেও পৌঁছেছে|
ইউরোপ ঘুরতে যাচ্ছি শুনে নিউইয়র্কের নোয়েহাউস চকোলেটের দোকানদার আমায় বলে দিয়েছিলো, “ব্রাসেলস গেলে পেটারসদের চকোলেটের দোকানে ঢুঁ মেরে এসো অতি অবশ্যই|”
নোয়েহাউস হল পৃথিবীবিখ্যাত বেলজিয়ান চকোলেট-শিল্পী| এরাই ‘প্রলিন’ নামক পৃথিবীর অষ্টমাশ্চর্যের জন্মদাতা| গোল গোল প্রলিন চকোলেট| বাইরেটা শক্ত আর ভেতরে তুলতুলে নরম|
তাই নোয়েহাউসএর উপদেশ শিরোধার্য করতেই হয়|
অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে এসেছি লুকাসের বাড়ি কাম ফ্যাক্টরি দেখতে| আর এসেই লুকাসের এরূপ অপমানে আমি যারপরনাই মর্মাহত|
তাও বলার চেষ্টা করলাম, “কেন, বেশ তো লাগে খেতে!”
চোখে ভাসছে শপিংমল থেকে কেনা বাজার চলতি নামী ব্র্যান্ডের চকোলেটের লাল-সাদা-সোনালী-রূপোলী বাক্স| যা আমি কস্টকো থেকে প্রতি ডিসেম্বরে দিস্তে দিস্তে কিনি| কিনি আর বিলোই| সাধে কি আর পুঁচকেগুলো আমায় এতো পছন্দ করে? আর সেইসঙ্গে তাদের মা-বাবারা আমায় দু’চক্ষে দেখতে পারে না! সে যাকগে, ওই মা-বাবাদের আমার থোড়াই কেয়ার| ওদের কাজই হলো শিশুমনকে আঘাত দেওয়া| আমি মোটেও অমন নিষ্ঠুর নই|
যে কথা হচ্ছিলো, আমার অর্বাচীন মন্তব্য শুনে লুকাস কিছুক্ষণের জন্যে হাতের কাজ থামিয়ে আমার দিকে চেয়ে রইলো|
তারপর খুবই স্নেহের সঙ্গে তার কন্টিনেন্টাল অ্যাকসেন্টের ইংরেজিতে যা বললো তার মর্মার্থ হলো এই – “ওহে অর্বাচীন, শোকোলেতের (chocolatier) যখন তার দুখানি হাতের জাদুতে চকোলেট বানায়, তার কাজ শুরু হয় সেই কোকা বিন থেকে| এ সব কি আর অ্যাসেম্বলি লাইনে তৈরী হয়?”
আমার জননী রন্ধনশিল্পে সেই কবেই পিএইচডি করে ফেলেছেন| ইউরোপে তিনি আমার সফরসঙ্গী| দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চকোলেটে পাক দেওয়া দেখছিলেন| এবং মনে মনে নির্ঘাত নিজের সিগনেচার নাড়ুর পাকের কথা স্মরণ করছিলেন| নতুন যে কোনো রন্ধনপ্রণালী এবং তার খুঁটিনাটিতে তাঁর অদম্য উৎসাহ| এবার তিনি উৎসুক, “কিরকম?”
লুকাস জানালো, তার কোকা বিন আসে ভেনেজুয়েলার ক্যারিবিয়ান সমুদ্রতীর থেকে, চুয়াও প্ল্যান্টেশন| কোকা বিন পাকলেই চুয়াও প্ল্যান্টেশনএর মালিক চাষী লুকাসকে খবর দেয়| পাকা বিন ফাটিয়ে তার থেকে নরম শাঁসটি বার করে জলে ফেলতে হবে, ফার্মেন্টেশনএর জন্যে | আর সেখান থেকেই লুকাসের কড়া নজরদারি শুরু হয়|
লুকাস জলের মতো করেই সে জলে-ফেলার-কাহিনী বুঝিয়ে দিল, “তুমি যদি পাঁচদিন জলে রেখে কোকা বিনকে দুবার ওল্টাও, তাহলে একরকম টেস্ট, আবার সাতদিন রেখে তিনবার ওল্টালে আর এক রকম| এই যে – চেখে দ্যাখো|”
দুরকম চকোলেটের বড়ি ধরাল হাতে|
আমি কিস্যু বুঝলাম না| আমার আমেরিকান-চকোলেট-খাওয়া, ভোঁতা জিভে সব একরকম|
আমার জননী কিন্তু বুঝেছেন| তাঁর মুখচোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো| স্বাদের তফাৎটা ধরতে পেরেছেন| রন্ধনশিল্পী বলে কথা!
ঘাড় নাড়লেন, “ঠিক ঠিক, নারকোল যেমন পাকতে শুরু করলে একরকম স্বাদের নাড়ু, আবার পুরো পাকলে আরেকরকম স্বাদ| বেশি ঝুনো হয়ে গেলে আর ভালো নাড়ু হয় না| তার জন্যে আছে আলাদা রান্না|”
লুকাস বলে চললো, “তারপর তাকে রোদে শুকোতে হবে| তার জন্যে চাই ক্যারিবিয়ানের সূর্য| যে সূর্যের উত্তাপে পুড়ে কালো চামড়া থেকে আলো ঝলকায়, সেই রোদই আমার চাই| তবেই না আমার মনমতো চকোলেট হবে|”
জননী বললেন,”কেয়াবাত, কেয়াবাত|”
বুঝলুম, এক গুণী আরেক গুণীর কদর করছেন|
লুকাস বললো, “এরপর সে কোকা বিন বস্তাবন্দী হয়ে আসে সোজা এই বেলজিয়ামে, আমার জিম্মায়| এখান থেকে শুরু আমার হাতের কারিকুরি|”
বলে লুকাস উঠলো| বাড়িতেই ওর চকোলেট বানানোর সব যন্ত্রপাতি, সাজ-সরঞ্জাম| সেগুলো ঘুরিয়ে দেখাবে| স্পেশাল ট্রিপ| তার সঙ্গে স্বহস্তে চকোলেট বানিয়ে অবাক করে দেবে| হ্যান্ড-মেড চকোলেট| তার স্বাদের তুলনা নেই| আর সে রেসিপিও ইহধামে শুধু পেটারস চকোলেট-শিল্পীদের কাছেই আছে|
অ্যাসেম্বলি লাইনের প্রথমেই ইয়া দুই রোস্টিং মেশিন| পুরোনো কিন্তু বেশ মজবুত| কোকা বিনদের ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে রোস্ট করছে|
সগর্বে জানালো, “আমার দাদুর রোস্টিং মেশিন| বংশানুক্রমে চলে আসছে| এই রোস্টিংটা খুব ইম্পরট্যান্ট, বুঝলে? ভালো করে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে করতে হয়| এবার মাতৃগর্ভ থেকে বেরোনোর পালা| চকোলেটের জন্ম হবে কোকা বিনের গর্ভ থেকে| জানোই তো চকোলেট কেমন সুখী, নাজুক| তাই তার জন্যে চাই নরম, আদুরে ঠান্ডা| ঠিক যেমনটি এই ব্রাসেলস|”
বলেই আমার দিকে তাকালো, “তোমার পছন্দের চকোলেট কোম্পানিগুলো এই রোস্টিংএর কাজটি করিয়ে আনে কোকা বিনের ফার্ম থেকে| সেখানে চল্লিশ ডিগ্রির গরমে সে চকোলেটের কি অবস্থা হয় ভেবে দেখো একবার| ছ্যা ছ্যা, ‘schande’ ‘schande’… ”
আমি যে লজ্জায় কোথায় মুখ লুকোবো বুঝে পাই না|
জননী উৎসুক| পুরো প্রণালী জানতে চান| পারলে কিছু কোকা বিন ব্যাগে ভরে কলকাতায় নিয়ে যেতে চান| যদি চকোলেট বানানো যায়!
আমাদের বেলজিয়াম ভ্রমণকালে ব্রাসেলসে থাকার সময় লুকাসের সঙ্গে দিব্যি বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিলো| সব মিলিয়ে বার তিনেক গেছি ওর বাড়ি|
ওর ছেলে অ্যাডামকে বিচ্ছু বললে কম বলা হয়| হাই স্কুলে পড়ে| বেলজিয়ামের নিয়ম আঠেরো বছর পর্যন্ত তোমায় ইশকুলে যেতেই হবে| তা সে পৃথিবী উল্টে গেলেও আচ্ছা| সেইজন্যেই বোধহয় ব্রাসেলস হাইস্কুল ওর সব অত্যাচার সহ্য করে| এ সবই শোনা লুকাসের বৌ মারিয়ার কাছে| ছোটোখাটো মেয়ে, জাতে আর্জেন্টিনিয়ান|
শুধিয়েছিলুম, “অ্যাডাম চকোলেট বানানো শিখতে চায় না?”
লুকাসের মুখ পলকের জন্যে মেঘময়, “নাঃ, বাপঠাকুদ্দার ট্র্যাডিশন নিয়ে ওর কোনো মাথাব্যথা নেই| এই আমার সঙ্গেই বোধহয় পেটার’স চকোলেটও শেষ হয়ে যাবে|”
মারিয়া তাড়াতাড়ি বলে, “আহা, ওকে একটু বড়ো হতে দাও আগে, তবেই না….”
সেবার ইউরোপ ট্রিপে আমাদের বেশ কয়েকটি বন্ধুলাভ হয়েছিল| লুকাস তাদের মধ্যে অন্যতম|
আমার জননীর ওপর লুকাসের আলাদা টান| এক রন্ধনশিল্পীর প্রতি আরেক শিল্পীর প্রাণের টান| লুকাসের সঙ্গে জননীর নারকেল নাড়ুর পাকপ্রণালী আর চকোলেটের রেসিপি নিয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণ চলতো| জননী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন লুকাস কলকাতায় গেলে তাকে অন্তত দশরকম নাড়ু বানিয়ে খাওয়াবেন|
তা সে সুযোগ আসার আগেই এসে গেল ক্রান্তিকাল|
মার্চ-এপ্রিল মাসে ইস্টারএর ব্যবসা জমে ওঠে| চকোলেটিয়ারদের জন্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়| ইস্টার খরগোশ আকৃতির চকোলেটের এতো চাহিদা থাকে যে তারা যোগান দিয়ে উঠতে পারে না| এবার সেই চাহিদা বিলকুল হাপিস| লোকে প্রাণ বাঁচাবে না চকোলেট খাবে?
লুকাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল| খোঁজ নিতো আমার মায়ের| ভারতে সংক্রমণের হার তখন কম – নিশ্চিন্ত হতো শুনে| লকডাউনে চকোলেটের বিক্রি বন্ধ তাই রোজগারপাতিও নেই| ব্যাংকে জমানো টাকা ভেঙে চলছিল ওদের| অ্যাডামের স্কুলও বন্ধ| কিন্তু সুস্থ ছিল তিনজনেই| বেলজিয়ামে যখন সংক্রমণ তুঙ্গে, ওরা নিজেদের কড়া আইসোলেশনে রেখেছিলো| তারই সুফল|
এমন করেই ভালোয় মন্দয় কাটছিলো সময়|
তারপর একসময় সংক্রমণ কমলো| বেলজিয়ামে দোকানপাট খুলতে শুরু করলো| সামনেই একুশে জুলাই, বেলজিয়ান ন্যাশনাল ডে| চকোলেটের অর্ডার আসতে শুরু করলো| দিনকাল যখন সবে একটু স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে, লুকাস পড়ে গেল করোনার কবলে|
শুনে আমি হতভম্ব! অ্যাদ্দিন কিছু হলো না, শেষকালে এখন?
মারিয়া জানালো, লুকাস গেছিলো অ্যান্টওয়ার্প| কোকা বিন এসেছে ভেনেজুয়েলা থেকে| এই বন্দর দিয়েই গোটা বেলজিয়ামের চকোলেট শিল্পের কাঁচামাল কোকা বিন ঢোকে| লকডাউনের পর কোকা বিন ভর্তি প্রথম জাহাজটি এসে ভিড়েছে অ্যান্টওয়ার্পএর বন্দরে| তারই ডেলিভারি নিতে গেছিলো লুকাস|
ফিরে এসে গলায় ব্যথা, জ্বর নিয়ে শয্যাশায়ী| টেস্টে কোভিড পজিটিভ বেরিয়েছে, তাই সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে কোয়ারান্টাইন| বেসমেন্টে থাকছে লুকাস| মারিয়া রীতিমতো মাস্ক, শিল্ড পরে তার কাছে খাবার পৌঁছতে যায়| ডাক্তার বলেছে পুরোপুরি বেড রেস্ট|
এদিকটা সামলে নিলেও কিন্তু সমস্যা হয়েছে অন্যদিকে|
কাজপাগল লুকাস বিছানা থেকে চিঁচিঁ আর্তনাদ করেই যাচ্ছে, “ওরে আমার কি সব্বোনাশ হলো রে!”
ব্যাপারটা এই| টানা তিনমাস দোকান বন্ধের পর লুকাস সবে একটা বড় অর্ডার পেয়েছিলো| বেলজিয়ান ন্যাশনাল ডে আগতপ্রায়| ট্র্যাডিশন মেনে প্রতি বছরই বেলজিয়ান রাজবাড়ী থেকে বিখ্যাত চকোলেটিয়ারদের কাছে চকোলেটের অর্ডার যায়| লুকাস অনেক বছর ধরেই রাজা-রানির চকোলেট বানায়| সে বিছানায় পড়ে যাওয়ায় এবারের অর্ডার তো সোজা নর্থ সি-র জলের তলায়! লুকাসের কাছে তা মৃত্যুতুল্য|
আমি মারিয়াকে সান্ত্বনা দিয়ে বললুম, “পরের বছর বানাবে’খন| আগে সুস্থ হয়ে উঠুক| সেটাই এখন সব চেয়ে বড়ো কথা|”
দিনকয়েক আগে ভাবলুম খবর নিই আরেকবার| কেমন আছে, সারলো কিনা| বেলজিয়ান ন্যাশনাল ডে পেরিয়ে গেছে, রাজবাড়ীর চকোলেটের অর্ডার ক্যানসেল করেছে নিশ্চয়ই| আহা রে!
ভিডিও কলে লুকাসের মুখে একগাল হাসি| চুলগুলো বড়ো হয়ে গেছে, রোগাও হয়েছে| অসুখটা ভালোই ভুগিয়েছে| কিন্তু চোখমুখ উজ্জ্বল|
“রাজবাড়ীতে ঠিক সময়ে চকোলেট ডেলিভারি হয়েছে|”
পিছন থেকে মারিয়া উঁকি মারছে| তারও মুখে হাসি|
আমি তো তাজ্জব, “তবে যে শুনলুম তুমি মাথা তুলতে পারছিলে না?”
“সে তো বটেই, মনে হতো যেন মাথাটা ডুবে আছে জেনে (Zenne) নদীর জলের তলায়| মুখে স্বাদ ছিল না, জিভখানা যেন বিষ তেতো | নাকে গন্ধও পেতুম না| সর্বাঙ্গে ব্যথা| উফফ, এমন অসুখ যেন শত্তুরেরও না হয়|”
আমি আরও আশ্চর্য, “তাহলে রাজকীয় চকোলেট বানালো কে? ভূতের খোকারা?”
একচোখ বন্ধ করে বললে, “বুঝিয়ে বলো|”
উপেন্দ্রকিশোরের গল্পে মুচির বাড়িতে রাতে ভূতের খোকারা এসে জুতো সেলাই করে যেত – সে শুনে খানিকক্ষণ হাহা করে হাসলো|
“বেড়ে গল্প, খাসা গল্প| তা আমার বাড়িতে ভূতের খোকারা না থাক, পেটারস খোকা তো আছে!”
এবার আমার পালা, “বুঝিয়ে বলো|”
একগাল হেসে বললো, “অ্যাডাম আছে না? বাপকা বেটা| আমার শরীর খারাপ দেখে বললো, ‘ন্যাশনাল ডে তে রাজবাড়ীতে চকোলেট যাবে না? তাও কি হয়?’ ব্যাস, লেগে পড়লো কোকা বিন নিয়ে| ওই যে, যেগুলো আনতে আমি অ্যান্টওয়ার্প গেছিলুম|”
আমি আরও অবাক, “তবে যে তুমি বলেছিলে অ্যাডামের শেখার কোনো ইচ্ছে নেই?”
এবার মারিয়া হাল ধরলো, “আমি তো বরাবর লুকাসকে বলতাম, ওকে একটু সময় দাও, দেখবে ও-ও তোমার মতোই চকোলেটিয়ার হবে| বাপ-ঠাকুদ্দার রক্ত যাবে কোথায়?”
লুকাস মিটিমিটি হাসছে, “তা ঠিকই বলেছে মারিয়া| অ্যাডামের হাতের গুণ আছে| একেবারে পেটারসদের রেসিপি মেনে চকোলেট বানিয়েছে| কে বলবে, ওটা আমার বানানো নয়?”
মনে পড়লো, গতবছর লুকাস আমাদের চকোলেট-মেকিং দেখিয়ে শেষে বলেছিল, “সবার শেষে মেশাতে হয় আরেকটা জিনিস| ওটা ছাড়া চকোলেট তৈরী করা যায় না| কি বলো দেখি?”
নিজেই উত্তর দিয়েছিলো, “ভালোবাসা|”
আজ বুঝলাম, সেই ভালোবাসার বীজ অ্যাডামের মধ্যেও চারিয়ে গেছে| পেটারস চকোলেট তার স্বমহিমায় বিরাজ করবে আরও অনেক অনেক বছর|