COVID-19

Novel Coronavirus SARS-CoV-2.jpg

করোনা ভাইরাস: নিজেকে আক্রান্ত মনে হলে কী করবেন, কোথায় যাবেন ?

 

১. শুরুতেই আলাদা হয়ে যান

করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম লক্ষণ হলো জ্বর এবং শুকনো কাশি। এছাড়া থাকতে পারে শরীরের পেশীতে ব্যথা, গলা ব্যথা, স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি না থাকা, শ্বাসকষ্ট, কখনো পেট খারাপ ও বমি বা বমি বমি ভাব।

চিকিৎসকেরা মনে করেন, কেউ যদি নিজের মধ্যে এ রকম একাধিক লক্ষণ দেখতে পান, তাহলে শুরুতেই ‘সেলফ-আইসোলেশনে’ চলে যান, অর্থাৎ নিজেকে পরিবারের বাকি সদস্যদের কাছ থেকে পুরোপুরি আলাদা করে ফেলুন।

 

২. নমুনা পরীক্ষা করাতে হবে

যদিও চিকিৎসকেরা বলছেন, এখন সাধারণভাবে জ্বরের সঙ্গে আরো এক বা একাধিক উপসর্গ দেখা গেলে কোভিড-১৯ ধরে নিয়েই ব্যবস্থা নিতে হবে অর্থাৎ নমুনা পরীক্ষা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

সরকারি এবং বেসরকারি উভয় হাসপাতালেই নমুনা পরীক্ষা করানো যায়। সেক্ষেত্রে, স্বাস্থ্য দপ্তরের হটলাইন নম্বরে ফোন করে, অথবা স্থানীয় হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।

 

৩. গরম জলের গার্গল ও ভাপ নিতে হবে

আপনি হয়ত নমুনা পরীক্ষা করতে দিয়েছেন, কিন্তু তার রিপোর্ট আসা পর্যন্ত বসে না থেকে প্রতিদিন নিয়ম করে কিছু কাজ করতে হবে।

এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে গরম জলের গার্গল করা, এবং চিকিৎসকেরা বলছেন দিনে অন্তত চার থেকে ছয়বার গার্গল করুন। এছাড়া দিনে কয়েকবার গরম জলের ভাপ নিন।

 

৪. পুষ্টিকর খাবার খান

চিকিৎসকেরা মনে করেন, এ সময় ইম্যুনিটি অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এমন খাবার খান।

এজন্য প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি করে খাবার খান। স্যুপ খেতে পারেন। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খান।

 

৫. চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের কথা মেনে চলুন

এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা সামাজিক মাধ্যমে কারো শেয়ার করা প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ খেতে নিষেধ করছেন। টেলিফোনে কিংবা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, নিজের উপসর্গ ও লক্ষণ অনুযায়ী ওষুধ খাবেন।

তবে ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি জাতীয় ওষুধের কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, তাই সেটি প্রেসক্রিপশন ছাড়াও খেতে পারেন। এবং সাথে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে সহায়তা করুন ।

 

৬. শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা খেয়াল রাখুন

এসময় শরীরে অক্সিজেনের মাত্রার ওঠানামা খেয়াল রাখতে হবে। পালস অক্সিমিটার নামে ছোট একটি মেডিকেল যন্ত্র এক্ষেত্রে হাতের কাছে রাখতে পারেন।

আঙুলের মাথায় লাগিয়ে হৃৎস্পন্দন ও শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা মাপা যায়।

সাধারণত পালস অক্সিমিটারে ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশ অক্সিজেন মাত্রাকে স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়।

অর্থাৎ অক্সিজেনের মাত্রা ৯৫ শতাংশের কম হলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়, যার ফলে শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা, বুক-ব্যথা, কিংবা হৃৎস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে।

 

৭. মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে

কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন বেশিরভাগ মানুষ। চিকিৎসকেরা মনে করেন, এসময় রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে, এবং তাকে সাহস দিতে হবে।

ইতিবাচক চিন্তা করতে সহায়ক কাজকর্ম করা, এবং প্রয়োজনে মনোবিদের সাহায্য নিতে হবে।

 

৮. ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের বিশেষ সতর্কতা

কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তদের মধ্যে যাদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা অ্যাজমার মতো স্বাস্থ্য সমস্যা আছে, কিংবা যাদের বয়স বেশি তাদের ঝুঁকি অন্য রোগীদের বেশি।

সেজন্য আপনাকে বাড়তি কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

অন্যান্য কোভিড-১৯ রোগীর জন্য যা যা করনীয়, তাদের জন্যও সেগুলো প্রযোজ্য হবে।

খেয়াল রাখতে হবে শরীর যাতে পানিশূন্য হয়ে না যায় এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম করুন।

সেই সঙ্গে আগে থেকে যেসব ওষুধ চলছিল সেগুলো চালিয়ে যেতে হবে। তবে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

 


 

করোনা সম্পর্কে আরও জানতে :

ভারত সরকার করোনা পোর্টাল ১  ভারত সরকার করোনা পোর্টাল ২

পশ্চিমবঙ্গ সরকার করোনা পোর্টাল ১  পশ্চিমবঙ্গ সরকার করোনা পোর্টাল ২