মরণোত্তর

গণপতি কর মরার পরে খবর হলেন।
খবরের কাগজে, টিভিতে, রেডিওতে
সে – খবর প্রচারিত হল। বিবেকনগরের
বাসিন্দা ছেলেছোকরার দল ভাবল,
তাহলে এতদিন বুড়োটা যা বলত তা
সত্যি! উনি একজন স্বাধীনতা – যোদ্ধা
ছিলেন! নেতাজির আজাদ হিন্দ ফৌজে
ছিলেন এক সময়! তাম্রপত্র নেন নি
নেতাজি সম্পর্কে শাসকদলের দ্বিচারিতার
প্রতিবাদে।
পঁচানব্বই বছর বেঁচে ছিলেন কিন্তু কিছুই
তো দেওয়া হল না তাঁকে। নিদেনপক্ষে
ধুতি আর শাল সঙ্গে একটা মিষ্টির বাক্স
আর ফুলের তোড়া তো দেওয়া যেত।
রোজকার সন্ধের রকের আড্ডায়
সাত্যকিই প্রস্তাবটা দিল– বেঁচে থাকতে
দেওয়া যায় নি তো কী হয়েছে! মরার
পরেও তো কিছু করা যায়। প্রস্তাব পাশ
হল– পৌরসভার কাছে দাবি জানানো
হবে– এলাকার একটা রাস্তা প্রয়াত
গণপতি কর– এর নামে নামাঙ্কিত করতে
হবে, আর একটা আবক্ষ মূর্তি বসাতে
হবে বিবেকনগরে।
মিছিল বেরুল পরদিন সন্ধ্যায়। সেখানে
ধ্বনি উঠল — গণপতি কর তোমায়
আমরা ভুলছি না ভুলব না। গণপতি কর
অমর রহে, অমর রহে।