জীবনানন্দ

অঘুমে জেগে থাকে নিশাচরও জেগে ওঠে যদি
দেহপটে কখনো শরীরী লোমকূপে
পলক ফেলেছে চোখে সবেমাত্র জেনো
শ্রুতির স্বরগমে ধেয়ে আসে পৃথিবীর গান
কলরোল নেই কোথাও শুধু জেগে আছে চোখে
আনন্দ বিষাদে
সাথে আরো কেউ কি জেগে রয়
বিছানার ওপাশে নিশীথ পাহারায়
অলিন্দ থেকে আসে বাতাসের পায়চারী
পরিজনবাসীদের শব্দঘুম মৃদুমন্দ ভাসে
অভিজ্ঞ পেঁচকের শীৎকার ধ্বনি ওঠে
ডানার ঝাঁপটানি আঁধারের বুকে পালকের ক্রন্দনগীতি
কোনোখানে কেউ চুপি চুপি বলে নাকি
জীবনের সাথে সাথে জেগে থাকা বড়ো ভাল
নয়তো মৃত মনে হয় মমির মতো পিরামিডের দেশে
স্থবিরতা থাক অচেতন থাক নীরব কথা গুলি থাক
তবু তো সংখ্যাবিশেষে এক প্রাণী জেগে থাকে
পৃথিবীর কোন গোপন মলাটে
তুমি যার প্রচ্ছদ ভেতরে হয়তো পাপ অপাপবিদ্ধ অক্ষর সংলাপ রক্তস্রোতা চুর চুর ভেঙে যাওয়া কাঁচে বিবর্ণ ছবির পৌরাণিক হাসি অথবা
শতদিবসের বিবর মথিত দলাপাকানো অবিরাম অশ্রুজল
ধীরে ধীরে চরণের ধ্বনি আসে যেন ওই
সে যে এক মহা মহাপ্রতিম কাব্যপুুরুষ
রূপসী বাংলার জীবনানন্দ

 

সে

এই তো এখানে দাঁড়িয়ে
হাড়ে হাড়ে রক্তেমাংসে চিনি
দেহজ কিনারায় কল্পিত কিরণে
বুকে সূর্যের লকেট চোখে চাঁদের পাহাড়
ক্ষণে ক্ষণে বায়ুমন্ডলে একটি পরিচিত শ্রেণী
হাতের মুঠোয় ধরে আছে পার্থিব উত্তাপ
পায়ের নখে লেগে আছে একাত্ম ঘাসমাটি
ত্বকের আবহে তৃতীয়সমগ্র ঘিরে আছে
এই হেসে উঠছে তো পরক্ষণেই
চোখ ভিজে যাচ্ছে
এই দুঃখ পাচ্ছে তো আবার এই আনন্দ পাচ্ছে
তাকে  দেখে পাগল ভাবছে কেউ
হা হা হেসে উঠছে আওয়াজ দিচ্ছে ওরা
ওর জোব্বায় কি চ্যাটচ্যাটে নোংরা?
না কি উন্মাদের দুর্গন্ধ? পেচ্ছাবের হলুদ গ্রাফ?
না কি মুখে প্রলাপের অ্যাসাইলাম?
একটা তফাত থেকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে
মাঝে অদৃশ্য সরলরেখায় টলটলে জল
পা ডুবে আছে হৃদয়রেখায়
আলোয় স্নান আঁধারে ত্রাণ
এসব  মিলে যে সব বেঁচে থাকাগুলি রয়ে গেল
সেখানে সেইই তো পরিচিত হল সে হিসেবে
সবার মাঝখানে একক ভূমিজ
এই সাধারণতন্ত্রে
দোহাই আনমনা রেখো না  তাকে যতক্ষণ…..