সোনা ধানের সিঁড়ি

৯২

বেশ অনেকগুলো বছর কবিতার সঙ্গে ঘর করা হয়ে গেল। প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত তার কাছ থেকে কিছুই চাই নি। আসলে না চাইতেই সে আমার দু’হাত ভরে এতকিছু দিয়েছে যে বলে শেষ করা যাবে না। এমন কত মানুষ যাদের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হতো না যদি না আমার কবিতার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হতো।
প্রথম যখন কবিতা লেখা শুরু করি তখন কবিতা লেখার আনন্দেই ডুবে থাকতাম। আজও সেই আনন্দ আমার সামান্য মাত্র কমে নি। বরং তা ক্রমশ উর্দ্ধমুখী। বোকার মতো শুনতে লাগলেও আমি অনেক পরে এসে দেখলাম, কবিতা শুধু লিখলেই হবে না তাকে ছাপানোর ব্যবস্থাও করতে হবে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়। কবিই সেই ছোটাছুটিটা করবেন। অবাক হয়ে দেখলাম, কবিতা কেমন লেখা হচ্ছে তা নিয়ে কোনো চিন্তা ভাবনা নেই, কবিতা কতগুলো পত্রিকায় ছাপা হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করছে তিনি কত বড় কবি। তাই কবিরা অনেক অনেক বেশি চিন্তিত তার কবিতা নিয়ে নয়, সম্পাদকদের নিয়ে। কারণ একজন কবির যত বেশি বেশি সংখ্যক সম্পাদকদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে সেই কবির আগামী দিন ঠিক ততটাই পরিস্কার।
এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের ভিন্ন ভিন্ন কবিতা উৎসবে অংশগ্রহণ এবং উৎসবের মঞ্চে কবিতা পাঠ। একজন কবি যত বেশি সংখ্যক কবিতা উৎসবে অংশগ্রহণ করবেন আমরা ধরে নেব সেই কবির জনপ্রিয়তা গগনচুম্বী।
পরিশেষে একটা কথা বলি, লিখে যে আনন্দ পাই তা বর্ণনা করার মত ভাষা আমার জানা নেই। আমৃত্যু আমি এই আনন্দেই ডুবে থাকতে চাই।