জন্ম ; ২৩ শে জুন ১৯৭৪ মহারাষ্ট্রের পুনা শহরে নব নালন্দা হাই স্কুল থেকে ১৯৯১ সালে মাধ্যমিকে উত্তির্ণ. বিস্বভারতী শান্তিনিকেতন থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকত্তর ডিগ্রী লাভ. পেশায় : শিক্ষিকা, লেখালিখি নেশা ও ভালবাসা

আরশি কথা

পরেরদিনটা সারাদিন কেটে গেল আশেপাশের গ্রামে স্ক্রোলের সন্ধানে. রিং চেং পং এ অনেকের বাড়ীতে স্ক্রোলের সন্ধান পাওয়া গেছে. তাতে শুধু বুদ্ধ জাতকের গল্পই নেই, আছে চৈনিক ইতিহাসের গল্প. চৈনিকদের সাত হাজার বছরের পুরোনো সভ্যতা. বুদ্ধদেব জন্মেছেন মাত্র আড়াই বছর আগে. আর যীশু তো মোটে দু হাজার বছর আগের লোক. বোঝা যায় যে চীন দেশেও পেগনরা ছিল. তাঁরাও দেবদেবীর পুজো করত. স্ক্রোলের গায়ের গল্প থেকে জানা গেল মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকজনও বাস করেছেন চীনে. যে চীনা অভিযাত্রী প্রথম আমেরিকা গিয়েছিলেন, তিনি মুসলমান ছিলেন নাম ‘এডমিরাল জেং’ আসল নাম ‘মা সান পাও’. এ সমস্ত কথা অপূর্ব উদ্ধার করল. মঞ্জরী এখানে এসে অবধি প্রকৃতিতেই ডুবে আছেন. একা একা গ্রামের পথে পথে হাটছেন. স্ক্রোলের গল্প উদ্ধারে কোন সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন নি.
অপূর্ব নিজের ক্যামেরায় প্রচূর ছবি তুলল. মেই লিং কিউরিও শপের জন্য প্রচুর মিউজিকাল চাইম, লাফিং বুডহা, স্ক্রোল, গ্রামবাসীদের হাতে তৈরি পেনডেন্ট, কানের দুল সংগ্রহ করলেন.
সেদিন সন্ধ্যেবেলা সকলে মিলে মনাষ্ট্রীতে যাওয়া হল. হালকা ধূপের সুগন্ধ, নৈ:শব্দের নিজস্বতায় মেডিটেশন হল পরিপূর্ণ. প্রধান সন্ন্যাসী এগিয়ে এলেন ঝোরাদের অভ্যর্থনা করতে. তিনি অভিবাদন জানিয়ে বজ্রগম্ভীর গলায় কথা শুরু করলেন .
‘আপনারা স্কুল অফ এন্থ্রপোলজির জন্য তথ্যচিত্র তৈরি করছেন. যদিও ব্যাবসার কাজের সাথে আমাদের সন্ন্যাসীদের কোন যোগাযোগ নেই, আমরা তাঁর দেখান পথ অনুসরণ করি মাত্র. আমাদের কর্তব্য তাঁর বাণী রক্ষা করা. এই রিং চেং পং এর মনাষ্ট্রীর গুপ্ত কক্ষে আছেন এক দুষ্প্রাপ্য তথাগত. সেই মূর্তির কথা আপনারা আপনাদের তথ্যচিত্রে রাখতে পারেন তবে একথাও বলে দেবেন এই মূর্তি নিজের শক্তিতে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম. লোভ, লালসায় ভরপুর কোন মানুষ এই মূর্তির ধারে পাশে আসতে পারবে না.
মেডিটেশন হলের দেয়ালে এক অয়েল পেনটিং এর মাঝামাঝি চাপ দেন সন্ন্যাসী. দুদিকে দেয়াল সরে যায়, বেড়িয়ে আসে এক সুড়ঙ্গ. ঝোরাদের সাথে করে সুড়ঙ্গ দিয়ে নামেন সন্ন্যাসী, হাতে মোমের প্রজ্জ্বলিত শিখা, অপূর্বর হাতেও এক বিশাল মোমবাতি. ঝোরাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলে দুই প্রজন্মের দুই আলোর পথযাত্রী. এক সন্ন্যাসী আর এক উদাসী তরুন. এক অদ্ভুত ভালো লাগা আছন্ন করে ঝোরাদের. সন্ন্যাসী হাতের চাপে খুলে ফেলেন এক ছোট্ট সিন্দুক. বার করে আনেন সোনার বরণ মহাযোগীকে. দু ইঞ্চির মত লম্বা মূর্তি, ড্রাগণ দুটি এক ইঞ্চি করে লম্বা. ড্রাগণদের চোখে দুটি করে হীরে, তথাগতর শিরে একটি, তাঁর সিংহাসনের নীচে আরও দুটি চুণী ও একটি হীরে. রত্নের দ্যুতিতে ঝলমল করে উঠল সুড়ঙ্গ. সন্ন্যাসী বললেন ‘ এই পবিত্র মূর্তি রক্ষা করে ব্ল্যাক প্রিন্স’ দ্য রয়েল ব্ল্যাক প্যান্থার ‘. সুড়ঙ্গর ভিতরে ব্ল্যাক প্রিন্সকে সঙ্গে করে তখন উপস্থিত হয়েছেন আরেক সন্ন্যাসী.

ক্রমশ