জন্ম ; ২৩ শে জুন ১৯৭৪ মহারাষ্ট্রের পুনা শহরে নব নালন্দা হাই স্কুল থেকে ১৯৯১ সালে মাধ্যমিকে উত্তির্ণ. বিস্বভারতী শান্তিনিকেতন থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকত্তর ডিগ্রী লাভ. পেশায় : শিক্ষিকা, লেখালিখি নেশা ও ভালবাসা

আরশি কথা

একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে ঝোরা সেদিন রাতে. এক নীল বরণী নদী, তার পারে থরে থরে ফুটে আছে রক্তবর্ণ অর্কিড. আর তারপরই আস্তে নীল বরণী নদীর জল রক্তলাল হয়ে উঠল. যেন অর্কিডের লাল রং নীল নদীর জলে মিশে যাচ্ছে. আর তারপরই মনে হয় কেউ যেন ঝোরাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ওই লাল রঙা জলের দিকে. ঝোরা প্রাণপন পারে ফিরতে চাইছে হাত, পা ছূড়ে. ঘুমটা ভেঙে যায় ব্রাহ্মমূহূর্তে. দরদর করে ঘামতে থাকে ঝোরা. উঠে ছাদে চলে যায় সে, আকাশের সাথে কথা বলাটা জরুরি.আকাশে তখনো একদিকে নিভন্ত তারার সাম্রাজ্য আরেক দিকে সিঁদুরে আভা. আকাশের সাথে অনেক কথা বলে ঝোরা. স্বপ্নটার কথাও বলে. আকাশ সব মন দিয়ে শোনে. তারপরই ঝোরা খেয়াল করে আকাশের গায়ে নরম নীল রঙ ধরেছে. তার মানে আকাশ বলছে কোন ভয় নেই, সব ঠিক থাকবে. আকাশের ইঙ্গিত বুঝে নিয়ে, বেশ ঝরঝরে মন নিয়ে নীচে নেমে আসে ঝোরা.
ব্রেকফাষ্টের টেবিলে সকলের দেখা হয় আবার. ‘মায়ারাজ্যের ব্যাপারটা কাল যেন কি বলছিলে?’ স্থিতধী জিজ্ঞেস করেন. ‘ আসলে স্ক্রোলের গায়ে এক মায়ারাজ্যের গল্প আছে, সেই গল্পে বলা আছে এমন এক দেশের কথা যার আনাচে কানাচে মানিকের ছড়াছড়ি, কাল অপূর্ব বলছিল এই মায়ারাজ্যের ঠিকানা লেখা আছে স্ক্রোলের গায়ে. তথাগত বুদ্ধের আশীর্বাদে অত্যন্ত কল্পনাপ্রবণ মানুষ আরশীর ভিতরে মায়ারাজ্যের সন্ধান পেতে পারে. হয়তো বা গল্প কথা, না কি এরম কোন জায়গা বাস্তবে আছে তাই বা কে জানে’. ‘থাকতেই পারে পাহাড়ের আনাচে কানাচে কত অজানা, অদেখা জনপদ আছে, হয়তো সেরকম কোন জায়গা আছে.’ স্থিতধী বলেন. ‘তোর মা যে তেল, সাবানের বিজ্ঞাপন লিখতে লিখতে একেবারে চীনে ইতিহাস, চীনে স্ক্রোলের গল্পের ভিতর ঢুকে পড়ল রে আকাশ’. কথা শুনে মনে হয় বাড়ির সকলে ঝোরার এই ইতিহাস ঘাটাঘাটিতে বেশ খুশি সকলে. ঝোরা যে খানিকটা ছিটেল, বেশ কিছুটা ছন্নছাড়া, এবং অনেকটা কল্পনাপ্রবণ স্থিতধী জানেন. স্থিতধী নিজেও সংসারী নন. অঙ্ক, ফিজিক্সের জগতেই থাকেন, এইসব মেনে নিয়ে দুজনের সাংসারিক জীবন সমান্তরাল রেখায় চলে. ঝোরার ইতিহাস অন্বেষণ স্থিতধীকে বেশ কৌতুহলী করে তুলেছে এবার, না হলে ঝোরার কাজকর্ম নিয়ে উনি বেশি মাথা ঘামান না.
টোষ্টে মার্মালেড মাখাতে মাখাতে আকাশলীনা জিজ্ঞেস করে ‘তোমাদের শুট্যিং টিমে কি উম্যেন মেজোরিটি মা?’ আকাশলীনা জিজ্ঞেস করে. ‘না: শুধু আমরা তিনজন মহিলা, প্রোডাকশন টিমে তো সকলেই ছেলে.’ ‘ড: মঞ্জরী বসু তোমাদের সাথে এমনি যাচ্ছেন?’ ‘হ্যা, নিজেই বললেন যাবেন, ওনার ইন্টারভিউ তো আগেই হয়ে গেছে’.’ এটা বেশ অদ্ভুত কিন্তু, ওনার মত এত নামকরা মানুষ, নিজেই তোমাদের সাথে যেতে চাইলেন’. আকাশ বলে. ‘তা বটে বলা তো যায় না, হয়তো আমাদের ওনার ভালো লেগেছে’.
কথায় কথায় ঘড়ির কাটা এগোয়. আজ ঝোরাদের কলকাতা পর্বের শেষ এডিটিং, কাল সকালে ফ্লাইটে সিকিম যাত্রা. তড়িঘরি তৈরি হয়ে বেড়িয়ে পড়ে ঝোরা.

ক্রমশ…