অন্তর্ধান – ১১

রজত ওল চিকি ভাষা রপ্ত করতে ব্যস্ত। পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু সম্পর্কে আরো জানতে উৎসুক।দেবলীনা খুশি হয়। রঘুনাথ মুর্মুর নাটক প্রিয় আজও।রজত সাঁওতালি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করতে চায় কম জনপ্রিয় কিছু সাহিত্য।
ছোটো নবাবগঞ্জের হাটতলায় গ্রামের প্রান্তে একটি ছোটো বাড়ি। এখনো ইঁটগাঁথা এসবেস্টরের।এদিকটা এখনও তেমন জনবসতি নেই। অভিজিৎ উঠোনে বসে আছে। আজ রাতেই আছে কাজটা। মাল্লু ভালোই।
বাসন্তী ঘরে টুকটাক কাজ করছে।কথা নেই আর তেমন। নেকবর শেখ।মুসলমান আর অভিজিৎ দাশ হিন্দু।কোনটা সে এখন আর মনে পড়ে না।
পাঁচ বছর আগে কালিয়াগঞ্জ জেলার সদর থানায় আগুন লাগানোর ঘটনা ও হেমতাবাদ খুনের মামলায় সে জেল খাটা আসামী।
আগামী আট মাস পর পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য জামিনে মুক্তি যার জন্য তার সুরক্ষায় তার খুনের হাতেখড়ি। অতীন্দ্র। মোহিনীমোহনের ভাই।কাপড়ের ব্যবসা করত। নেকবরের তখন অনেক টাকার প্রয়োজন। আজ আর নেই।
কিন্তু এই ঊর্ননাভর একটি ক্ষুদ্র অংশ এখন সে।
পাকাপাকিভাবে মেয়ে পাচারের ব্যবসায় ত এনেছিল বাসন্তী র বাপ রসিক মিস্ত্রি। সেও অনেক আগের কথা। কথার আগেও অনেক কথা থাকে। সামনে মাঠটা ক্রমে অন্ধকার হয়ে আসছে।কালচে গাছ।ছায়া নেই কারন আলো নেই কোথাও। দেবযানী বড় ঘরের মেয়ে জেনেও কেন যে ভালোবাসলে তাকে।নাকি পুতুলখেলা। সেই ফাগুন পূর্ণিমার রাতটা ত খেলা ছিল না।সেই জেগে ওঠা যবগাছ, সেই বৃষ্টির নেশা আর ছোটো উর্বর উপত্যকা।আগুন জ্বলেছিল। অঙ্গাঙ্গী উন্মাদনা বীজ বুনেছিলো ভূমি তে।
দেবযানী নেই। আর ওই চারাগাছটা।তাকে সবিতা বৌদি বাঁচাতে পারেনি।
কালো বাদুর গুলো হেঁটমুণ্ড থেকে সোজা হয়।পাল পাল উড়ে যাচ্ছে কাজে।শিকারের সন্ধানে কূর প্যাঁচা।তার শিকার একজনই। আসাদুল ওরফে প্রশান্ত মুখার্জি। শাসকদলের ঘনিষ্ঠ।
পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই যে কালিয়াকে বাঁচাবে।
রগ ফুলে উঠছে অভিজিতের। কালিয়াকে জ্যান্ত চাই।একমাত্র সে-ই হন্তারক।
মাঠের ওপর ছোট্ট চাঁদ। তার কন্যা। তার। হ্যাঁ তার ঔরস।ম্লানমুখে তাকিয়ে। অস্থির ইকবাল দুটো পোষা অস্ত্র হাতে নিঃশব্দে অন্ধকারে মিলিয়ে যায় অভিজিৎ ওরফে ইকবাল শেখ।
ধীরে ধীরে রাত নামছে। কাঁসাই নদীর মোহনার দিক থেকে মন কেমনের হাওয়া। ছুটি শেষ।কাল ভোরে রওনা দিয়ে পৌঁছে যাবে ছোটো নবাবগঞ্জ।
রজত কাছে।খুব কাছে। বাবু আর মা,ভাইবোন সবাই। যেন এক প্রাগৈতিহাসিক সংসার। আগুন জ্বলছে।দূরে গান হচ্ছে। গুনগুন করে দেবলীনা। চোরাগোপ্তা আক্রমণ শানিয়ে প্রণয়।তবু এখন সামনে অনেক হিসেবের পদক্ষেপ।
দিনাজপুর, কালিয়াগঞ্জ, বাখরপুর,ছোটো নবাবগঞ্জ, মালদা অঞ্চলের বিস্তীর্ন ব্যবসা জালবিছিয়ে রাখা আছে।মেয়ে পাচার,গরুবেচা,কোকেন ও ড্রাগ পেডলিং খুব স্বাভাবিক আয়ের উৎস।
বি এস এফের এক শ্রেণীর জওয়ান আর ওপর থেকে নিচু স্তরের রাজনৈতিক নেতাদের ভেতর চলছে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা।
মোহিনীমোহন মার্ডার কেস তার একটা ছোট্ট পর্ব।
অনেক গণিত। বিরোধীদলীয় নেতার চাপ আর সরাসরি শাসকের নির্দেশ এড়িয়ে চলতে হয় এই চাকরিতে। চ্যালেঞ্জ প্রতিনিয়ত। এখন কি মন দেওয়া নেওয়ার সময়!

ক্রমশ…