দেবী কুষ্মান্ডা: নবদুর্গার চতুর্থ রূপ: সদা হাস্যময়ী।

আজ নবরাত্রির চতুর্থ দিবস। মহামায়া আজ এক ভিন্ন রূপে পূজিতা। ভক্তদের আকুল প্রার্থনায় নেমে এসেছেন এই মায়াধরণীর মাঝে। দেবী কুষ্মান্ডা। দেবী অষ্টভুজা। বিবিধ অস্ত্রে সুসজ্জিতা। দেবীর জপমালায় বর্তমান সকল সিদ্ধির আদিস্রোত। দেবী সদাহাস্যময়ী। অনন্তকাল ধরে আশীষ বর্ষিত হচ্ছে তাঁর ভক্তদের উপর।
  দেবীর উৎপত্তির কাহিনী বড়ই রোমহর্ষক। সৃষ্টি তখন এক গভীর আঁধারে আবৃত। কোথাও কোন প্রাণের সঞ্চার নেই। এই আকাশ ও সমুদ্র এক  নিষ্প্রাণ অস্তিত্বের সম! ঠিক সেই শুভ মুহূর্তে দেবী আবির্ভূতা হলেন। তাঁর তেজরাশি বিচ্যুত হতে লাগল। তাঁর স্নিগ্ধ ও কোমল হাসি সৃষ্টিকে মুক্ত করল। দেবী চতুর্দিক আলোকরে সৃষ্টি সৃজনে নিজেকে সমর্পণ করলেন। দেবী এই ব্রহ্মান্ড ও কুষ্মান্ড এর সাথে যুক্ত বলে দেবীর নাম কুষ্মান্ডা। কিন্তু সৃষ্টি সঞ্চালনায় প্রয়োজন স্বয়ং সূর্যদেবকে, দেবী সেই পরম মাহেন্দ্রক্ষণে সূর্যদেবকে আহ্বান করলেন। দেবীর শক্তি পুঞ্জের সাহায্যে সূর্যদেব এই বিপুল সৃষ্টিকে আলো ও তাপ প্রদান করতে সক্ষম হলেন।  কথিত আছে পরমা প্রকৃতি স্বয়ং এই রূপে সূর্যদেবের কেন্দ্রে অধিষ্ঠিত আছেন, সেই অনন্ত কাল ধরে!
দেবী মূলত ব্যাঘ্রবাহিনী। দেবীর পবিত্র মুখমন্ডল এই মর্তবাসীদের এক অশেষ তৃপ্তি প্রদান করে। সৃষ্টির অনুপরমাণুতে দেবী বিদ্যমান। এ এক চিরন্তন সত্য। শুধুমাত্র নৈবেদ্য, শঙ্খধ্বনি বা প্রদীপের শিখা নয়, চাই সেই অনাবিল ভক্তিধারা, সেই অটল বিশ্বাসের দিব্যদ্যুতি, তবেই পরমেশ্বরীর কৃপা পাওয়া সম্ভব। তিনি যে সকলের আদরের মা। ঘরে ঘরে উমামহেশ্বরী!!
 “শুভ নবরাত্রি”

কুণাল রায়।