দেবী সিদ্ধিদাত্রী: নবদুর্গার নবম রূপ: সকল তপস্যার ফল প্রদায়িনী

আজ মহানবমী। দেখতে দেখতে পুজোর তিনদিন কেটে গেল। কিন্তু পুজো এখনও বেশ কিছুটা বাকি। বছরের এই একটা সময় যখন মা আমাদের মাঝে আসেন। অনাবিল আনন্দ ও অফুরন্ত খুশীতে ভরিয়ে দেন দিনগুলো।  মহামায়া আজ তাঁর নবমরূপে পূজিত হবেন গৃহে গৃহে। মায়ের এই রূপের নাম সিদ্ধিদাত্রী। ‘সিদ্ধি’ শব্দের অর্থ হল সাফল্য যা কঠোর তপস্যার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। এবং ‘দাত্রী’ শব্দের অর্থ হল যিনি প্রদান করেন সেই অসামান্য সাফল্য। দেবী মূলত সিংহবাহিনী। দেবী শঙ্ক, চক্র, গদা ও পদ্ম ধারণ করে এই সৃষ্টির উৎকর্ষতায় নিজেকে নিমগ্ন রেখেছেন দিবানিশি।
  পুরাণে উল্লেখিত আছে যে এই বৃহৎ ব্রহ্মান্ড যখন পূর্ণ আঁধারে আবৃত ছিল, কোন জীবনের যখন কোন উৎস ছিল না, চতুর্দিক যখন জলময়, ঠিক তখনই পরাশক্তি সিদ্ধান্ত নেন সৃষ্টি রচনা করবার। এই অভিপ্রায় নিয়ে দেবী ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরকে সৃষ্টি করেন। প্রদান করেন যথাক্রমে দেবী কমলা, দেবী সরস্বতী ও দেবী পার্বতীকে এই সৃষ্টি কার্যে সহযোগিতা করবার উদ্দেশ্যে। ব্রহ্মা সৃষ্টি কর্তা, বিষ্ণু পালন কর্তা এবং মহেশ্বর ধ্বংস কর্তা রূপে নিজেদের পরিচিতি লাভ করেন এই ভুবন মাঝে। পরবর্তী সময়ে জগৎধাত্রীর ইচ্ছাতে এই সৃষ্টি পেল তাঁর নক্ষত্রখচিত আকাশ, তাঁর অনন্ত জলাশয়, তাঁর পৃথিবী, তাঁর সকল প্রকার জীবজন্তু এবং এক লীলাময়ী পূর্ণ প্রকৃতি। আদিশক্তি যিনি এই সৃষ্টির জননী,এই প্রকৃতিরই এক পূর্ণাঙ্গ বহিঃপ্রকাশ। উল্লেখ্য মায়ের এই সিদ্ধিদাত্রী রূপই “অর্ধনারীস্বর” বিভূতির এক অপরিহার্য অংশ।
  মায়ের এই রূপ সকল রূপের অপেক্ষায় শক্তিশালী। সংখ্যাতত্ত্বে বলা আছে ‘নয়’
সংখ্যাটি সব থেকে বলবান, যেহেতু সকল সংখ্যা যুক্ত করে এই ‘নয়’ সংখ্যাটি আমরা পাই। একই ভাবে মায়ের নয় রূপের মধ্যে, এই রূপের কোন সীমা নেই। আমরা যা কিছু কর্ম করি, একটি সুফলের আশা নিয়েই করি। এই মা সেই সুফলদাত্রী। যাই হোক, মায়ের কৈলাশএ গমনের সময় এসে গেল। পিতা গিরিরাজ হিমালয় ও মাতা মেনকার গৃহে এই কটাদিন থাকবার পর, পতিগৃহে ফেরাবার পালা। তবে সব সময় উনি আছেন আমাদের সাথে, এই বিশ্বাসই আগামী একটা বছর অপেক্ষা করতে সাহায্য করবে। তাই বলি মা, তুমি যেখানেই থাকো, আমাদের একটু দেখ, তোমার কৃপাদৃষ্টির থেকে কখনও যেন না হই বঞ্চিত। রেখ তোমার এই সন্তানদের সদা আনন্দে, সদা দুধেভাতে!!
-কুণাল রায়।