ঈশ্বরের ফিরে আসা

দেবী মহামায়া  চতুর্ভূজা লংকেশ্বরী রূপে লংকেশ্বর রাবণের গৃহে বন্দি। শর্ত একটাই: দেবীকে সন্তুষ্ট করতে পারলে শ্রী রামচন্দ্রের বিজয় সুনিশ্চিত! কিন্তু এই সহজ ভাবনাটা বাস্তবে রুপায়িত করা বোধকরি অতটা সহজ ছিল না। এবং তার একক কারণ হচ্ছে দেবীর প্রতিক্ষণে পরীক্ষা নেওয়ার এক অনন্ত বাসনা! তবু সকল্প দৃঢ় রঘুবীরের। সমুদ্র  সৈকতে দেবীর পূজার সকল আয়োজন সমাপ্ত। কিন্তু পূজাকালীন দেবী একশত আটটি নীল শতদল থেকে একটি শতদল লুকিয়ে রাখলেন। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার অভিপ্রায় শ্রী রামচন্দ্র আপন পদ্মসম নয়ন উৎপাটিত করে দেবীর পদে সমর্পণ করবার কালে দেবী দর্শন দিয়ে তাঁকে আস্বস্ত করলেন। এবং ঐ একটি উৎপল শ্রী রাম চন্দ্রের হস্তে প্রদান করে তাঁর পূজা সম্পন্ন করতে সাহায্য করলেন।
এই ঘটনার পর শ্রী রামচন্দ্র ও রাবণের মধ্যে ঘোর সংগ্রাম সূচিত হয়।সংগ্রামে রাবন পরাজিত হয়ে বদ্ধ হন শ্রী রামচন্দ্রের নিকট। পরমেশ্বরী সীতাকে অশোক বন থেকে উদ্ধার করে, সপরিবারে অযোধ্যায় ফিরলেন। এই পর্বকে কেন্দ্র করে অযোধ্যা বাসীরা প্রদীপের আলোতে নগরীকে এক অনন্য রূপ প্রদান করলেন। সংগীত ও নৃত্যে অযোধ্যার আকাশ বাতাস মুখরিত। কিন্তু এই আলোর অন্তরালে ছিল এক চরম পরীক্ষার মুহূর্ত! বৈকুন্ঠ বাসিনী শ্রীর অবতার সীতাকে এক অগ্নি পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু সীতা সকল পরীক্ষা উত্তীর্ণ হওয়ার পশ্চাতে বসুন্ধরায় প্রবেশ করেন, চিরতরে!
এই ঘটনার পর কেটে গেছে বহুবছর, বহু শতাব্দী। কিন্তু এই বর্তমান সময় দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি একটু অন্যরকম! অযোধ্যায় রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হবে, আইনের কঠোর নির্দেশ! ভূমি পূজা থেকে শুরু করে সকল ক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তে বহুবছরের স্বপ্ন স্বার্থক হতে চলেছে। কিন্তু রাজনীতি তবুও অব্যাহত। ঈশ্বরের এই পুণ্য ভূমিতে চলছে নানা প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্র। বলা বাহুল্য অনেকেরই এই প্রস্তাবে সম্মতি নেই! কিন্তু যেখানে তাঁর ইচ্ছে ছাড়া একটি গাছের পাতাও নড়ে না, সেখানে এই ক্ষুদ্র চিন্তা ধারার আদও কোন মূল্য আছে কি! আপন নিয়মে প্রতিষ্ঠিত হবে এই ধরাধামে তাঁর প্রাচুর্যপূর্ণ আলয়। ভক্তের সমাগমে প্রচারিত হবে তাঁর দৈব মহিমা। এই দীপাবলিতে ধূপ ধুনো, শঙ্খ ধ্বনি, আরতি এবং আলোর রোশনাইতে এক পূর্ণতা পাবে তাঁর ভবন, সৃষ্টি হবে এক ভিন্ন স্বর্গ, তবে এই মর্তে!!