অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার 

পাক্ষিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ২৭
বিষয় – হিমেল সকাল

কুয়াশার ঘোমটা

শীতের নিঃশব্দ পদে সিক্ত শিশিরের ঘোমটা টেনে
হিমেল সকাল বিশ্বে ছড়ায় দিকচিহ্নহীন কুয়াশা,
ধবধবে সাদা এলোচুলের রুক্ষতায় হিমকণা নিয়ে
দুরন্ত বেগে উন্মত্ত দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য সর্বনাশা।
নির্জন সুপ্তির ঘরে কুহেলী মায়ায় ছড়িয়ে দেয়
অলস কর্মহীনতার নির্জীব ঘুমের ঘন ছায়া।
রক্তচক্ষুর কঠিন শাসনে ভীত ধরণীর গায়ে
ছুঁয়ে যায় তার হিমশীতল কনকনে হাওয়া।
ভাবগম্ভীর তন্ময়তায় সময়ের সম্রাজ্ঞীর চেতনা
হা হা রবে ঢুকে পড়ে পল্লীর ছেঁড়া কাঁথায়,
শৈত্যপ্রবাহের সরু ঠোঁটে চুমে বার্ধক্যের ঠোঁট
নির্মম নির্যাতনে জড়ায় উৎকট ভালোবাসায়।
অসহায় হাত-পায়ে জবুথবু জরার জীর্ণতায়
অনায়াসে ঝাঁঝরা পাঁজরে করে আনাগোনা,
কম্পিত কলেবরে বাসা বেঁধে বাস আরামে
নিঃসীম নীরবে দিয়ে যায় অকাতরে যাতনা।
আবছা অম্বরে রবি বন্দী কুয়াশার ফাঁসে
এক মুঠো রোদ্দুর ঢেলে দিতে চায় ধরণীরে,
থরহরি কাঁপে ঠকঠক পৃথ্বী ছায়াঘেরা কায়
হিমেল হাওয়ার ভ্রুকুটি তীক্ষ্ম আঁখি তীরে।
শন্ শন্ শিরশির হিরহির নিঃশ্বাস ঘনঘন
বন-বীথিকায় ঝরে ঝর ঝর মর্মরধ্বনি,
ছড়িয়ে দিতে বিশ্বের দোরে নিঃস্বতার বার্তা
বিচ্ছেদ ব্যথায় কাঁদে রিক্ত শূন্য ধরণী।
ফসলশুণ্য মাঠের বুক জড়িয়ে শীতল শিশির
কুয়াশার চাদরে মুড়ে কাঁদে ব্যথাতুর হাহাকারে,
শিউলি লুকোয় মুখ হিমেলের রক্ত চক্ষুর আড়ালে
বস্তি বালক আগুন তাপে জীর্ণ ফাটা কাপড়ে।
পাড়াগাঁয়ে আবছায় চোখ মেলে হিমেল সকাল
ডানপিটে আদুল গায়ে আঁচড় কাটে বার বার,
একাধিপত্যের ঔদ্ধত্যে জেরবার গ্রামীণ জীবন
তবু সবুজ প্রাণে পণ বেপরোয়া শাসন ভাঙার।
বিস্মিত হিমেল চোখে খেজুর গাছে হাঁড়ি
লকলকে জিভে জল মিষ্টি রসের ঘ্রাণে,
ঘরে ঘরে পাঠায় খবর শিরশিরানি স্বরে
নলেন গুড়ের পিঠা পায়েস খায় আস্বাদনে।
হিমেলের হিমে থাকুক যত তাপহীন ধোঁয়াশা
তবু শূন্যতার দোর্দণ্ড বুকে সুপ্ত সৃষ্টির উন্মাদনা,
সকালের চোখে ভাসে মিঠেল রোদের হাসি
অসুন্দরের মাঝে করে সুন্দরের অভিষেক সূচনা।