রাজলক্ষ্মী

দুজনে হাঁটতে শুরু করল। কিছুদুর যাবার পর কলিমুদ্দিন কমলাকে জিজ্ঞাসা করল- তুমি কাউকে ভালবাসো?
-কেন? কমলা হাসতে হাসতে বলল।
– না তাই জিজ্ঞাসা করছি। বলোনা…
-না। তবে একজনকে ভালো লাগে। তুমি কাউকে ভালবাসো? -আমি একজনকে ভালোবাসি। -কাকে?
-বলবো। তার আগে তুমি বলো কাকে ভালোলাগে?
-জানিনা।
কলিমুদ্দিনের বুঝতে আর অসুবিধা রইলো না।তাই সরাসরি বলে বসলো আমি তোমাকে ভালোবাসি।
কমলা থমকে দাঁড়ালো। তার পা আর চলছে না।সমস্ত শরীরটা যেন শিহরণ দিয়ে উঠলো।
– কি হলো? দাঁড়িয়ে পড়লে কেন?আমাকে তোমার ভালো লাগে না?
– হ্যা।সেই কবে থেকে আমার মনের গোপন আস্তানায় তোমাকে স্থান দিয়েছি। কিন্তু বলতে পারিনি।
– সত্যি?
-হ্যা সত্যি।
– চলো।
– কোথায়?
– বাড়ি। সাইকেলে ওঠো।
অনেকরকম কথা বলতে বলতে দুজনেই বাড়ি চলে এলো।
দুজনের প্রেম চলছে গোপনে।কখনো এক পলক দেখা, কখনো একটু কথা বলা, এই ভাবে চলে যাচ্ছে সময়।
ইতিমধ্যে মাধ্যমিক রেজাল্ট আউট হলো। কমলা মাধ্যমিকে ফার্স্ট ডিভিসনে পাস করল। কমলা ইলেভেনে ভর্তি হল দিলীপ কুমার হাইস্কুলে। সায়েন্স বিভাগে।
বাড়ি থেকে আট কিলোমিটার দূরে স্কুল। কমলা প্রতিদিন স্কুলে যায়,প্রাইভেট পড়তে যায়।কোনো কোনো দিন ফিরতে রাত হয়।কলিমুদ্দিন বাড়িতে নিয়ে আসে।
এইভাবে মাস তিনেক চলার পর দুজনের প্রেমের খবর রটে গেলো গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে।