অনন্ত-অন্তরা

হি হি কী মজা!!! দেখেছিস কার মাথায় বুদ্ধি বেশী?
হুম- বুঝেছি, (মনে মনে বলছে অনন্ত-) শালা আবার ধরা খেলাম,সব সময়ই তো খাই কিন্তু সে নয় খেলাম কিন্তু কখন বাসায় পৌছাবো আর তো পারছি না অন্তরার অস্থিরতায় পথ যেন লম্বা হয়ে যাচ্ছে সেই সাথে ট্রাফিক জ্যাম- হায়রে ঢাকা! এ-তো ঢাকা নয় মানুষের ভিড়ে বেপরোয়া গাড়ীর যানজটের আস্তরণে কালো ধুঁয়ার চেম্বারে নিত্য-নিমিত্ত অসহায় অনিশ্চিত জীবন!
অনন্ত চলে এসেছি তুই নেমে যা-
না তোকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসি-
না না এইটুকু আমি যেতে পারবো-
শোন্‌ ভাড়াটা আজ তুই দিয়ে দিস- ওকে?- ভালো থাকিস বাই । বাসায় ঢুকতেই হোঁচট খেলাম পায়ে একটু লেগে গেল থোড়াই কেয়ার একটু খুঁড়িয়ে ভ্রু কুঁচকিয়ে বাসায় ঢুকে চেয়ারে ব্যাগ রেখে সোজা রান্না ঘরে ঢুকে প্লেট ধুয়ে খাবার বেড়ে নিয়েই খেতে বসে গেলাম ।সার্ট খুলতে খুলতে PC অন করলাম Google Chrome ক্লিক করতে বুঝতে দেরী হল না নেট নেই !!! প্রেমের অনলে একি যন্ত্রণা কী ধৈর্য্যের পরীক্ষা!! কী করবো এখন বুঝতে পারছি না মনে হচ্ছে অন্তরার বাসায় সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে ডেকে বলি একি কষ্টে রেখেছ আমায়? তুমি নীরব নিস্তব্ধ শান্ত নদীর মতো নৈশব্দে কেন বয়ে চলছো? আর তো পারছি না আমি, নিয়তি কেন করলো বিরূপ ধারণ? চোখ জ্বলে যায় রক্তজবা সান্তনা কোথায় পাই? কী দোষ দেব বলো তোমায়? তুমি তো তোমার জায়গায় তোমার মতো করে- শুধু ফেঁসে গেলাম আমি নিজের মতো করে যা আছে সত্ত্বা জুড়ে রঙিন আলপনা তোমার । বিদ্যুৎ চলে গেল এবার! উঠে বসলাম সিগারেট খাব(পান)প্যাকেট খুলে দেখি একটিও নাই- টি-সার্ট পরে বাইরে বের হলাম গেটের সাথেই দোকান এক প্যাকেট ক্ষতিকর সিগারেট কিনে ওখানে দাঁড়িয়ে একটা ধরালাম, টানছি, সুখ টান দিচ্ছি, সুখ তবু মেলে না । ইস এখন যদি আমার স্মার্টফোনটা থাকতো তাহলে এই ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিতে হতো না । বাইরে থেকে আনতে বলেও দেখছি রীতিমত একটা ধরা – আরে কিসের ধরা আমি কী জানতাম এই গ্যাড়াকলে পড়বো? আমি কালই ফোন করবো এক সপ্তাহের মধ্যে ফোন না পাঠালে আমি এখান থেকে কিনে নিবো এটাই ফাইনাল । ইয়েস বিদ্যুৎ চলে এসছে, বাসায় ফিরলাম, এবার ধীরে ধীরে PC অন করছি Google Chrome অন করলাম গ্রীন সিগন্যাল- মনটা ফুর্‌ফুরে হয়ে উঠছে ।
ফেসবুকিং শুরু – আমার কোণ স্ট্যাটাস ছিল না তাই এই দিকে কোন আগ্রহ নাই চলে গেলাম অন্তরাকে দেখতে –
এখানেও নতুন কোন আপডেট নাই- সবুজ বাতিও না জ্বলে অঙ্গার হয়ে আছে, তাহলে সেও কি জ্বলে? একটি মাত্র ছবি অন্য কোন ছবিও নাই, কী দেখব? প্রোফাইলটা শুধু প্রকৃতির চোখ জুড়ানো হৃদয় ভুলানো কিছু ছবি যেমন আছে নদী,পাহার,সমুদ্র সৈকত তার তরঙ্গ,সবুজ পৃথিবী, ফুল, পাখি আর আছে কিছু অবাক করা তৈলচিত্র! তর সইছে না তাই ইনবক্সে তার অনুপস্থিতিতে আবার লিখলাম- হ্যালো, আপনি কি আছেন? কোন সাড়া পেলাম না! অপেক্ষায় গান মনে পড়ে গেল
“এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকেনা
তো মন কাছে যাব কবে পাব তোমার নিমন্ত্রণ”
কিছুটা সময় ভাবনায় ডুবে পরেই দেখি সবুজ বাতি ওঠেছে জ্বলে!! কী এক আনন্দে শিহরিত হলাম উচ্ছ্বাসে ঠিক যেমন টি-টুয়েন্টিতে ১৯.৫ ওভারে বাকি এক বল রান দরকার ৫ হাকালো ছক্কা জিতে গেলো বাংলাদেশ । নদীতে ছিপ ফেলে অপেক্ষায় বসে আছি যদি ঠোকর দেয়! টাইপিং এ ম্যাসেজ লেখার নমুনা ভেসে উঠছে কী শিহরণ যেন ডিবক্সে মেসির পায়ে বল গোলের উদ্বেগ নিয়ে বসে আছি কখন চিৎকার দেব গোল গোল বলে- বলতে বলতেই গোল জালে জড়িয়ে দিলো ।
অন্তরা লিখেছেন ভালো- আপনি?
জ্বী ভালো আছি । কিছু কথা জিজ্ঞেসা করতে ইচ্ছে করছে যদি অনুমতি দেন তাহলে বলবো ।
ওহ সিওর বলুন কী জানতে চান? আপনাকে Add request পাঠালাম আপনি accept করলেন কিন্তু কাকে বন্ধু করে নিলেন তাকে জানতে চাইলেন না? কিন্তু আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে-
হি হি হি – আপনি যে ভাবে ভাবছে আমি ঠিক সেই ভাবে চিন্তা করিনা কারণ এটা ভার্চুয়াল জগত জাস্ট ফান করার জন্য ।
প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত মত থাকতেই পারে তবে এই ভার্চুয়ালটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায় । আমি মনে করি এখানে পরিচিত হওয়া যায় মতামত আদানপ্রদান করা যায় বন্ধুত্ত্ব গড়ে উঠতে পারে অনেক সমস্যার সমাধান এমনকি জ্ঞান অর্জনের জন্য কম কিছু নয় এই ভার্চুয়াল জতগটা ।
আপনি তো দেখছি বেশ গুছিয়ে কথা বলেন! এই পর্যন্ত কতজন মেয়েকে পটিয়েছেন ভাই? আর আপনি আমাকে কী বলতে চায় সোজা করে বলে ফেলুন ।
আপনি যে ভাবে কথাগুলি বললেন তাতে কিন্তু আমি রীতিমত অপমান বোধ করছি ।
সেটা আপনার ব্যাপার আমি যা বলি Straight বলি । আপনাদের মতো অনেককে আমি দেখেছি শুধু সময় কাটাতে আসে – আমি সেরকম মেয়েই নয় এটা আপনার জানা থাকা ভালো । আপনি আপনার ওয়ালে লিখবেন বা যা কিছু দিয়ে সাজাবেন আমার ভালো লাগলে আমি কমেন্ট করবো লাইক দিবো যা বলার সবার সম্মুখে বলবো ইনবক্সে এইসব খাজুরে আলাপ করতে আসবেন না প্লিজ । আমি বিনয়ের সাথে বলছি আপনি এখানে আর লিখবেন না । ভালো থাকুন। শুভ রাত্রি ।
প্লিজ আমার একটা কথা শুনুন, কোন জবাব নাই ।

চলবে