জন্ম- ১৯৬৭, বরানগর। বর্তমানে দার্জিলিং জেলার মিরিক মহকুমার উপশাসক ও উপসমাহর্তা পদে আসীন। চাকরীসূত্রে ও দৈনন্দিন কাজের অভিজ্ঞতায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের সমস্যা সমাধানে তাঁর লেখনী সোচ্চার।
গুজরাটে বন্যা হয়েছে। না তখনো বন্যাকে ম্যানমেড বলার ফ্যাশন চালু হয় নি। তো মহিলা প্রধানমন্ত্রী আকাশযানে চড়ে বন্যা দুর্গতদের দুঃখজনক পরিস্থিতি দেখতে বেরিয়েছেন। সাথে এক জাহাজ সাংবাদিক। বন্যার যে কি কষ্ট, তা তো আর আকাশযানের উচ্চতা থেকে দেখা যাচ্ছে না। শ্রীমতী হঠাৎ কি কারণে থৈ থৈ জল দেখতে বেরিয়েছেন বেমালুম ভুলে গিয়ে সকলকে আশ্চর্য করে বলে বসলেন কি সুন্দর। শুনেছি রোম যখন পুড়ছিল তখন সেই অগ্নিদাহ রাজা নিরো কে বেহালা বাজাতে প্রাণিত করেছিল। সেইসব কথা মনের আগল খুলে বলে ফেললাম এক ভারি আপনজনকে। গত রবিবার সকালে। টুকটাক আলোচনায় উঁকি মেরে গেলেন কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।
নীরা লিখে তিনি অসম্ভব জনপ্রিয়। গদ্যে পদ্যে অভিনয়ে বাচনে বঙ্গসাহিত্যরঙ্গমঞ্চে তিনি অসামান্য ধনুর্ধর। কবিসম্মেলনে তিনি আগ্রহ আকুতির কেন্দ্রবিন্দু। কলকাতা বইমেলায় এসি হলে এইমাত্র যে কবিতাপাঠ এর আসরটি সমাপন হল, তার পরেই মধ্যবয়সিনী মহিলারা ঝাঁপিয়ে পড়লেন অটোগ্রাফ শিকারে। বাবার কোলে চড়ে শিশুটি দেখছিল তিনি অকাতরে অটোগ্রাফ বিলুচ্ছেন। তা পেয়ে বিগতযৌবনা মহিলারা পর্যন্ত আনন্দে তৃপ্তিতে গদ গদ হয়ে উঠছেন। শিশুটি ভেবে পাচ্ছিল না, একটা লোক কলমে কি একটা আঁকিবুকি করে দিলেই দিদিমারা অমন আহ্লাদে ফেটে পড়ছেন কেন। যে যুবকটি কবিতাপাঠের আসর সঞ্চালনা সংযোজনা করছিল, তারই কোলে শিশুটি কুতূহলী চোখ নিয়ে তাঁরই দিকে তাকিয়ে আছে দেখে প্রাজ্ঞ কবি বললেন “আয়, তোকেও একটা অটোগ্রাফ দিই।” শিশুটি সাথে সাথে বললো ” ন্না, তোমার সই নিয়ে আমার কি হবে?”
একটুও অপ্রস্তুত হয়েছেন বুঝতে না দিয়ে জনপ্রিয় কবি বললেন ” সেই তো, দ্যাখ না, এরা তা বোঝে না!”