আরাধনা

দ্বিতীয় সর্গ – ১
খুলিল আঁখি পাতা মৃদু সমীরণ বয়
নব কলেবরে আজ
একি তব নব সাজ
ঘুচিলো আঁধার কালো
তন্দ্রা ভাঙিয়া আলো
পূবাকাশে নব জ্যোতি বসুধা ছুঁতে চায় ।
ডুবিলো কালো শশি ঊষার নুপুর শুনে
রবির পরশ মাখা
দিগন্ত গগনে আঁকা
কুসুম প্রদীপ্ত আভা
মুকুটে কিরণ শোভা
তটিনী বহিয়া চলে হরষে আপন মনে ।

দ্বিতীয় সর্গ – ২
হারায়েছে চন্দ্র তারা লুকায়েছে মুখ
আপন ভাবের ভরে
ঢুলু ঢুলু ঘুমঘোরে
পর্বত মুকুট পরে
নিমেষে আলো করে
পূবাকাশে দ্যুতি ভরে দিলে মহা সুখ ।
হৃদয়ে আনন্দ ধারা বিমুগ্ধা মোহিনী
ভাঙিল নিস্তব্ধ ভাব
চারিদিক পাখি সব
কিচিমিচি কলতান
এ যে স্বর্গ সুধা দান
প্রকৃতি আনন্দময়ী ভাব স্বরূপিনী ।
দ্বিতীয় সর্গ – ৩
প্রকৃতি প্রেয়সী মম ছড়ায়ে অরূপ রাশি
তটিনী তীরে তরী
তাহাতে সুবর্ণ ভরী
গৃহপানে মাঝি ধায়
সাথে ভাটিয়ালি গায়
নাউয়েতে বসিয়া কমলা মুখ ভরা হাসি হাসি ।
তটিনী বক্ষ মাঝে ধীর গতি বয়ে যায়
হাসি হাসি জলে ভাসি
কমল তুলিতে আসি
কিশোরীর ছোটো ভেলা
সদ্য প্রভাত বেলা
জলের উপরে একি আলপনা এঁকে ধায় ।
দ্বিতীয় সর্গ – ৪
চতুঃদিকে পল্লবে জ্যোতির্ময়ী রূপরাশি
মৃদু হিল্লোল বয়
আকুলি বিকুলি চায়
মুকুল মঞ্জরী সবে
চরণাঞ্জলী পাবে
অপ্সরী সাজিয়া সব মুখেতে লাজুক হাসি ।
নব জ্যোতি নব হাসি বিকশিত ফুলমালা
বরষে জ্যোতি ধারা
তাহাতে কণক ভরা
রঙিন বাহারি সব
মৃদু মৃদু কলরব
বনফুলে বনমালী সাজিবে করিবে খেলা ।
দ্বিতীয় সর্গ – ৫
কিরণে কিরণময় ভরিল কানন
চাহিয়া মুখপানে
বিষাদ ভুলিল ক্ষণে
একি লাবণ্য রাশি
চক্ষে পশিল আসি
কোথা আলো কোথা ছায়া বিমুগ্ধা আনন ।
হেরি তব কুঞ্জবন অধরে প্রশান্তি লয়ে
প্রকৃতি গহনা তুমি
নীরব অরণ্যানী
একা একা বোবামুখে
তুমি রাণী মহাসুখে
মানবের কত ব্যথা বুকে যাও সয়ে ।
দ্বিতীয় সর্গ – ৬
গগনে রক্তিম আভা পশ্চিমে বিদায়
তটিনী দর্পন আজ
লালে নববধূ সাজ
তাহাতে কমল বালা
করিছে আপনি খেলা
মৃদুগতি তাহাতে শ্যাওলা হইছে সহায় ।
কচুরিপানার ফুল ফুটিয়াছে সারি সারি
মাছরাঙা আড়চোখে
নদীবক্ষে বৃক্ষ শাখে
ধীবরের জাল পানে
চেয়ে থাকে আনমনে
আঁধার নামিবে বুঝি তাই রবি আঁখি ভারি ।