কখনও কখনও কোন ঘটনা মনকে বড্ড নাড়া দিয় যায়৷ সোজা সাপটা ঘটনার বিন্যাসও বিভিন্ন মানুষ বিভিন্নভাবে করে৷ সেই কাঁচের গ্লাস আর জলের উদাহরণটাই এই মুহূর্তে মনে পড়ে গেল৷ কেউ বলেন অর্ধেক খালি, কেউ বলেন অর্ধেক ভর্তি৷ সবটাই দৃষ্টিভঙ্গির তফাত৷ এই আর কী!
কিছু মানুষ আছেন জীবনে চন্দনের গন্ধ উড়িয়ে দিয়ে শুধু অমৃত খুঁজে বেড়ায়, কিংবা পদ্মবন, বানজারা নদী, নীলকন্ঠ পাখি খুঁজে বেড়ায়৷ জীবনের যন্ত্রণাগুলোকে নলেনগুড়ের পাকে পাকে পেচিয়ে তৃপ্তি করে চেটেপুটে নেয়৷ অন্ধকারে জোনাকির আলোকে পূর্ণিমা ভাবে৷ বিপদকে বলে আয় আমার সঙ্গে কুমির ডাঙা খেল৷ আর মনের জানালা দরজাগুলো হাঁট করে খুলে দেয়, সেখানে অনুভূতিরা রঙীন প্রজাপতির মত উড়ে বেড়ায়৷
আর কিছু মানুষ শেওলা ধরা উঠোন, আমাবস্যা ভিটে, ঘুণ ধরা জলচৌকির কথা ভাবতে থাকে, আর তাদের পায়ের শেকল ঝনঝন করে বাজতে থাকে৷ মুঠোমুঠো অন্ধকার মেখে গেরস্তানের মাটিতে চোখের জলের ফোঁটা ফোঁটা সাজিয়ে দেয় প্রতি দিন প্রতি নিয়ত৷ ঋণাত্মক ভাবনা ভাবতে ভাবতে নিজের মৃতদেহ নিজের কাঁধে বহন করে এগিয়ে চলে৷ শেষ পর্যন্ত কোন ফুল মালা ধূপধুনো কিংবা এপিটাফ কিছুই মেলে না৷ একটা বোল্ডারের মত পড়ে থাকে নির্জন সমুদ্রতটে৷
গ্লাসটা যে অর্ধেক ভরে আছে সেই পূর্ণতাকে অস্বীকার করা মানে জীবনকে অস্বীকার করা৷ জীবনের দানকে অস্বীকার করা৷ এ বড় অকৃতজ্ঞতা হয়ে যাবে না কি ? আর এখান থেকেই শুরু হয় মানুষের অকৃতজ্ঞ হয়ে ওঠার পাঠের হাতেখড়ি ৷ প্রথমে প্রকৃতি, তারপর মা বাবা সবশেষে নিজের প্রতি আমরা নিজে অকৃতজ্ঞ হয়ে উঠি৷
ভেবে দেখার বিষয় বটে, যে মানুষটা নিজেই নিজের প্রতি অকৃতজ্ঞ, সে কি কখনও কারোর সম্মানের বা শ্রদ্ধার যোগ্য হতে পার ? তাই অর্ধেকটা গ্লাস ভর্তি এটা নিয়েই ভাবি বরং আর কী করে গ্লাসটা সম্পূর্ণ ভর্তি করতে পারি তারই আয়োজন চলুক৷ কী বলেন ?
সুস্থ থাকুন৷ ভালো থাকুন৷ সন্দেহাতীত, নিশ্চিত এবং ধনাত্মক থাকুন৷

রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়