প্রহসন

হাঁটতে হাঁটতে কানা গলি থেকে
রাজপথে উঠে আসার পর,
একটা শুনশান রাস্তার মোড়ে
হঠাৎই দেখা হয়ে গেল নিজের সাথে।
কিন্তু ততক্ষণে বন্দর থেকে
বিদায় নিয়েছে নোয়ার জাহাজ!
অনুর্বর মানব জমিন ফেলে…
নতুন এক পৃথিবীর খোঁজে।
এই পৃথিবীর উদিত সূর্য
এখন প্রায় অস্তমিত!
বারো মাসই তাই এখানে বড্ড স্যাঁতস্যাঁতে,
মরচে ধরা মেরুদন্ড আর
আগাছার ঠাসা ভীড়।
শ্যাওলা আর ছত্রাকের অনভিপ্রেত
আধিপত্য উস্কে দিয়েছে
আবেগশূন্য রক্তাক্ত যৌনতাকে।
বন্ধ্যা হয়েছে এই সমাজ…
মৌন করেছে মনুষ্যত্বকে।
গুড়ো গুড়ো কাঁচ আর আলপিনের
যোগসাজশে জোহরানিজম,
তিলে তিলে অহরহ
গ্রাস করে নিচ্ছে এই পৃথিবীকে।
আর এই সুযোগেই ল্যাম্প পোস্টের
ছিদ্রান্বেষী ছদ্মবেশী
মায়াবী আলো আর ছায়ায়,
নিরন্তর ঘটে চলছে
নানাবিধ গ্রন্থি ও অঙ্গ প্রত্যঙ্গের
উদগ্র ব্যবচ্ছেদ!
যন্ত্রণা আর বিবেক
নির্ভেদী আর্তনাদ!
ধর্ষক আর নির্বাক দর্শকের
এবার কোনো
কোন তফাৎ নেই আর!
পোশাক ও স্পর্শের লুকোচুরি খেলায়
বিচার এখন অবাঙমানসগোচর…
অথচ অনিচ্ছাকৃত স্পর্শের
আকস্মিক দায়ে এক লহমায়
অপাংক্তেয়, উচ্ছিষ্ট…নষ্ট হয়ে যায় কেউ!
গর্ভস্থ ভ্রুণ থেকে আমৃত্যু
চতুরঙ্গের প্রতিটি অধ্যায় জুড়ে চলা
সতীত্বের অন্বেষণে,
চারটি যুগের অবসানেও
দ্রষ্টব্য কেবল শুধু সেই
জর্জরিত নারকীয় কিছু নিউজ হেডলাইন্সমাত্র!
তবুও বিজ্ঞাপনী মন ভোলানো ইস্তেহারে,
সমুজ্জ্বল হয়ে ভেসে ওঠে
প্রাণভরা কত শত
সাজানো সব হাসিমুখ।
আর সমস্বরে মুখরিত হয়ে ওঠে…
“আমি নারী, আমি পারির” মতোই
ঝুটো সম্ভাষণের নাটকীয়,
স্বপ্নিল, মধুর পরিভাষা।
অবিসংবাদী প্রহসন আর
সচ্চিদানন্দরূপী অট্টহাস্যে
অবশেষে তাই নিজেই নিজেকে জানাই,
নারী দিবসের রঙীন শুভেচ্ছা…
আর অকুণ্ঠ ভালোবাসা।