মানুষ একটা সময় দলবদ্ধ হয়ে বাস করত ৷ যাতে বাইরের শত্রু, বা বন্য জন্তুরা আক্রমণ করলে, সমবেত ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে ৷ দলবেঁধে শিকার করতে যেত ৷ সারাদিন ধরে শিকার করে আনা খাবার ভাগ করে নিত নিজেদের মধ্যে৷ ধীরে ধীরে সে আগুন জ্বালাতে শেখে ৷ কাঁচা মাংস ঝলসে থেতে শেখে ৷ তারপর
ধাতুর ব্যাবহার, চাষবাস, নগরায়ন ৷ সভ্যতার ক্রম বিকাশ ৷
একটা সময় ভারতবর্ষের ঐশ্বর্য অনান্য দেশের এমন ইর্ষার কারণ হয়ে উঠেছিল যে বারবার বহিরাগতের আক্রমণে লুন্ঠিত হয়েছে মাতৃভূমির মূল্যবান সম্ভার ৷ শক হুন পাঠান মুঘল আরও কত শত্রু ৷ সুশ্রুতকে মনে পড়ে ? শল্য চিকিৎসক ? ” অস্ত্রোপচারের জনক ” এবং “প্লাস্টিক সার্জারির জনক” ৷ মনে পড়েছে ? বলুন তো কত আগে এই ভারতবর্ষের মাটিতে দাঁড়িয়ে পৃথিবীকে পথ দেখিয়েছেন ৷ আর্যভট্ট কে মনে আছে ? যিনি না থাকলে এই পৃথিবী, এই জগৎ সংসার, অর্থনীতি, বিজ্ঞান সব সব অর্থহীন হয়ে যেত ৷ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা ? কত দেশ থেকে জ্ঞানী ব্যাক্তিরা জ্ঞান অর্জনের তাগিদে আসত !
আজ সেই ভারতবর্ষ, যে একদিন পথ দেখিয়েছিল বিশ্বকে, নিজেই অন্ধকারে হাতড়াচ্ছে ৷ দলবদ্ধ হয়ে থাকা তো দূরের কথা, ছোট ছোট গোষ্ঠীতে বিভক্ত হতে হতে নিজেদের ঘর বাড়ি পর্যন্ত ভাগ করছে ৷ একই বাড়ির উঠোনে বহু ভাগ হচ্ছে, পাচিল উঠছে অসংখ্য ৷ এখন আর বারো ঘর এক উঠোন নেই, এখন বারো ঘরের বারোটা উঠোন ৷ অতীত তো এত শিখেয়েছে আমাদের, আর বর্তমান, ভবিষ্যৎ শেখাচ্ছে শুধুই হানাহানি, রক্তারক্তি, ধর্মের নামে, জাতের নামে, জাতির নামে, ক্ষমতার নামে ! ঠক, জচ্চুরি, অসততা, হিংসা, বিদ্বেষ, অত্যাচার এই শিখলাম ! এ কোন ভারতবর্ষ ? এ ভারতবর্ষকে আমরা কেউ চিনিনা ৷ ইচ্ছা করেনা সেই স্বপ্নের ভারতবর্ষকে ফিরিয়ে আনতে ? ইচ্ছে করেনা জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসনটা আবার দখল করতে ?
তবে প্রস্তুত থাকুন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আপনাকে জবাবদিহি করতেই হবে ৷ এই অধঃপতনের দায়ভার আপনাকে বহন করতে হবে না ! ইতিহাসই কথা বলে, কলঙ্ক চাপা থাকে না, যেমন দুর্গন্ধ বেরিয়ে পড়ে সব আড়াল আবডাল ছাপিয়ে ৷ অশান্তি নিশ্চন্তে ঘাঁটি গেড়ে বসেছে, জীবনের প্রতিটি বাঁকে ৷ আজ বিশ্ব শান্তি দিবসে আর একবার কি আমারা শান্তিকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করতে পারি না ?

✍️ রাজশ্রী
কাঞ্চনকন্যা