আন্দোলন এক নতুন যুগের সূচনা করে 

আমাদের সমাজে যার যত বেশি আছে, সে আরো ততো বেশি চায় নিজের আয়ত্তে সব কিছু করে নিতে । সে নিজেও জানে না কতটা পেলে সে স্যাটিসফাই হবে । সেইটাকে পেতে তার জন্য যদি কোন অন্যায় করতে হয় তাও সে করবে । যেন তেন প্রকারেণ নিজের কায়েমী স্বার্থটাকে সে বজায় রাখার চেষ্টা করে । অন্যান্য মানুষের তাদের স্বার্থটাকে সে বঞ্চিত করতে থাকে ।

সাধারণ মানুষ খুবই দুর্বল শ্রেণীর হয়ে থাকে । তারা সব সময় ভয়ে ভয়ে জীবন অতিবাহিত করতে থাকে । যদিও তারা নিরুপায় হয়েই এমন করে । আসলে তাদের করার কিছুই থাকে না কিংবা কোনো ক্ষমতাই নেই কিছু করার । অন্যায় সহ্য করতে করতে তাদের শক্তি স্তিমিত হয়ে যায় । তাই তারা সব অন্যায় চুপচাপ সহ্য করতে থাকে দিনের পর দিন । যদিও সব সহ্যের একটা সীমা আছে ।

এরপর দিনের পর দিন তাদের অধিকার খর্ব হতে থাকতে দেখে, তাদেরই মধ্যে থেকে কেউ না কেউ একদিন গর্জে ওঠে । নিজের অধিকারকে আওয়াজ করে বলতে থাকে । আর সেই গর্জে ওঠার আগুন ধীরে ধীরে এক এক করে ছড়িয়ে পড়তে থাকে সমাজে । আর শুরু হয়ে যায় এক আন্দোলন নিজের অধিকারকে পাওয়ার জন্য । আসলে অধিকার কেউ কাউকে দেয় না । অধিকারকে ছিনিয়ে নিতে হয় আন্দোলনের মাধ্যমে ।

আন্দোলন হলো সাধারণ মানুষের এক অহম শক্তি । যার ফলে সমাজের সমস্ত মানুষ একসাথে হয়ে প্রতিবাদ করা শুরু করে । আর সেই আন্দোলনের ফলে আসে এক নতুন যুগান্তকারী দিনের পরিবর্তন সমাজে প্রত্যেকের জন্য । আন্দোলন সাধারণ মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে । আন্দোলন কোন অনৈতিক কিছু নয় । এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তার প্রতিবাদ করে কায়েমি স্বার্থের বিরুদ্ধে আওয়াজ ওঠায় ।

আমাদের সমাজে এখনো দেখা যায় বিভিন্ন কর্ম ক্ষেত্রে, শ্রমিকদের বিভিন্ন অধিকার ও সুযোগ সুবিধার থেকে বঞ্চিত করছে মালিক শ্রেণীর লোকেরা । তাদের সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে আন্দোলনের প্রয়োজন হয়, নিজেদের সুযোগ সুবিধাগুলো ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য । বিভিন্ন রকম আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজে এক নতুন যুগের সূচনা হয় । তাই আন্দোলন করা অন্যায় বিরুদ্ধে এক নৈতিক অধিকার মানুষের ।