আবহমান কবিতা’র পরিবর্তনে : তাবিক

আবহমান বাংলা কবিতার কেবলমাত্র নাম পরিবর্তনই নয়, গোটা খলচেনলচে ছিন্নভিন্ন করার স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয়েছিল ~ ‘কবিতা’ পাল্টে ‘তাবিক’।২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় আত্মপ্রকাশ; তারপর কেটে গেছে বেশ কয়েকটা বছর।মোট ছয়টি সংখ্যা প্রকাশ ছাড়াও, দুবছরের ওপর হয়ে গ্যালো প্রকাশনার জগতে পা রেখেছে ‘তাবিক’।আত্মপ্রকাশ সংখ্যা নিয়ে লিখেছিলাম আগেই, তবুও বাকি সংখ্যাগুলি আলোচনার আগে ~ আরো একবার শুরুর কথাগুলো স্মৃতিচারণা প্রয়োজন
কবিতা = তাবিক : এই সময়ের এক ত্রৈমাসিক পত্রিকা।তাবিকিয়ানরা বলে ত্রৈমাসিক বাওয়ালনামা।ভিন্নধর্মী কবিতা পড়তে হলে : অবশ্যই কাছে রাখতে হবে
বইমেলার শেষদিন।কবিতা পাক্ষিক।হাতে পেয়ে গেলাম ম্যাগাজিন “তাবিক”।কবিতা পাক্ষিক ছাড়া এমন ছুট কেই বা দেয় তরুণ যৌবনকে (বোথ লিঙ্গে)।কবিতা-কে তাবিক করে দেখা এবং আরো কয়েকটি লেখা ম্যাগনেটের চেয়েও ভয়াবহ ভাবে আকর্ষণ করলো।ফলস্বরুপ নেমন্তন্নের সেরা খাবার দিয়েই ইনিংস সূচনা।।
পিছনে থাকা কালপ্রিট / আমাদের কোনো ঠেক নেই / বাওয়ালনামা / আমাদের সতীপনা নেই – এসব যেন তাবিক দৃষ্টিকেই মানায়।।
বুঝলাম ভাষা + সভ্যতা + সমাজকে চ্যালেঞ্জ করতে আরেকটি অবস্থান চলে এসেছে রবিঠাকুরের বাংলায়।শুধু মেলোডি নয়।মেলানকলিয়া নয়।বিনোদন নয়।নিজের কথা নিজে বলার সাহস – এরাই পারে,যা হাংরিরা ছাড়া কেউ করে দেখাতে পারে নি।যদিও ০-দশকের কবিদের ভিতর এরকম আরো ছিঁড়ে দেওয়ার প্রবনতা আছে।এখানে তাবিকের দস্যিপনা নিতান্তই কো-রিলেটেড।।
সবকটি লেখাই অসাধারন একারনেই – মনে করি না শুধু বোদলেয়ারীয় যৌন-শব্দ ছাড়া কবিতা লেখা যায় না।দীপ ও ভজনদা বা কল্যাণদা এখানে আদর্শ উদাহরণ।।
তবে বিরুদ্ধ মতও আছে – যেমন অবর্তুর ২য় কবিতা অন্যরকম ভালবাসার গল্প।এখানে শব্দপ্রয়োগ আরো স্বাভাবিক রাখা যেত।মনে রাখা উচিত খিস্তী বা যোনী ব্যবহার করলেই হাংরী নয়।অথচ অবর্তুর ১ম লেখাটি যে অনবদ্য মাত্রায় গেছে তা যারা নুন্যতম লেখালেখি করেন – তারাই অনুভব করতে পারবেন।।
সকলের পাশাপাশি যার কথা না বললে নয় – কবি সৈকত ঘোষ।।শব্দের এমন পরীক্ষাই তো চাই।
সব মিলিয়ে তাবিক দুরন্ত।যাদের লেখা থেকে শেখবার আছে তারা অবশ্যই তাবিক সংগ্রহ করুন।তাবিকে লেখা দিন নির্দ্বিধায়।।
তাবিক ছাপ রাখবে ইতিহাসে – আমি নিশ্চিত।।
ফেসবুক পেজ “তাবিক” দেখতে পারেন।।এবং আপনারা দেখবেনও জানি – কারণ আপনাদের ভাষা নিয়ে আঁশটেমো নেই।