নৈবেদ্য

এই তো সেদিন ঝর উঠেছিল খুব ৷ আমার চুল উড়ছিল এলোমেলো ৷ তুমি আঙ্গুলের স্পর্শে কপাল থেকে সরিয়ে দিচ্ছিলে তা ৷ গাইছিলে ” উতল হাওয়া লাগলো আমার গানের তরণীতে “৷ আভূমি বিস্তৃত গাছগুলো অশরীরীর মত দুলে যাচ্ছিল নাগাড়ে ৷ গহন রাত্রির বুক চিরে অঝোর ধারে বৃষ্টির উর্বশী নৃত্য, একে একে ছিন্ন করছিল শরীরের পালকগুলো ৷ বৃষলী মেঘেদের ষড়যন্ত্রে বারবার বিদ্যুৎ শিখা, আমায় ভীরু কাপুরুষ করছিল ৷ তোমার বুকে আশ্রয় নিয়ে তিরতির করে বাঁশ পাতার মত কাঁপছিলাম আমি ৷ ” তুমি কোন ভাঙনের পথে এলো সুপ্ত রাতে ……….. এ গান যেন পাকে পাকে জড়িয়ে ধরছিল আমায় ৷ আমার অস্তিত্ব মুক্তোর দানার মত ছড়িয়ে যাচ্ছিল নিপবনের চন্দ্রভূক রাতে ৷ তোমার নিঃশ্বাস গাঢ় হচ্ছিল প্রতিনিয়ত ৷ রবি ঠাকুর তুমি কি তখন আমার ভাগ্য নিয়ন্ত্রক হয়ে আড়ালে হাসছিলে ? উজাগর নিশি যাপনে, শরীরে কলঙ্কের জালকাঠি বেঁধে অপাপবিদ্ধ সারসের মত আবার উড়ে যাওয়া নব নীলিমার বুকে ৷ ছিন্ন পাতার সাজাই তরণী, একা একা করি খেলা….
ঘর বাঁধার আশে বারবার আগুন ক্রীড়া ৷ নষ্ট নীড়, চরিত্রহীনা ৷ বোঝাতে পারিনি প্রতিটি ভোরে, প্রতিটি প্রেমে তোমার প্রতিভূ খোঁজা আমাকে বহুচারী করেছে ৷ তোমার কাছে আশ্রয় চেয়ে ছিন্নপত্রে ঢেকে দিয়েছি প্রশস্ত আকাশ, নদীর কলেবর ৷ তুমি আসবে বলে বিলি কেটে চুল বেঁধেছি ৷ বেল ফুলের মালা লাগিয়েছি খোঁপায় ৷ সুগন্ধী আতর মেখে নদীর ঘাটে নিষ্পলক চেয়ে থেকেছি তরঙ্গের দিকে ৷
আমার সমস্ত শরীর মন আত্মা জুড়ে বেজে চলে এক স্বর্গীয় সুর ” ধায় যেন মোর সকল ভালোবাসা ৷ প্রভু তোমার পানে, তোমার পানে, তোমার পানে….” ৷ আর আমি প্রতিটি জন্মে নিজেকে নৈবেদ্য করে সাজায়ি রাখি ইষ্ট ঠাকুরের পাদপদ্মে ৷