অজ্ঞাতে অভিসার

যে পথে বাঁক নেই ঘনঘন,
চলে গেছে সোজা,
তরুলতার ঝাড় পেরিয়ে,
তোমার উঠোনের উপর দিয়ে;
উষ্ণ বাতাস ধূলো উড়িয়ে যায়,
পাতা ঝরার মরশুমে বলে যায়,
মাধবীলতার অভিসার।
পাখিদের গুঞ্জন বাজে বাতাসে,
নদীর অতলে মুক্তো লুকিয়ে ঝিনুক;
ছেড়া নৌকার পালে হাওয়া লেগে
এ জগৎ আজ মত্ত তোমার ঘ্রাণে।
আকাশ মোহিত নীল আভায়,
সূর্য অস্তাচলে গোধূলির আভরণে!
বসে রই আমি কবিতার খাতা হাতে,
স্নিগ্ধ হাওয়ার মাঝে নদী পাড়ে
স্রোতস্বিনীর গান শুনে।
কবিতা লিখেছি তারাদের মিটিমিটির,
বৃষ্টিতে ভেজা ব্যাঙেদের কলতানের।
লিখেছি, রাত চরা জোনাকির মিটমিট,
আর ঝিল্লির ঝি ঝি সুর!
তবুও হিসেব কষে লিখতে পারিনি,
আমি কতটা ভালোবাসি তোমায়!
হয়তো হিসেবেই হবে গরমিল।
তুমি বকুলের হলুদ বসন্ত পাখি,
দোয়েলের তীক্ষ্ণ গান;
মিঠেল হেমন্তের শিশির ভেজা রোদ,
তোমার ঘ্রাণের পরশেই,
জুড়ায় আমার প্রাণ।
তবে, আঁকাবাঁকা যে পথ আছে
কোণে কোণে মাধবীলতার সার,
তুমি বেনুবনের বেলফুল,
আমি উন্মুক্ত প্রজাপতি,
সৌরভে সর্বহারা, অজ্ঞাতে অভিসার।