অমৃতায়ণ

আর্যর এই চরম হতাশাজনক মনের অবস্থা হওয়ার পিছনে বিরাট বড় সামাজিক সংকট আমাদের থেকে আড়াল করা হয় । নারীর মধ্যে লুকিয়ে থাকা হিংস্রতা একটা আর্ট। সেই আর্ট শুধু নারীই চেতন কিংবা অবচেতনে লালন করে। ভারতবর্ষের মতো দেশে আপনি জানেন একজন পুরুষের উপর অত্যাচারের পরিসংখ্যানটা ঠিক কত?
জানো অমৃতা – সুলগ্নার মতো মেয়েদের সম্পর্কে জানতে হলে এটা জানা খুব দরকার, চরিত্র আসলে এমন একটা ফ্রেমওয়ার্ক একটা ব্যবহারিক কাঠামো যেটা ঠিকই কোন না কোনও ভাবে সমাজকে প্রভাবিত করে। তাহলে শোনো –
” In the present study, 52.4% of men experienced gender-based violence. Out of 1000, males 51.5% experienced violence at the hands of their wives/intimate partner at least once in their lifetime and 10.5% in the last 12 months. The most common spousal violence was emotional (51.6%) followed by physical violence (6%).” তথ্য গুগল যা দিচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি ভাওলেন্সের শিকার হচ্ছে পুরুষরা।
কিন্তু এই তথ্যগুলো বাজারে খাবে না। কারণ ভারতবর্ষের মতো দেশে নারীবাদ একটি বিপণনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। একটা হিংস্র পুঁজিবাদী মডেলে আধুনিকীকরণ এর নামে একটা বাজার তৈরি কিভাবে করা হয় তার হালহকিত নিয়ে একটু পড়াশোনা করতে হয়।
সামাজিক মধ্যবিত্তের একটা জাজমেন্টাল মন বলে – চরিত্র নিয়ে নাকি কিছু বলাটা একটা দমনের রূপক মাত্র । এই জটিল সমাজ ব্যবস্থায় অন্য কতগুলো স্তর আছে আপনি ধারনাও করতে পারেন না হয়তো । পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষদের কথাগুলো কারোর জানতে না পারার একটি সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ আছে জানেন , পড়ুন –
“In a male-dominated society, men feel that it is shameful to be beaten by a woman and they do not report the violence. The pressure from family also prevents them from taking any legal action, and they are also afraid of getting trapped in false accusation under 498A. When men report domestic abuse and violence, people do not believe them. Also, when these men try to complain about these problems, within marriage and family, no one takes them seriously. Many men are ashamed of talking about and sharing that they are beaten by their wives.” ( Sarkar, S, Dsouza, R, Dasgupta, A. Domestic Violence against Men: A Study Report by Save Family Foundation. New Delhi: Save Family Foundation; 2007.)
প্রধাননত এলিট আর মধ্যবিত্তের এই শাশুড়ি বউমার , কিংবা প্রেমিক প্রেমিকার একটা “কমপ্লেক্স ন্যারেটিভ “তৈরি করার একটা ঝোঁক সবচেয়ে বেশি দেখতে পাওয়া যায় । কারণ পণ্য আর অর্থ যখন মানুষকে তার নৈতিকতা থেকে সরিয়ে দেয় তখন কোনও কিছুকেই এক তরফা ভাবে দোষ দেওয়া যায় না।
অমৃতা বলে – অনেক কিছু পড়লাম জগৎ আর ভার্চুয়াল জগতে এসে। শিখলাম একটাই, যা অতি ভয়ানক ও বটে, ন্যূনতম ভাবনা দিয়ে কিভাবে অগভীরকে একটা গভীর বিষয়ে পাল্টে দেওয়া যায়। হকিইমার কিংবা বদরিলার্দ এর দর্শন নিয়ে টানাটানি করে কিছু বলতে চাই না, কিন্তু ভয় লাগে মনে মনে যখন দেখি মানুষ প্রতিটি বিষয়ে নিজেদের মাথাটা ঘামায়। এতো ঘাম হাওয়া তো ভালো নয় তাই না! এটাই ভাবি। আর সবাইকে যে সব বিষয়ে পারদর্শী হতেই হবে এটা তো মানবতার শর্ত কিংবা সংবিধানের প্রস্তাবনা ,এমনটা নয়। তাহলে লেখা, অভিনয় , আবৃত্তি করে কেন সবাই? ইগো? নিজের অস্তিত্বের প্রতি হীনমন্যতা নাকি :
” এইরূপ কর্মব্যস্ত জীবনের ভিতরে বাইরে ডুবে থেকে
বিকেলের অমসৃণ বাতাসে হঠাৎ আমি দেখি
আমার আত্মার একটা কুচো টুকরো আজও কোনও
কাজ পায়নি।”
সুলগ্নাও তো সব বড় বড় অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করতে চেয়েছিল !
উত্তরটা চার লাইন কবিতায় দিই অমৃতা ? অমৃতা হাসে –
একটা সকালবেলার ছবি
তোমার চায়ের ধোঁয়ায় মুখ
অনেককিছু না বলা কথা
অনেক কথা চোখের ভাষায় হোক