ফিলিং নস্ট্যাল্জিক

আপনি দুধ পিঠের গাছ দেখেছেন??
আমি দেখলাম নিজের স্বার্থে….
যে রাজ্যে গ্রামে পঞ্চায়েতের সদস্য বাছতে তিনটে খুন আর দশটা বাড়ি পোড়াটাই দস্তুর, সেখানে একটা গ্রামের দেড় হাজার জন মানুষ নিজেরা টাকা দিয়ে একটা আস্ত সিনেমা বানালে দেখতে হবে না??
যদি এই প্রচেষ্টাকে কুর্ণিশ না করি, তাহলে আর কোন প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাবো??
আমাদের এই বাংলায় যেখানে যে কোনো কিছুকে নাকচ করে দেওয়াটাই নিয়ম, সেখানে এইরকম পজিটিভ স্টোরি আমরা শেষ কবে শুনেছি ??
গ্রামের লোকরা টাকা তুলে নিজেরা সিনেমা প্রযোজনা করছে, ক্রাউড ফাউন্ডিং এ সিনেমা তৈরি হচ্ছে…এটা তো যে কোনো সমাজচিন্তার জন্য দুদ্ধর্ষ উদাহরণ….
গণতান্ত্রিক সাম্যবাদ বলুন কিংবা আত্মনির্ভর ভারত…আমাদের চেনাশোনা যে কোনো স্লোগানের জন্য ক্রাউডফান্ডিং এ তৈরি হওয়া দুধপিঠের গাছ তো আদর্শ কেসস্টাডি…
তাহলে দুধ পিঠের গাছ নিয়ে এত কম আলোচনা কেন??
সত্যি বলতে কি দুধ পিঠের গাছ এর পরিচালক বা অন্য টিম মেম্বারদের আমিও তেমন চিনি না…চিনতে চাই ও না….
কারণ কোনো ভাল উদ্যোগকে প্রশংসা করতে গেলে, ব্যক্তিগত ভাবে চিনতে হবে বা ঘনিষ্ঠতা থাকতে হবে, এমনতরো তত্বে বিশ্বাসও করিনা…
এই সিনেমার পরিচালক উজ্জ্বল Ujjwal Basu বা এডিটর অনির্বাণ মাইতি Anirban Maity ফেসবুকে আমার বন্ধু তালিকায় আছে…ব্যাস, ওই টুকুই….
কিন্তু ক্রাউড ফান্ডিং এ পশ্চিমবঙ্গে সিনেমা তৈরি হচ্ছে, সেই সিনেমার প্রিমিয়ার হচ্ছে নদিযার কোন প্রত্যন্ত গ্রামের ফুটবল মাঠে…এই সব তথ্যই তো তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো….
আমাদের ছোটবেলায়, ১৯৭৬ সালে শ্যাম বেনেগাল মন্থন বানিয়েছিলেন….সেটা আসলে আমুল এর পয়সায় বানানো আমুল তৈরির গল্প…চিত্রনাট্য লিখেছিলেন ভার্গিস কুরিয়েন আর শ্যাম বেনেগাল নিজে…গিরীশ কানরাড আর স্মিতা পাতিল অভিনীত সেই সিনেমা আজ ভারতীয় সিনেমার ক্লাসিক..যতবার দেখি চোখে জল চলে আসে…
একটা সমবায় আন্দোলন যে একটা সিনেমা প্রযোজনা করতে পারে, সেটা মন্থনের আগে কেউ ভাবেনি…কিন্তু ভার্গিস কুরিয়েন ভেবেছিলেন…কারণ উনি নিজেদের লড়াইটাকে,স্বপ্নটাকে পর্দায় আনতে চেয়েছিলেন…সবার কাছে পৌছে দিতে চেয়েছিলেন….
আমুল সেই জন্যই আমুল হতে পেরেছে…
দুধ পিঠের গাছ ও আসলে একটা স্বপ্নের কথা বলে….
নদিয়ার আড়ংঘাটা গ্রামের মানুষদের নিজেদের কথা বলার স্বপ্ন..
সেই স্বপ্ন, ক্রাউড ফান্ডিং করে সেই স্বপ্নপূরণের চেষ্টার পাশে বাঙালি দাঁড়াবে না?? আমরা সেই উদ্যোগকে সমর্থন করব না??
আজ আড়ংঘাটা যেটা করে দেখাল, ক্রাউড ফান্ডিং এর সেই পথে হেঁটে বাংলার অন্য গ্রামগুলোও যদি নিজেদের স্বপ্নপূরণের রাস্তা তৈরি করে নেয়, তাহলে কি কি হতে পারে, আমরা ভাবতে পারছি তো ??